রিভিউ—
শব্দের যত্ন-অযত্নের গল্প
—রফিক আতা—
“শব্দ বিদ্বান মানুষের জন্য গায়ের পোশাকের মতোই। বিশেষ করে কলমের সঙ্গে যাদের সখ্য গড়ে উঠেছে— ইচ্ছায় কি অনিচ্ছায়— শব্দ তাদের অমূল্য সম্পদ। ওই শব্দই তাদের পরিচয়ের বিকশিত বর্ণ।”
‘লেখালেখির শিকড় শিখর’— প্রাজ্ঞ ও প্রবীণ লেখক মাওলানা যয়নুল আবিদীন হাফি. রচিত এক অনন্য গ্রন্থ। সেখানকারই একটি শিরোনাম “শব্দের যত্ন-অযত্নের গল্প”, যার অন্তর্ভুক্ত এই উক্তিটি। পড়ন্ত বিকেলে আমি আজ বইটির পাঠপর্বে নিজেকে নিবিষ্ট করলাম। সত্যিই, হৃদয় যেন এসে থমকে দাঁড়াল কোথাও— শুনতে পেলাম ঝর্ণার ছন্দময় সুর। সেই মুগ্ধ অনুভবেই ডায়েরি ভুক্ত করে রাখলাম কিছু পঙ্ক্তি—
“শব্দ বিদ্বান মানুষের জন্য গায়ের পোশাকের মতোই।”
কি দর্শন-সুষমায় সমৃদ্ধ একটি বাক্য!
কি নান্দনিক বাস্তবতায় প্রতিফলিত এক গভীর বাণী!
আমি বিদ্বান নই। তবু বিদ্বান হওয়ার প্রয়াসে যখন কলম হাতে নিয়েছি, তখন থেকেই শব্দের প্রতি অনুভব করি এক অদ্ভুত আকর্ষণ— যেমনটা মানুষ অনুভব করে প্রিয় পোশাকের প্রতি।
ইচ্ছায়,
অনিচ্ছায়,
বেলায়,
অবেলায়—
কলমের সঙ্গে হৃদয়ের যে অব্যর্থ সখ্যতা, তা প্রতিনিয়ত বেড়ে ওঠে। প্রাজ্ঞ ব্যক্তির উক্তি— “শব্দ তাদের অমূল্য সম্পদ”— আমি অনুভব করেছি অন্তর দিয়ে। সত্যিই, শব্দ এক অমূল্য সম্পদ। অথচ আমার শব্দভাণ্ডার বড়ই সীমিত। শব্দের ভেলায় চড়তে জানি না, শব্দের শুভ্রতায় এখনো সম্পূর্ণ শুভ্র হতে পারিনি।
তবু...
এই টুকরো টুকরো হৃদ্যতা ও সখ্যতার আহূত মায়ায়, হাজার যুগ পরে হলেও হয়তো আমাতে প্রতিফলিত হবে সেই চিরন্তন বাণী—
“ওই শব্দই তাদের পরিচয়ের বিকশিত বর্ণ।”
সাত, দশ, পঁচিশ —
মঙ্গলবার
দিনলিপি।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।