#হানাফি_মাযহাব_এর_আমলের_বিধান_দলীলসহ_এবং_লা_মাযহাবিদের_খন্ডন_পর্ব
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
[ প্রশ্নগুলো আমাকে একজন ইনবক্সে করেছে , তো তাকে দেওয়া জবাবটা এখানে কপি করে দিলাম। তিনি একজন মাযহাবি, তবে আহলে হাদীসদের সংশয়ের ফাঁদে পরেছে। তাই এই ব্যাপারে পোস্ট করে দিলাম, যাতে আমার হানাফি ভাইয়েরা উপকৃত হোন ; জাযাকাল্লাহ খাইরান ; তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স + লেখার কিছু কিছু অংশ সংগৃহীত ]
প্রথম প্রশ্ন, রাফউল ইয়াদাইন এর ব্যাপারে!
প্রথম কথা
রাফউল ইয়াদাইন এর ব্যাপারে অনেক হাদীস এসেছে যেগুলোর সনদ সহীহ, কিন্তু সেগুলোর হুকুম বাতিল হয়ে গেছে। মানে আমল রহিত হয়ে গেছে। আমার কথার দলীল
" ১ ম দলীল :
হযরত আলী (রা) এর আমল “হযরত আলী (রা) নামাযে প্রথম তাকবীরে হাত উঠাতেন এরপর আর হাত উঠাতেন না।”
(সুনানে বায়হাকী : ২/৮০)
আল্লামা যায়লায়ী রহ. বর্ণনাটিকে ‘সহীহ’ বলেছেন।
সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ‘ছিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন।
সহীহ বুখারীর অপর ভাষ্যকার আল্লামা আইনী রহ. বলেন, “এ সনদটি সহীহ মুসলিমের সনদের সমমানের।’
(নাসবুর রায়াহ : ১/৪০৬, উমদাতুল কারী :৫/২৭৪, দিরায়াহ : ১/১১৩)
২ য় দলীল
হযরত উমর রা.- এর আমল আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘আমি হযরত ওমর রা.-কে দেখেছি, তিনি শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, পরে করতেন না।’
(তাহাবী: ১/১৬৪)
আল্লামা যায়লায়ী রহ. এই হাদীসকে ‘সহীহ’ বলেছেন।
সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ‘ছিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন।
আলজাওহারুন নাকী গ্রন্থে বলা হয়েছে ‘এই হাদীসের সনদ সহীহ মুসলিমের সনদের মতো শক্তিশালী।’
ইমাম তাহাবী রহ. বলেন, ‘হযরত ওমর রা. এর আমল এবং এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর কোনরূপ বিরোধিতা না থাকায় প্রমাণ করে যে, সেই সঠিক পদ্ধতি এবং এ পদ্ধতির বিরোধিতা করা কারও জন্য উচিত নয়।’ (তাহাবী : ১/১৬৪) [ মোনাইক প্লেজারিজম ]
আশা করি এই দুটোই যথেষ্ট যা প্রমাণ করে যে রফউল ইয়াদাইন মানসূখ হয়ে গেছে। আর হ্যা অনেকে দেখবেন যে উমর এর একটাকথা কোট করে সেটা হলো " যারা রফউল ইয়াদাইন করে না তাদের বাড়ি - ঘড় আগুন দিয়ে জালিয়ে দিতে মন চাই "( এরকম একটা কথা হবে) । তো তাদের বলে রাখি যে এটা তার প্রথম দিকের আমল। কিন্তু পরবর্তীতে যখন রহিত হয়ে যায় তখন তিনি শেষ বয়সে আর সেই আমল ( রফউল ইয়াদাইন) করেন নি। যেটা তার শীর্ষের বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত। আহলে হাদীসরা অনেক চালাক তারা আলশিক বলে কিন্তু পরের অংশ বলে না। তাই প্রতারণা হবেন না।
দ্বিতীয় প্রশ্ন : আমিন নামাযে জোড়ে বলব নাকি আস্তে?
