ইসলামিক ধরাবাহিক গল্প
❣️পবিত্র_ভালোবাসা ❣️
পর্ব-৪
ঈশান: সরি আসলে গতকাল...
ঈশানের বাবা: নো এক্সকিউজ,,,,আমার কথা টা শোনো ভালো করে.....
ঈশান: হুম বলো ডেড...
ঈশানের বাবা:তুমি আজ থেকে আমার অফিসে বসবে আর সমস্ত কাজের ভার নিবে...
ঈশান: কিন্তু ডেড...
ঈশানের বাবা:আমি কোনো কিন্তু শুনতে চাই না আমি যা বলছি তাই করবে ইট ইজ মাই ফাইনাল ডিসিশন ।
ঈশান: হুম ডেড....
অন্যদিকে....
ইসরাত: আসছি আমি...আল্লাহ হাফেজ
ইসরাতের আম্মু: আল্লাহ হাফেজ,সাবধানে যেও মামুনি...
ইসরাত: হুম ,রাস্তায়....
অনেকগুলো ছেলে রাস্তায় দাড়িয়ে আছে আর মেয়েদের টিজ করতেছে..... ইসরাত যখন যাচ্ছে...ও দেখলো আরো অনেক মেয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে বাট কেউ পর্দা করে নাই,,,,,যাও আছে বলতে গেলে খুবই কম....তো ইসরাত অন্য একটা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে তখন শুনতে পেলো কিছু ছেলে একটা মেয়েকে বলছে....
একটি ছেলে: চুমকি চলেছে একা পথে সঙ্গী হতে দোষ কি তাতে....
ইসরাত এইসব শুনে মেয়েটার কাছে গেলো...
ইসরাত: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু....
মেয়েটি: ওয়া আলাইকুমুদ সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু....
ইসরাত: আপু একটা কথা বলছি(ছেলেগুলোর সামনেই)
মেয়েটি: হুম বলো...
ইসরাত: এইখানে এই ছেলেগুলো যে এত কথা বলছে আর তুমি বা আমাদের মতো কিছু মেয়েরা অসন্তুষ্ট হয়ে বাসায় নালিশ করি আর বলি সমাজ এখন ধ্বংসের পথে কিন্তু আমরা কখনো নিজেদের দোষ টা দেখি না। (একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে) তুমি হইতো ভাবছো আমি একজন মেয়ে হয়ে কেনো ছেলেদের পক্ষে কথা বলছি তাই তো....
মেয়েটি: হুম....
ইসরাতের কথা শুনে ছেলে গুলো ও হা হয়ে রইলো.....
ইসরাত: আপু তুমি কি নিজেকে মর্ডান আধুনিক ভাবছো তা ইসলামে বেপর্দা বলে....তুমি জিন্স প্যান্ট আর শর্ট কামিজ পড়েছো নেই কোনো বোরকা তুমি যদি তোমার এই সম্মান এইভাবে নিজে নিজে বিসর্জন দেও তাহলে অন্যরা বলবে না কেনো। তুমি যদি আজ বোরকা পড়ে এই রাস্তা দিয়ে যেতে তাহলে কোনো ছেলেই তোমাকে কিছু বলার সুযোগ পেতো না । কিন্তু ওদের এইসব বলতে তুমি বাধ্য করেছো আপু । আপু আমি যদি কিছু ভূল বলে থাকি আমায় ক্ষমা করো আর দোয়া করে নিজের ইজ্জত এইভাবে কারো সামনে তোলো না বোন.....(ইসরাত চলে যেতে নিলেই আবার ও পিছন থেকে বলে উঠলো) আপনাদের তো বাসা মা বা বোন আছে ওদের যদি কেউ রাস্তায় এইভাবে বিরক্ত করে তখন বলুন তো আপনাদের কেমন লাগবে আপনার পরিবারের কেমন লাগবে। তাই বলছি অন্য কে কিছু বলার আগে নিজেদের পরিবারের কথা একটু চিন্তা করবেন আর আপনারা যে এইসব করছেন আর ফলে কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা নারাজ হচ্ছে ওনি কিন্তু সব দেখেন । ওনাকে ভয় করে এইসব পাপ কাজ থেকে বিরত থাকেন আর সুস্থ্য থাকুন আল্লাহ হাফেজ...
