আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আমি আজকে কিছু সময় এর জন্য এই লাইভে যুক্ত হয়ে ছিলাম। লাইভ এর মধ্য ভাগে আমি যুক্ত হয়, তো আমার ওয়াই ফাই এতে কিছুটা নেট প্রবলেম হচ্ছিল, যার কারণে তাদের অনেক কথা ভালো করে আমি বুঝতে পারছিলাম না। তো এক সময় তাদের কিছু মিথ্যাচার দেখে আমি কথা বলা শুরু করি। আমি প্রথমেই যে বিষয়টা বলেছিলাম সেটা হলো লাইভের শিরোনাম দেওয়া " ধর্মের লুঙ্গি খোলার লাইভ "। আমি তকন বলে যে " আপনারা আজকের টপিক দিয়েল " ধর্মের লুঙ্গি খোলা " কিন্তু এই শিরোনাম ( টপিক) এর সাথে আপনাদের আলোচনার মিল নেই। ধর্মের লুঙ্গি খুলতে হলে ধর্মগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করতে হয় তার ভুল বাহির করতে হয়..! কিন্তু আপনারা তা না করে ধর্মের অনুসারী বিচার করে সমালোচনা করছেন, এটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? "... । আবার বললেন যে স্রষ্টার নাকি কোনো প্রমাণ নেই! । তো স্রষ্টার অস্তিত্ব বুঝানোর জন্য আমি নরমাল একটা উদাহরণ পেশ করি সেটা হলো " যখন টেবিলের উপর আমরা খাবার দেখি তখন আমাদের বিবেক দ্বারা বুঝতে পারি যে এর এই খাবার কেও রান্না করেছে, অর্থাৎ কোনো রাধুনি অবশ্যই আছেন। ঠিক একই রকম ভাবে এই ইউনিভার্স এর ডিজাইন দেখে বুঝা যায় যে এর একজন ক্রিয়েটর আছে! " কিন্তু আপনারা এই নরমাল বিষয়টা বুঝতে পারেন না...".। তো এতটুকু বলার পর আমাকে থামিয়ে দেওয়া হয় আর কথার মাঝখানে তারা কথা বলা শুরু করে। তো সেখানে প্রথমে একজন বলে যে" টেবিলের উপর খাবার আছে এটা আমরা বুঝতে পারি অভিজ্ঞতা দ্বারা। আমাদের মা বোন বা অন্য কেও খাবার রান্মা করে যেটা আমরা ( শৈশব) থেকে দেখি আসছি, আর এখানেও তাই হয়েছে।অর্থাৎ ( বুঝাতে চাই লো যে) টেবিলের উপর খাবারটা আছে আর এটা কেও রান্না করেছে সেটা হতে পারে যে কেও! এটা আমরা বুঝতে পারি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে![১] তারপর আরেকটা উদাহরণ সেখানে দেওয়া হয়, যেখানে একজন বলে " পাকিস্তান এর সাথে যুদ্ধ হয়েছে আর অনেক মেয়েকে রেপ করা হয়, যেগুলো আমরা দেখি নি কিনা আমাদের বাবা, দাদা দেখেছে বা বড়রা দেখেছে আর তারা সেই অভিজ্ঞতা আমাদের বলেছে.. ( এরকম কিছু একটা বলে) অর্থাৎ তারা তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের বলে, যেটা তারা নিজ চোখে দেখেছে, আর এরকম করে অভিজ্ঞতা দিয়ে এসব জানা নেই..... কিন্তু আল্লাহ যে আছে তা কেও দেখে নি ( আগে...)......"[২]
