বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে সালাতের উপকারীতা
© প্রিন্স ফ্রেরাসে
সালাত আমাদের শারীরিক এবং মানসিকভাবে উপকার প্রদান করে এটা বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত বিষয়। আমি এই বিষয়ে রিসার্চ পেপারগুলো পড়েছি এবং সেগুলো রেফারেন্স লিংকসহ আমার এই পোস্ট লেখাতে সবার শেষে এড করে দিব। আর হ্যা আমি এখানে ওইসব গবেষণা পত্র থেকে কিছু কিছু বিশেষ অংশ এখানে উল্লেখ করব, আপনারা সেগুলো আমার দেওয়া লিংক চেক করে সম্পদ টুকু পড়ে নিবেন আশা করি....
তো চলুন শুরু করা যাক।
একটি গবেষণা অনুসারে, লক্ষ লক্ষ মানুষ যে সালাত আদায় করে, মুসলিমরা, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে,আত্ম-মূল্যবোধ, পেশীবহুল সুস্থতা, মোটর আচরণ এবং মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন ছালাত পড়া হয় তখন বেশিরভাগ জয়েন্ট এবং পেশী খুব কম প্রচেষ্টা ছাড়াই নড়াচড়া করে, যা অঙ্গবিন্যাস প্রতিচ্ছবি এবং মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করতে পারে। (১)
অনেক মনোবিজ্ঞানী দেখেছেন যে প্রার্থনা ( সালাত) এবং ধর্মের প্রতি বিশ্বাস ব্যক্তিদের উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং অনেক অন্তর্নিহিত অসুস্থতার ভয় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।
অর্থাৎ আপনি যদি নিয়মতি সালাত বা দোয়া এসবে যুক্ত থাকেন তাহলে আপনি ডিপ্রেশন এর মতো মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন, তাই দেখবেন যে যারা সালাত আদায় করে তারা সব সময় মানসিক চাপ মুক্ত থাকে..... ।
আবার অন্য গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে যে স্ট্রেস সম্পর্কিত হরমোন এবং জিনের উপর নামাজের তাৎক্ষণিক প্রভাব উন্নত হয়। সামগ্রিকভাবে, গবেষণার ফলাফল বিবেচনায় নিলে, আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে জিন প্রকাশের স্তরেও স্ট্রেস প্রতিক্রিয়ার সংশোধনের মাধ্যমে নামাজ মন এবং শরীরের শান্তিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। (utm
প্রার্থনার সাথে যুক্ত শারীরিক কার্যকলাপ সুস্থ মানুষের স্থায়ী গতিশীল ভারসাম্য উন্নত করে। বর্তমান গবেষণার ফলাফল এই ধারণাকে সমর্থন করে যে ধর্মীয় ধ্যান এবং প্রার্থনা (যেমন ইসলামী সালাত ) মানুষের কর্মক্ষমতা, বিশেষ করে ভারসাম্যের উপর উপকারী প্রভাব ফেলে (৩)
আমি যদি এখন আমার মতো করে বিভিন্ন রিসার্চ পেপারের সালাত আদায়ের পুরো বিষয়টার সারাংশ টানি তাহলে এটা দাঁড়াবে -
১. নামায একটি লো-ইনটেনসিটি এক্সারসাইজ , যা নিয়মিত করলে শরীর সক্রিয় থাকে।
২. কিয়াম অবস্থায় দাঁড়ানো মেরুদণ্ড সোজা রাখে এবং পিঠ ও ঘাড়ের ভঙ্গি ঠিক করে।
৩. রুকু কোমর ও পিঠের পেশি ) নমনীয় করে, ফলে লোয়ার ব্যাক পেইন কমে।
৪. সিজদায় মাথা নিচু থাকায় মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং সিজদা স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ক্ষমতা উন্নত করে।
৬. নামাযের একাগ্রতা স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমাতে সাহায্য করে।
৭. নামায প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করে, ফলে মানসিক শান্তি আসে।
৮. ধীর কিরাত ও দোয়ায় শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রিত হয়, এতে অক্সিজেন গ্রহণ ক্ষমতা বাড়ে।
৯. রুকু ও সিজদার ভঙ্গি পাচনতন্ত্রে হালকা ম্যাসাজের মতো কাজ করে, হজম শক্তিশালী হয়।
১০. নিয়মিত নামায রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
১১. নামায হাঁটু, গোড়ালি ও হিপ জয়েন্টের জয়েন্ট মোবিলিটি বজায় রাখে।
১২. দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামায শরীরের সার্কেডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
[ এই সম্পর্কে আরও বিভিন্ন রেফারেন্স পেয়ে যাবেন (৪) নং লিংক এতে থাকা আর্টিকেল এতে ]
এই বিষয়ে আরও অনেক কিছু বলা যাবে। লেখা বড় করব না, তাই আমি বাকি বিষয়গুলো জানার জন্য গবেষণা পত্রের লিংকগুলো দিয়ে দিচ্ছি, যেগুলো আপনারা পড়ে নিতে পারেন.... ।
(১)
https://www.academia.edu/143305244/Salah_as_Medicine_A_Systematic_Review_of_Physical_and_Mental_Health_Benefits_of_Islamic_Prayer
(২)
https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC9126458/?
(৩)
https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC3885840/
(৪)
https://jfln.org/the-hidden-health-benefits-of-salah-how-islamic-prayer-enhances-physical-and-mental-well-being/
অন্যান্য -
(৫)
https://journals2.ums.ac.id/fisiomu/article/download/9870/3910/45653?
(৬)
https://www.researchgate.net/publication/394355976_Salah_as_Medicine_A_Systematic_Review_of_Physical_and_Mental_Health_Benefits_of_Islamic_Prayer ( একাডেমিয়ারটা এখানে আছে, না দেখলেও চলবে )
(৭)
https://www.rehabilityjournal.com/journals/jnpr/jnpr-aid1020.php?
(৮)
https://open.bu.edu/bitstreams/ebf41519-f2b8-4ee6-ae1c-1bc9d4807f51/download?
(৯)
https://international.aripafi.or.id/index.php/IJIER/article/view/426?
(১০)
https://www.worldwidejournals.com/global-journal-for-research-analysis-GJRA/recent_issues_pdf/2013/November/namaz-is-a-very-good-exercise-for-whole-some-development_November_2013_1599026496_82.pdf?
উপস্থাপক : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।