মেয়েটি: দাড়াও আপু
ইসরাত: হুম বলো....
মেয়েটি: তুমি আমার চোখ খুলে দিয়েছো বোন । কি বলে যে তোমায় ধন্যবাদ দিবো....
ইসরাত: ধন্যবাদ আমাকে না মহান আল্লাহ তায়ালা কে দেও কেননা ওনি ই হলো আমাদের সব কিছুর মালিক...
ছেলেগুলো: বোন তুমি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছো। আজ থেকে আমরা আর কোনো মেয়েদের বিরক্ত করবো না আর যারা এমন করে তাদের তোমার মত করেই বুঝাবো যদি ও বা তোমার মতো পারবো না (মাথা নিচু করে)
ইসরাত: আলহামদুলিল্লাহ....আমি আসছি....আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু...
বাকিরা: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু.....আল্লাহ হাফেজ।।।।।
ইসরাত: আল্লাহ হাফেজ.....
কলেজে....
ইসরাত চুপচাপ ক্লাসে বসে আছে আর খুব আস্তে একটা গজল বলছে....
ইসরাত: নামাজ কে বলো না কাজ আছে, কাজ কে বলো আমার নামাজ আছে,,,,,
ঠিক এমন কেউ একজন ইসরাত কে সালাম দিলো...
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু....
ইসরাত সামনে তাকিয়ে দেখে তার মতই একজন কালো বোরকা হাত মুজা পা মুজা আর চোখে চশমা....
ইসরাত: ওয়া আলাইকুমু সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু,,,,,জান্নাত তুমি?
জান্নাত: তুই আমাকে কিভাবে চিনলি (অবাক হয়ে)
ইসরাত: কেনো?না চিনার কি আছে?
জান্নাত: সর ,আগে বসতে দে...
তো ইসরাত জান্নাত কে এক পাশে সিট দিলো...
জান্নাত: জানিস আমার পুরাতন ফ্রেন্ডগুলা কেউ আমায় চিনতে পারে নাই আমার যে কি আনন্দ লাগছে বাট তুই কিভাবে চিনলি বল না বল প্লিজ....
ইসরাত: তোমার ভয়েশ আর চোখ দেখে(মিষ্টি হাসি দিয়ে)
জান্নাত: ও ও ও ওই শুন আজকে কি হয়েছে?
ইসরাত: আমি না শুনলে কি তুমি বলবে না (ইসরাত এই দুইদিনে জান্নাতের সাথে কথা বলে ও বুঝে গেছে জান্নাত কেমন)
জান্নাত: শুন আমি না মনের কথা পেটে রাখতে পারি না
ইসরাত: হুম বুঝতে পারছি....বলো..
জান্নাত: আজ রাস্তা দিয়ে আসছিলাম তো আজ কোনো গাড়ি আনি নাই রিসকা দিয়ে আসবো তাই তো গাড়ির জন্য দাড়িয়ে আছি হটাৎ দুইটা ছেলে বলছে ....."এই খালাম্মা আবার কবে আসলো আগে তো দেখি নাই। নাকি এলাকায় নতুন" জানিস এই কথা গুলো শুনে মাথা পুরাই গরম হয়ে গেল তাই গিয়ে ছেলে দুইটা কে ইচ্ছা মত ঝারছি । তুই বল আমাকে কি খালাম্মার মতো দেখতে...?
ইসরাত জান্নাতের কথা শুনে একটু জোরেই হেসে দিলো....
জান্নাত: তুই হাসছিস আমার কথা শুনে আর এইদিক দিয়ে যে আমার কি কষ্ট নাই হচ্ছে....