আমার জবাব: দুটোই হাদীসে আছে কিন্তু আস্তে বলা অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ীর আমল। আমার কথার দলীল
"ইমাম ইবনে জারীর তাবারী র. (মৃ.৩১১ হি.) তাঁর তাহযীবুল আছার গ্রন্থে বলেছেন,
وروي ذلك عن ابن مسعود وروي عن النخعي والشعبى وابراهيم التيمى كانوا يخفون بآمين والصواب ان الخبر بالجهر بها والمخافتة صحيحان وعمل بكل من فعليه جماعة من العلماء وان كنت مختارا خفض الصوت بها إذكان اكثر الصحابة والتابعين على ذلك . (شرح البخاري لابن بطال المتوفى ৪৪৯ه باب جهر المأموم بالتأمين، والجوهر النقى
অর্থাৎ ইবনে মাসউদ রা., ইবরাহীম নাখায়ী র. শা’বী র. ও ইবরাহীম তায়মী র. সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা আমীন আস্তে বলতেন। সঠিক কথা হলো আমীন আস্তে বলা ও জোরে বলার উভয় হাদীসই সহীহ। এবং দুটি পন্থা অনুযায়ী এক এক জামাত আলেম আমলও করেছেন। যদিও আমি আস্তে আমীন বলাই অবলম্বন করি, কেননা অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ী এ অনুযায়ীই আমল করতেন। (দ্রঃ শারহুল বুখারী লিইবনে বাত্তাল,মৃত্যু ৪৪৯হিজরী; আল জাওহারুন নাকী, ২খ, ৫৮পৃ,) [ মোনাইক প্লেজারিজম ]
ইবনে জারীর র. এর এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হলো যে, অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ীর আমল ছিল আমীন আস্তে বলা। তিনি নিজেও একজন বিখ্যাত মুহাদ্দিস হওয়া সত্ত্বেও আস্তে আমীন বলাকেই অবলম্বন করেছেন। "
আপনার তৃতীয় প্রশ্ন তাশাহুদে আঙ্গুল নাড়ানো নিয়ে
জবাব: عن عبد الله بن الزبير أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يشير بأصبعه إذا دعا ولا يحركها
হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ যখন তাশাহুদ পড়তেন,তখন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন, কিন্তু আঙ্গুল নাড়াতেই থাকতেন না। {সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১১৯৩, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৯৮৯, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-১৫৯৪}
হাদীসটি সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের মন্তব্য
১-
ইমাম আব দাউদ উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করার পর কোন মন্তব্য করেননি। আর মুহাদ্দিসদের কাছে এটি প্রসিদ্ধ যে, ইমাম আবু দাউদ কোন হাদীস বর্ণনা করার পর তার ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করার মানেই হল, উক্ত হাদীসটি তার কাছে সহীহ।
২
ইমাম নববী রহঃ বলেন- হাদীসটির সনদ সহীহ। {আলখুলাসা-১/৪২৮, আলমাজমূ-৩/৪৫৪}
৩
মুহাদ্দিস আব্দুল হক শিবলী রহঃ বলেন- হাদীসটির সনদ সহীহ। {আলআহকামুস সুগরা-২৪৯}
৪
ইবনে দাকীকুল ঈদ রহঃ বলেন- কতিপয় মুহাদ্দিসদের বক্তব্য অনুপাতে হাদীসটি সহীহ। {আলইলমাম ফি বিআহাদীসিল আহকাম-১/১৭৫}
৫
আল্লামা ইবনুল মুলাক্কিন রহঃ বলেন- হাদীসটি সহীহ। {খুলাসাতুল বদরুল মুনীর-১/১৩৯, আলবাদরুল মুনীর-৪/১১, তুহফাতুল মুহতাজ-১/৩২৩}
৬
শায়েখ হায়সামী রহঃ বলেন- সনদের রাবীগণ সিক্বা। {মাযমাউজ জাওয়ায়িদ-২/১৪৩}
৭
ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন- হাদীসটি হাসান। {তাখরীজে মিশকাতুল মাসাবীহ-১/৪১১} [ মোনাইক প্লেজারিজম ]
অর্থাৎ তাশাহুদে আঙ্গুল স্তির রাখতে হবে। অনেকে যে আঙ্গুল নারাই সেটা ভ্রান্ত ।
আশা করি কথা ক্লিয়ার
উপস্থাপক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।