"বেলা ফুরাবার আগে এবং আমি। "
"আমি যখন সবেমাত্র কিশোরে অবতরণ করতে শুরু করি। তখন থেকেই আমার মধ্যে হাজারো প্রশ্ন,সংকোচ, দ্বিধাদ্বন্দ্ব, বাধা,দুঃখ হতাশার বেড়াজাল ঘিরতে শুরু করে । সম্ভবত এই বয়স থেকেই মহান রবের পক্ষ থেকে মানুষের জীবনে নানা পরীক্ষা ছুঁড়ে দেয়া হয়। ইতোমধ্যে আমি সেই কঠিন জীবনের মধ্যে দিয়ে চলতে শুরু করে দিয়েছি।
তবে আল্লাহর রহমতে আমি এখনো তাঁর অনুগ্রহের মধ্যে রয়েছি,আলহামদুলিল্লাহ্।কারণ আমি শুরু থেকেই তাহার পরীক্ষা মোকাবেলা করতে শিখেছি,শয়তানের বিরুদ্ধে লড়তে শিখেছি,নফসের বিরুদ্বে লড়াই করতে শিখেছি ।
আমি যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত তখন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের চেষ্টা করি।এবং নিজেকে নিজ জ্ঞানের পরিধি অনুযায়ী ইসলামিক বিধি নিষেধের মধ্যেই পরিচালনা করতে চেষ্টা চালিয়েছি আর যেদিন থেকে এই নিয়তটা করি সেদিন থেকে সালাতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি। আল্লাহ যেন শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত দ্বীনের পথে চলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার তৌফিক দেন।
কিন্তু,একটা সময় সেই বারসিসার ন্যায় শয়তান আমার বিরুদ্ধেও চক্রান্ত তৈরি করে আমিও যেন ভুল পথে পা বাড়াতে আগ্রহী হই।চারদিকে সবাই যখন হারাম সম্পর্কে লিপ্ত,বন্ধু-বান্ধব সবাই যখন এর মাঝে আনন্দ উপভোগ করতে থাকে।ঠিক তখন আমার অন্তরেও এক কুমন্ত্রণার জোয়ার আসে আমিও যেন সেই পথের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করি।মোবাইল,ফেসবুক ইন্টারনেটের আরেকটা রোমাঞ্চকর জগতে আসক্তিটাও দিন দিন বাড়তে থাকে। যে সয়মগুলো বইপড়তে,ইবাদতে কাটতো তার অধিকাংশ সময় মোবাইলে গ্রাস করতে শুরু করে।কিন্তু,এই আনন্দ ক্ষনিকের ছিল।তবে কিছু দূর এগোনোর পরে আমার মনে কিছু প্রশ্ন বিধ্বস্ত করে,কিছু আশংকা আর হতাশা অনূভুতিগুলো অন্ধকারে রুপ নিতে শুরু করে ।অন্তরের প্রশান্তি নিঃশ্বেষ হতে শুরু করে দেয়। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে?কেন আমি আমার ইবাদতে শান্তি পাচ্ছিনা? কেন অন্তরের মধ্যে অশান্তি অনুভূত হচ্ছে? কেন মনোযোগ দিয়ে আল্লাহকে স্বরন করতে পারছি না...??কেন যেন আমি কষ্ট পাচ্ছি।তবে কি আমি আমার রবের থেকে দূরে সরে যাচ্ছি..? আমি যা করছি ঠিক করছি কি??আমার কোথায় ভুল হচ্ছে..? এমন অনেক প্রশ্নই আমার মনে প্রতিনিয়ত তৈরি হতে থাকে? এর সমাধান আমি কোথায় পাব..??আমি কোথায় যাবো..?কোথায় গেলে শান্তি পাব?কিন্তু,সে পর্যন্ত আমি ততটা অবগত নয় যে আমি আল্লাহর কিছু অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ে গেছি।
কেন জানি ঠিক এমন মূহুর্তে আসরের সালাত শেষ করে একজায়গা বসে ফেসবুক ওপেন করলাম কেও আমার ইনবক্সে একটি বইয়ের এপস লিংক শেয়ার করেছিল।বেলা ফুরাবার আগে নামটি পড়েই মনের মধ্যে একটা আকর্ষণ কাজ করলো কারন,মূহুর্তটাও ছিল ঠিক বেলা ফুরাবার আগেই।এপসটি ডাউনলোড করে পড়তে শুরু করলাম।কি বলবো! যতো পড়ছি আমি যেন আমার ঠিক সেই প্রশ্নগুলোর ই সমাধান খুজে পাচ্ছি। কেও যেন সমাধানগুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে আমার জন্যে উপস্থাপন করছেন।যতো পড়ি ততোই যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলি বেলা ফুরিয়ে পশ্চিম গগনে ডুব দেওয়া সেই শেষ আলো যেন আমার অন্তরকে নতুন করে রাঙিয়ে দিল।নিজেকে আবার নতুন করে সাজাতে প্রস্তুতি নিলাম।চেষ্টা করলাম ভুলগুলো থেকে বেরিয়ে আসার।এটা যেন আমার রবেরই অনুগ্রহ ছিল।বইটির কিছু কথা আমার চোখদুটিকে অশ্রুশিক্ত করেছিল।
এখন নিজের কাছে মনে হয়, আমি যেন ফিরে আসতে পেরেছি বেলা ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আমার প্রিয় রবের প্রশান্তির ছায়াতলে।আর এমনভাবেই যেন ফিরে আসার আহবান করি বর্তমানে কামনার অন্ধকারে ডুবে থাকা হাজারো
কি
শোর-কিশোরী ভাই বোনদের কে।
আল্লাহ আমাদের কে বুদ্ধি কেন দিয়েছেন..?যাতে আমরা তাকে চিনতে পারি।একটি করে হৃদয় দিয়েছেন যাতে এর দ্বারা তাকে ভালোবাসাতে পারি।কিন্তু আজ আমরা আমাদের বুদ্ধি খাটাই অহেতুক সব কাজে এমনকি আল্লাহর অবাধ্যতায়।আর হৃদয়কে বন্ধক রেখে দেই অন্য কোথাও।তাহলে,কিভাবে সেই হৃদয়ে রবের পক্ষ হতে রহমত ও প্রশান্তি বর্ষিত হবে...?
এখন আর কোন হতাশা, দুশ্চিন্তা, আমাকে কাবু করতে পারে না।আমি আমার রবের উপর ভরসা করি,নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করি এবং বিশ্বাস করি তিনিই আমার সকল পেরেশানি থেকে হেফাজত করবেন।
"তোমার কাছে শান্তি প্রভু তোমার কাছেই সুখ,
তোমার থেকে দূরে গেলে, বাড়ে শুধুই দুঃখ"
এই ছিল আমার জীবন থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ক্ষুদ্র কিছু অনূভুতি। কারন হৃদয়ের সব অনূভূতি লিখে শেষ করার মতো নয়।যদিও আমি কোন লেখক,কবি বা সাহিত্যিক ও নই।তবে,লিখতে ভালো লাগে,তার চেয়ে ভালো লাগে শিখতে।
লেখাঃআল-মামুন রেজা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।