তো আমি এর জবাব হিসাবে সেখানে যা বলতে গিয়ে ছিলাম তখনি তারা টপিক চেন্স করে ফেলে আর তখন একজন আমাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে থাকে। আর দুঃখের বিষয় হলো আমার সে সময় নেট চলে যায় যার কারণে আমার লাইভ থেকে বাহির হতে হয়.......। আর লাইভ থেকে বাহির হয়ে ডাটা অন করে ফেসবুকে ঢুকে ফ্রি ফেসবুক ব্যবহার করে এই লেখাটা লেখছি। তো আমি যে পয়েন্ট টা স্রস্টার পক্ষে নিয়ে এসেছিলাম সেটাতে ডিবাংক করার জন্য দুটো পয়েন্ট নিয়ে আসে। তার প্রথম পয়েন্ট এর জবাব।
[১] হ্যা আমিও একমত এই বিষয়টা তে যে " অভিজ্ঞতাার মাধ্যমে এই বিষয়টা জানা যায়। আর স্রষ্টার প্রতি আমাদের যে বিশ্বাস সেটাও আসে এই অভিজ্ঞতা এর মাধ্যমে...। আপনি যেমন জন্মের থেকে দেখে আসছেন যে আপনার মা বা বোন কেও না কেও খাবারটা সব সময় বানায়,আর এই দর্শন ( দেখা) অভিজ্ঞতা এর আলোকে বললেন যে " টেবিলের উপর খাবারটা কেও বানিয়েছে রেখেছে যেমনটা আমি দেখি আসছি ছেট বেলা থেকে..." ঠিক একই রকম ভাবে আমিও শৈশব থেকে দেখে আসছি যে প্রত্যেক বিষয় এর পিছনে একজন কারিগ আছে। আমি যে পোষাকটা পরে আছি তা মেশিন এর মাদ্যমে কোনো না কোনো মানুষ বানিয়েছে। যে মোবাইল দিয়ে লেখা লেখছি সেটাও মানুষ বানিয়েছে, এগুলো হাওয়া থেকে উরে আসে নি বরং কেও না কেও অবশ্যই তৈরি করেছে, অর্থাৎ কোনো না কোনো কারিগর আছে, আর এই বিষয়টা শৈশব থেকে দেখে আসছি। আমাদের বাপ দাদারাও তাদের জীবনে এমবন কোনো বস্তু হোক সেটা হাতুড়ি বা অন্য কিছু, সেটা এমনি এমনি হাওয়া থেকে তৈরি হতে দেখি নি বরং কোনো মানুষ কে বানাতে দেখেছে। আর আমি সহ দুনিয়ার সকল মানুষ এটা দেখে আসছে যে কোনো কিছুর পিছনে কারিগর আছে যেটা বাস্তব জীবন এর অভিজ্ঞতা থেকে পেয়েছি। আর এই অভিজ্ঞতাও আমাদের বলে যে এই নিখিল বিশ্ব এমনি এমনি তৈরি হয় নি বরং এর পিছনে একজন কারিগর বা স্রষ্টা আছেন! , যেখানে একটা সুই নিজে থেকে তৈরি হয় না বরং কারো তৈরি করতে হয় সেখানে এই জগৎ হাওয়া থেকে এমনি এমনি আসবে এটা ভাবা মূর্খতা বৈ কিছু নয়.........।
[২] ভাই আপনি যেমন পাকিস্তান বাললাদেশ যুদ্ধ সরাসরি দেখেন নি বরং আপনার বাপ দাদা এর মুখে শুনে বিশ্বাস করেছেন যেটা তারা নিজ চোখে দেখেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা আপনার কাছে বলেছে এবং তাদের পরম সত্ত্ব মেনে বিনা প্রশ্নে তা বিশ্বাস করেছেন, ঠিক একই রকম ভাবে আমরাও রাসূল সাঃ এর কথা মোতাবেক স্রষ্টার উপর বিশ্বাস করেছি! । আমরা আল্লাহকে সরাসরি দেখি নি কিন্তু আল্লাহর অনেক পয়গম্বর তাদের রব এর এর সাথে কথা বলেছেন, যেমন মূসা নবী আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন