গুপ্ত সংগঠন সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানেন। বেশির ভাগ লোকেরা গুপ্ত সংগঠন বলতে শুধু ইলুমিনাতি আর ফ্রিমেসনকে চিনে থাকে। কিন্তু গুপ্ত সংগঠন অনেকগুলো আছে তবে এদের শাখা- প্রশাখা একটা কমন জায়গাতে গিয়ে মিলিত হয়। মজার ব্যাপার হলো আমাদের মুসলিমদের মধ্যেও মধ্যযুগ ( দশম শতাব্দী ) এতে একটা গোপন সংগঠন গড়ে উঠে যার নাম " ইখওয়ানুস আস সফা " ( এটাকে আবার ব্রাদারহুড মনে কইরেন না যেটা উনবিংশ শতাব্দীর ধর্মী রাজনৈতিক মতাদর্শ) । আমি এখানে তাদের নামের ছোট অংশ ব্যবহার করেছি, তাদের সম্পূর্ণ নাম হলো -
" ইখওয়ানুস-সাফা ওয়া খোল্লানাল-ওয়াফা ওয়া আহলুল-হামদ্ ওয়া আবনাউল-মাজদ্ "
দাড়ান আমি আগে এটার মানেটা বলি। ইখওয়ান বহুবচন, একবচনে আখ, যার মানে ভাই এবং ইখওয়ান মানে ভাইরা বা ভ্রাতৃসমষ্টি, আর ' সফা ' মানে পবিত্রতা বা বিশুদ্ধ । আর বাকি শব্দ গুলোর মানে হলো -.
খল্লান - ঘনিষ্ঠ বন্ধু
ওয়াফা- বিশ্বস্ততা, আনুগত্য, বিশ্বস্ত মনোভাব
আহলুল-হামদ্ - প্রসংশার ধারক বা পরিবার ( লোকেরা)
আবনাউল-মাজদ্ - মর্যাদার সন্তানরা / গৌরবের সন্তানগণ
সোজাসাপটা বাংলা করলে হয় -
“পবিত্রতার ভাইরা, বিশ্বস্ত বন্ধুদের দল, প্রশংসার যোগ্য লোকেরা, এবং মহিমার সন্তানগণ”
এখন পয়েন্টে আসি। এই রহস্যবাদী দলটা ছিল একাধারে -
দার্শনিক, বিজ্ঞানী, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ, সুফি প্রবণ চিন্তাবিদ।
তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মানব জাতিকে ( মুসলিম) জ্ঞান, নৈতিকতা ও বিশুদ্ধ চিন্তার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করা। আমার ধারণা এই সূফীবাদী দলটা অকাল্ট বা জাদুবিদ্যার চর্চাও করত, হয় তো সবাই না কিন্তু তাদের কাছে এই গোপন জ্ঞানও ছিল। ইতিহাসের দিকে নজর দিলেও আমরা এটা বুঝতে পারি যে দুনিয়ার বড় বড় সভ্যতা এবং তাদের মধ্যে থাকা সংগঠনগুলো অকাল্ট এর সাথে পরিচিত ছিল। আমি এক আর্টিকেলে পড়েছিলাম যে এই সংগঠনের লোকেরা চারটা স্তরে বা কমে পদাতিক মর্যাদা পেতো। প্রথম স্তরে থাকত শিক্ষার্থী শিক্ষার সাথে জড়িত ১২ থেকে ২৫+ বছরের কিশোর যুবেকরা। এই গ্রুপের কিশোর যুবকদের শিক্ষকের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও বাধ্যতার শিক্ষা দেয়া হতো। এই ধাপের গ্রুপটাকে বলা হতো " আবরার ওয়াল রুহামা " । দ্বিতীয় স্তরে থাকতো জ্ঞান সম্পূর্ণ পরিণত লোকেরা যাদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বা ৪০ এর আশপাশে হতো। এই গ্রুপের লোকেদের পার্থিব শিক্ষা ও বস্তুর সাদৃশ্য-আনুমানিক জ্ঞান দেয়া হতো, যার মধ্যে রাজনৈতিক জ্ঞান অন্যতম। এদের ডাকা হতে আখিয়ার ওয়াল ফুদাল নামে । তৃতীয় ধাপের গ্রুপ হলো " ফুদালা ওয়াল কিরাম " ।এদের বয়স ৩৫ থেকে ৫০ বছরের মতো হতো । এরা বস্তুজগতে ঐশী বিধানাবলি অনুধাবনের চর্চা করত। আর বাকি রইলো মারতাবাতুল মালাকিয়া " এদের বয়স ৪০ বা ৫০+ হতো । প্লেটো, এরিস্টটল বা সক্রেটিস এর মতো জ্ঞানী লোকেরা হতো এই স্তরের, বাস্তবত সক্রেটিসের চেয়েও বড় দার্শনিক হতো এরা।
এই স্তর ইতিহাসের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ এবং দার্শনিকদের স্তর। এরা প্রজ্ঞা ও তত্ত্বজ্ঞানের অধিকারী ।
এই চার স্তর পার করার পর সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাদের মধ্য থেকে এই গ্রুপ পুরো সংগঠনটাকে লিড করত। বললে ভুল হবে না যে এরা নিজেদের সবচেয়ে গোপনে রাখত কেননা তাদের পরিচয় প্রকাশ পেলে রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার চান্স ছিল কেননা এদের সন্দেহবাদী বা রাষ্ট্রের জন্য কেও কেও ক্ষতিকরও ভাবত..... ।
আপনারা এই বিষয়ে বিস্তারিত আর্টিকেলগুলো পড়ে দেখতে পারেন, তবে বাংলাতে তেমন কিছু পাবেন না। টেলিগ্রামে এসব বিষয় চর্চাকারী গ্রুপগুলোতে এদের ব্যাপারে আরও ভালো করে জেনে যাবেন....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।