আমাদের সমাজে একটা অদ্ভুত ধারণা আছে -
পরিক্ষার গ্রেডই নাকি একজন মানুষের মূল্য ঠিক করে দেয়৷ যেন জন্মের পর থেকেই সন্তান মানুষ নয়,একটা নম্বর তোলার কারখানা!
A+পেলেই বাহবা,না পেলেই দোষ,নানান সন্দেহ৷ " এর দ্বারা কিছু কি হবে?"
এই প্রশ্নটাই আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় অসুখ৷
একটু ভেবে দেখা দরকার - শেষ কবে কোনো অভিভাবক সন্তানের কাছে জিজ্ঞেস করেছে," তুই সত্যিই কোন স্বপ্নটা বুকে নিয়ে বড় হচ্ছিস,আসলে তুই কি হতে চাস?"
সন্তানের ইচ্ছা- অনিচ্ছা, পছন্দ - অপছন্দ, ইচ্ছে -আকাঙ্ক্ষা _ সবকিছু চাপা পড়ে যায় সমাজের তৈরি একটা নির্দিষ্ট ভবিষ্যত কল্পনার নিচে৷
যেখানে সবাইকে ডাক্তার হতে হবে,ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে; কিন্তু কেও ভাবেই না_ "সবাই একই পথে হাঁটলে বাকি পথ গুলো কে গড়ে তুলবে? "
মানুষের প্রতিভা আলাদা,মন আলাদা,পথ আলাদা_
কেও খেলাধুলার স্বপ্ন দেখে,কেও আঁকতে ভালোবাসে,কেউ গান শেখার ইচ্ছা মনে পোষে,কেউ লেখালেখিতে মন বসায়৷
এগুলো কখনোই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়,কিন্তু সমাজ সেগুলোকে তুচ্ছ করে দেখে৷
একারণে অনেক ছেলে মেয়ে নিজের যোগ্যতা,নিজের আগ্রহ, এমনকি নিজের উপর বিশ্বাসটাই হারিয়ে ফেলে৷
রেজাল্ট খারাপ হলে পরিবারের তিরস্কার, আত্মীয় স্বজন,পাড়া-পড়শীর তাচ্ছিল্য - এগুলো একসাথে মিলে অনেককে ভিষণ মানসিক চাপে ফেলে দেয়৷ এমন চাপ কারো মনকে ভেঙ্গে দিতে পারে,অনেকেই আত্মহত্যার দিকেও ঝুকে যায়,সবার জন্য বাঁচতে ইচ্ছা থাকলেও এক সময় তা হারিয়ে যায়_ এটাই কঠিন সত্য৷
রেজাল্ট কি চরিত্র গড়ে দেয়?
রেজাল্ট কি সৃজনশীলতা শেখায়?
রেজাল্ট কি স্বপ্ন দেখার শক্তি দেয়?
উত্তর খুব সহজ : না !
যে মানুষ ধৈর্য ধরে, চেষ্টা চালিয়ে যায়৷ নিজের প্রতিভাকে সময় দেয়–সফলতা শেষ পর্যন্ত তাকেই খুঁজে নেয়৷
বিশ্বের বড় বড় সফল মানুষদের অনেকেই ক্লাসে সেরা ছিলো না–কিন্তু তারা কখনোই নিজের স্বপ্নকে ছাড়েনি৷
যদি কোনো সন্তান ফুটবল কিনতে চায় বা মাঠে গিয়ে খেলতে চায়, তাহলে অনেকেই বলে এতে সময় নষ্ট হবে,এতে ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে, পড়াশোনার ক্ষতি হবে৷ কিন্তু আসলে ভবিষ্যৎ নষ্ট হয় তখনই, যখন শিশুকে নিজের স্বপ্ন দেখে বেঁচে থাকতে দেওয়া হয় না৷
শেষ কথা – একটা রেজাল্ট কখনো পুরো জীবনের মানদণ্ড হতে পারে না৷ মানুষের জীবন অনেক বড়,তার স্বপ্ন আরো বড়৷
আমরা যদি অমুক-তমুক কি বলবে,আর সমাজের কথা ভেবে স্বপ্নটাকেই আটকে দেই–তাহলে ক্ষতি শুধু পরিক্ষার নয়,ক্ষতি হয় একটা মানুষের ভবিষ্যৎ এর৷
একটা রেজাল্ট কাগজের মধ্যে আটকা পড়ে থাকে,কিন্তু একটা জীবন–চাইলেই আকাশ ছুঁতে পারে৷
সমস্যা স্বপ্নে নয়,সমস্যা সেই দৃষ্টিতে যেটা সবকিছু মেপে দেখে A+দিয়ে৷
যেদিন সমাজ এটা বুঝবে সেদিন ই বাঁচবে আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ, নইলে প্রতিদিন একটু একটু করে স্বপ্নগুলোই মারা যাবে!
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।