এবং রাসূল সাঃ মিরাজের রতে আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন এবং আল্লাহকে দেখেছেন ( মতবিরোধ আছে) এবং তাদের সেই সব ঘটনা তারা বলেছেন সাহাবাদের আর এসব ঘটনা আমদের কাছে বিশুদ্ধ মুতাওয়াতির ভাবে পৌঁছয়েছে যা কখনো ভুল হওয়ার কোনো চান্স নেই! আর এইসব বর্ণনা ( রেওয়াত) এর উপর ভিত্তি করে রাসূল সাঃ এবং তার জবান এর বাণীকে সত্য বলে এক আল্লাহ এর প্রতি বিশ্বাস করেছি যেমনটা তিনি বলেছেন! .... । অর্থাৎ আপনি পাকিস্তানি যুদ্ধ না দেখে যেমন বাপ দাদার কথা বিশ্বাস করেছেন ঠিক একই রকম ভাবে আমরাও আল্লাহকে না দেখে আমাদের পয়গম্বর এর কথা শুনে আল্লাহ এর উপর বিশ্বাস এনেছি এবং এই জগৎ কে পর্যবেক্ষণ করে আমাদের বাস্তব জ্ঞান এবং বিবেককে কাজে লাগিয়ে চূড়ান্ত ভাবে এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে স্রষ্টা আছেন........। আশা করি বুঝতে পেরেছেন....।
আপনারা দেখেছেন যে সেখানে ঠিক মতো কথা বলতে দেওয়া হয় নি এবং একবার আমাকে সরাসরি ব্যাকসাইড করে দেওয়া হয় আর এটা সেখানকার একজন নিজের মুখেই বলে। এছাড়া এক টপিক থেকে হুট করে আরেক টপিকে যাওয়া এবং আমাকে হেয়, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হয়েছে লাইভ এতে। লাইভে আমাকে একজন বলে যে
" আপনি আস্তে কথা বলুন ধীরে দূরে আমরা সারা রাত আছি! আরও ৬ ঘন্টা লাইভ হবে! " ভয় পাবেন না..
আমার জবাব : ভাই! প্রথমত বই পড়তে পড়তে এখন আমার কথা বলার গতি বেড়ে গিয়েছে...। দ্বিতীয় তো ধীরে ধীরে ব্লা ব্লা করে কথা বলে তারা যারা মিথ্যা বলার চেষ্টা করে, কেননা কারো সত্য কথার কাউন্টার দিতে গেলে মিথ্যা বানাতে হয় আর তকন কিছুটা সময় লাগে মিথ্যা বানাতে, আর সেই সময় মানুষ ব্লা ব্লা করে ধীর গতিতে কথা বলতে থাকে যাতে তার মন মিথ্যা গুছাতে পারে....। তৃতীয় তো দ্রুত গতিতে কথা বললে তারা ভয় পায় এরকম থার্ড ক্লাস কথা কয় থেকে পেয়েছেন তা আমার মাথাতে ঢুকল না.......।
যাইহোক আমি এরকম লাইভ কথা কখনো বলি নি এবং ভয়েস এতে এত কথা বলিও নাযার কারণে হয় তো তখন টুতলামো ভাব একটু আসতে পারে ( মনে হয় না আমি তুতলিয়েছি তখন) । নেট প্রবলেম এর কারণে লাইভ ওখানে অফ করতে হয় আর এমনিতেও আমি নিজেই পাগল বলে গালি দিয়ে বাহির হতে চেয়ে ছিলাম কেননা তারা পয়েন্ট চেন্স করে ১২÷৬ কত হয়! এরকম উল্টা পাল্টা প্রশ্ন করা শুরু করে... যা খুব বিরক্তকর ছিল... ।
তো আমি সেখানে যা বলতে চেয়ে ছিলাম তা সংক্ষিপ্ত আকারে এখানে লেখে দিলাম
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।