ইসরাত: জানো,
নারীকে হাদীস শরীফে ‘আওরত’ বলা হয়। আওরত শব্দের অর্থ – গুপ্ত বা আবৃত। সুতরাং নারীর নামেই বুঝা যায় – নারীর জন্য পর্দা আবশ্যকীয়। পারিপার্শ্বিকতার বিবেচনায় বিবেকের দাবীও তাই। তেমনি শরীয়তে নারীর জন্য পর্দাকে ফরজ করা হয়েছে। আর পর্দা করার বোরকা হবে ঢোলা যাতে শরীলের অবয়ব ফুটে না উঠে। আর ছেলেরা তোমায় খালাম্মা ডেকেছে তার মানে ওরা তোমার দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকায় নি বরং ভালো কোনো বা সম্মানের দৃষ্টিতে তাকিয়েছে।
জান্নাত: হুম তাই তো(মাথায় হাত দিয়ে) ইসরাত তুই কি আমায় শিখাবে কিভাবে কি করবো মানে তোর মতো হবো....
ইসরাত: কেনো নয় হুম অবশ্যই...
জান্নাত: তাহলে আমরা আজ থেকে বন্ধু ।
ইসরাত: অবশ্যই...
জান্নাত: তাহলে আমায় তুই করে বলবি তুই শব্দের অর্থ আপন...
ইসরাত: আচ্ছা বাবা তাই বলবো ।
জান্নাত: আমার ইসু পাখি...
ইসরাত: হুম বুঝছি, এইবার মনোযোগ দিয়ে পড়...
জান্নাত: ওকে ওকে....
এইদিকে.....
ঈশান: কিছুই ভালো লাগছে না। ডেড যে কি করে । (এমন সময় ঈশানের ফোন টা বেজে উঠলো) হুম হেলো....(নাম্বার না দেখেই)
বেবি তুমি কোথায়? জানো সকাল থেকে তোমার জন্য ওয়েট করছি,,,তোমাকে অনেক ফোন দিয়েছি বাট পাইনি...
ঈশান: ওহহ সরি মেরি ডার্লিং ,ফোন সাইলেন্ট ছিলো...
মেরি: তুমি কোথায় জান?..
ঈশান: আজ একটু ডেডের অফিসে এসেছি কেনো কোনো দরকার আছে কি?
মেরি: হুম ভাবছিলাম আজ সারাদিন তোমার সাথে ঘুরবো শপিং করবো বাট তুমি তো (অভিমানী সুরে)
ঈশান: আমি আসছি জান তুমি একটু ওয়েট করো।
মেরি: সত্যিই
ঈশান: হুম সত্যি,আমার জান চাইবে আর আমি পূরণ করবো না তাই কি হয়। আমি এক্ষনি আসছি....
মেরি: ওকে উম্মা...
ঈশান: হুম....
কিছুক্ষণ পরে...
জান্নাত: ইসরাত দেখ.....
ইসরাত: কি
জান্নাত: পাশে থাকা...
ইসরাত পাশে তাকাতেই দেখলো....
চলবে.....
বানান ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
শিক্ষণীয় কিছু কথা: মেয়েরা কিন্তু তাদের নিজের দোষেই রাস্তা ঘাটে হেনস্তা হয়। কোনো মেয়ে যদি রাস্তা ঘাটে তার শরীল তাকে হেফাজত না করে চলে তো ছেলেরা কথা তো বলবেই। আমার মতে একটা ছেলে কে কিন্তু খারাপ কিছু বলা মেয়েরাই বাধ্য করে। আর ছেলেদের বলছি আল্লাহ তায়ালা কিন্তু শুধু মেয়েদের পর্দা করতে বলে নাই সাথে কিন্তু ছেলেদের ও চোখের পর্দা করতে বলেছে। কেননা মেয়ে রা হইতো কারো বোন ,মা, কন্যা বা স্ত্রী তো সম্মান দেওয়া উচিত আমাদের সবার। আমি কিন্তু এই গল্পে শুধু মেয়ে না সাথে ছেলেদের ও সচেতন করছি ☺️।
গল্পের মতামত কমেন্ট করুন
Next part coming soon..
লেখা: ইসরাত জাহান মাওয়া
সম্পাদনা ও উপস্থাপক:আল-মামুন রেজা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।