#আহলে_কোরআনদের_খন্ডন
সিরিজ পর্ব-১
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
আহলে কোরআন বা মুনকারে হাদীসরা বলে যে " বুখারী শরীফ রাসূল সাঃ এর মৃত্যুর শতাব্দী বছর পর সংকলিত হয় তাই এগুলোর ম মানা যাবে না কারণ এত বছরে তথ্য অনেক বিকৃতি হয়েছে আর ওসব বিকৃত তথ্য মানতে হবে এরকম কোনো মানে নেই"।
খন্ডন: আসলে মূর্খ আহলে কেরআনরা মনে করে যে দু- শতাব্দী পর বুখারী শরীফ সংকলন হয়েছে তাই এখানে ভুল থাকা স্বাভাবিক। প্রথম কথা বর্তমান মানুষের মতো তাদের স্মৃতিশক্তি ছিল না। দ্বিতীয় তো যার তার কথা ইমাম বুখারী সংকলন করেনি। একটা হাদীস সহীহ হতে গেলে পাঁচটা সত্য পূরণ করতে হয়, এর মধ্যে দুটো হলো " প্রখর স্মৃতিশক্তি ও ধর্মভীরুতা ( ন্যায়পরণতা)। এরা দ্বিতীয় স্টেপ আর প্রথম স্টিপ হলো একটা মুত্তাসিল সনদ থাকা৷ রাসূল সাঃ থেকে ইমাম বুখারী পযন্ত সনদের সকল রাবী থাকতে হবে এবং প্রত্যেক রাবীকে সিকাহ ও সাদুক হতে হবে। এছাড়াও তিনটি শর্ত আছে । তো যাইহোক মূল কথা হলো ইমামরা যেগুলো বিশ্লেষণ করেছে এবং সহীহ বলেছে সেগুলো অনেক চুলছেরা বিশ্লেষণ করেছে, চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে সহীহ বলেছে। এই বিষয়ে ধারণা পাবেন খন্দকার জাহাঙ্গীর স্যার এর " হাদীসের নামে জালিয়াতে" বইতে । ১০০+ পৃষ্ঠাগুলোর কথা এই১০ লাইনে বলা সম্ভব না। আর রাসূল সাঃ এর প্রত্যেক কথা ওহী (নাজম-৪)। রাসূল সাঃ যা বলতেন সেগুলোও ওহী বলেছে আল্লাহ আর এর দ্বারা হাদীস মানার দলীলি আসে। আর ইমাম বুখারী সেসব কথাগুলোও সংকলিত করছে যেগুলো সনদসহ এসেছে এবং সহীহ হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করেছে । হাদীস আসলে কি এ ব্যাপারে বুখারী শরীফ প্রথম খন্ড তে বলা হয়েছে " রাসূল সাঃ এর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতিই হাদীস " আর রাসূল সাঃ এর কথাও ওহী এবং সেটাও হাদীস দলীল তার নাজম -৪ নং আয়াত। এখন কোনো আহলে কোরআন যদি বলে এখানে ওহী বলতে কোরআন উদ্দেশ্য তাহলে আমি বলব যে তা ভুল, কারন কেরআন ওহী তা আলাদা করে সূরা যুমার-২ এতেই বলা হয়েছে। ওখানে 'কিতাব ( কোরআন) আল্লাহর পক্ষ থেকে ' তা বলেই দিয়েছে কোরআনকে উদ্দেশ্য করে খাসভাবে। কিন্তু এখানে ( নাজম-৪) এতে কিতাব শব্দ টা নেই বরং ওহী বলা হয়েছে, যা দ্বারা ব্যাপকতা উদ্দেশ্য । আর দ্বিতীয় তো রাসূল সাঃ তো সারা জীবন শুধু কোরআনই আবৃত করেন নি সব সময় তাই না! তিনি যখন রাষ্টের কর্মের জন্য বিভিন্ন আলোচনা করছে তখনও কি শুধু কোরআন আবৃত করছে? না করে নাই! তাই লজিক অনুসারেও দেখা যাচ্ছে যে এখানে ওহী দ্বারা রাসূল সাঃ এর সকল কথাই উদ্দেশ্য শুধু কোরআন না। তাই স্কলাররা ওহীকে দু- ভাগে ভাগ করেছে ১. ওহী মাতলু ২. ওহী গাইরে মাতলু। কোরআন এর আয়াত বা বাক্যের বাহিরে তিনি যেসব কথা বলেছেন সেগুলো গাইরে মাতলু ওহী। আর বড় কথা হলো ইমাম বুখারীর আগে থেকেই কিতাব আকারেই হাদীস লেখা থাকত তবে তার মতো করে কেও কিতাব আকারে সুন্দর করে বিশ্লেষণ করে সংকলিত করে নি। তারা যে বলে হাদীস রাসূল সাঃ এর জীবিত অবস্থায় সংকলন হয় নি তাই মানবো না। তো আমার কথা হলো হলো " যে কোরআন আমরা পড়ি সেটাও তো রাসূল সাঃ এর যুগে একক কিতাব আকারে সংকলন হয় নি বরং তা উসমান করেছিল তাহলে তার কোরআন কেন মানবো?। তারা যা বলে তা কোরআনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় তাই দাবী করার আগে কয়েক বার ভাবা উচিত যে কি বলছে। কোরআন রাসূল সাঃ এর সময় পূর্ণভাবে ছিল কিন্তু তা একক কিতাব আকারে ছিল না বরং তার মৃত্যুর পর তা একক কিতাব আকারে সংকলিত হয়, ঠিক ওই রকম ভাবে হাদীস ছিল কিন্তু একক ভাবে কিতাব আকারে সংকলিত ছিল না পরে তা ইমাম বুখারী প্রথম সংকলিত করে । আশা করি বুঝেছেন ব্যাপারটা
সিরিজ চলবে ইনশাআল্লাহ......
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।