[ গণতন্ত্রের পক্ষে একজন কিছু যুক্তি দিয়েছিল এখানে সেই যুক্তির রদ করা হয়েছে ]
আপনি যে ফিকহী মূলনীতিগুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলো ইসলামে স্বীকৃত। কিন্তু সমস্যাটা মূলনীতিতে না, সমস্যাটা হচ্ছে সেগুলোর প্রয়োগের জায়গা ভুল।
প্রথমত,
ارتكاب أخف الضررين (কম ক্ষতিকরটি গ্রহণ করা)
এই মূলনীতি তখনই প্রযোজ্য, যখন দুটো অপশনই শরঈভাবে বৈধ কাজের ভেতরে পড়ে, কিন্তু উভয়ের মধ্যে ক্ষতির মাত্রা আলাদা।
উদাহরণ হিসেবে উলামারা বলেন—
ক্ষুধায় মরার ভয় হলে হারাম খাবার খাওয়া জায়েজ হয়,
কিন্তু শর্ত হলো সেটা জীবন রক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক, আর সেখানে কোনো হালাল বিকল্প নেই।
কিন্তু এখানে প্রশ্ন হচ্ছে—
ভোট দেওয়া কি নিজেই শরঈভাবে বৈধ কোনো কাজ, নাকি কুফরি সিস্টেমে অংশগ্রহণ?
যদি গণতন্ত্রকে কুফরি ব্যবস্থা বলা হয়, তাহলে সেটা আর “দুটি মন্দের একটি” থাকে না, বরং সেটা আকীদার বিষয় হয়ে যায়।
আর আকীদার ক্ষেত্রে “কম কুফর, বেশি কুফর” এই হিসাব শরঈভাবে গ্রহণযোগ্য না।
কুফর কখনো কম-বেশি দিয়ে বৈধ হয় না।
দ্বিতীয়ত,
ما لا يدرك كله لا يترك كله
এই মূলনীতিটা আমল ও কল্যাণমূলক কাজে প্রযোজ্য,
আকীদাগত সীমা ভাঙার জন্য নয়।
যেমন—
পুরো নফল নামাজ পড়তে না পারলে কিছু রাকাত পড়া,
পুরো দান করতে না পারলে আংশিক দান করা।
কিন্তু এই মূলনীতি দিয়ে কেউ কখনো বলেনি—
“পুরো তাওহীদ কায়েম করা যাচ্ছে না, তাই কিছু শিরক মেনে নিই।”
ইমাম ইবনে নুজাইম নিজেই আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়িরে স্পষ্ট করেন,
এই মূলনীতিগুলো হারামকে হালাল বানানোর জন্য নয়,
বরং বৈধ কাজের ভেতরে সহজতা আনার জন্য।
তৃতীয়ত,
আপনি বলছেন ভোট দেওয়া মানে গণতন্ত্রকে সিজদা করা নয়।
ঠিক আছে, সিজদা না।
কিন্তু প্রশ্ন সিজদার না, প্রশ্ন হচ্ছে—
আপনি কি এমন একটি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছেন,
যেটার আইন প্রণয়নের অধিকার আল্লাহ ছাড়া মানুষের হাতে?
আল্লাহ বলেন—
“হুকুম দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর।”
(সূরা ইউসুফ ১২:৪০)
যেখানে হুকুমের উৎস আল্লাহ নন, সেখানে অংশগ্রহণকে শুধু “নিয়ত ভালো” বলে বৈধ বলা যায় না।
চতুর্থত,
“ভোট না দিলে চরম ইসলামবিদ্বেষী আসবে”—
এই যুক্তিটা অনুমানের উপর দাঁড়ানো,
আর আকীদা অনুমানের উপর দাঁড়ায় না।
ইসলামে দায়িত্ব হচ্ছে
বাতিলকে বাতিল বলা,
না যে বাতিল দিয়ে আরেক বাতিল ঠেকানো।
নবী ﷺ মক্কায় ছিলেন,
চারদিকে ছিল চরম কুফর ও জুলুম,
কিন্তু কখনো বলেননি—
“কম ক্ষতিকর মুশরিককে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করি।”
সবশেষে সোজা কথা—
ফিকহী মূলনীতি কখনোই
কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট আকীদাগত সীমা ভাঙার লাইসেন্স নয়।
বাস্তবতা মানা এক জিনিস,
কিন্তু বাস্তবতার নামে কুফরকে শরঈ বৈধতা দেওয়া আরেক জিনিস।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।