#একটি_নিরপেক্ষ_ও_যুক্তিসঙ্গত_আলোচনা
#প্রধান_ধর্মগুলোর_আলোকে_শূকরের_মাংস_আহার_বৈধ_নানাকি_নিষিদ্ধ_হওয়ার_তাত্ত্বিক_আলোচনা
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
এক নজরে পয়েন্ট -
* ইসলামে শূখরের মাংস খাওয়া হারাম হওয়ার দলীল
*ইহুদি খ্রিষ্টান ধর্মে নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল
* বৌদ্ধ ধর্মে নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল
* হিন্দু ধর্মে অসিদ্ধ হওয়ার দলীল
পয়েন্ট -১
আমি কতক্ষণ আগেও বলেছিলাম যে " হেদু হতে গেলে মগজের ঘিলু বাহির করে সেখানে গোবর ভরে রাখতে হয়.." তো এটা হলো সে কথার আরেকটা প্রমাণ যেমনটা আমার স্কিনশর্ট এতে দেখতে পাচ্ছেন। যাইহোক পয়েন্ট এতে আসি।
ইসলামে শূকর খাওয়া হারাম। দলীল-
‘আল্লাহ তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত পশু, রক্ত, শূকরের গোশত আর যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা হয়েছে। তবে কেউ নিরুপায় হয়ে নাফরমানী কিংবা সীমালঙ্ঘন না করে গ্রহণ করলে, আল্লাহ তো বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু’ (আন-নাহল, ১৬/১১৫ ; আল-বাক্বারা, ২/১৭৩;আল-মায়েদাহ, ৫/৩;আল-আনআম, ৬/১৪৫)
কোরআন সরাসরি শূকরের মাংসকে হারাম বলেছে। যেখানে শূকরের মাংস আহারকে হারাম বলা হয়েছে সেখানে কোনো হেদু এসে যদি বলে তা ইসলামে হালাল! তাহলে তা হেদুর ছাগলামি বৈ কিছুই না..... । আর বাকি রইলো সুন্নত এর কথা। সুন্নত হলো সেটা যেটা নবীজি করেছেন। আর কোনো হাদীসে এটা নেই যে নবীজি তার নবুয়তি জীবনে শূকর আহার করেছেন, বরং নবীজি শূকর ক্রয় বিক্রয় হারাম করেছেন ( বুখারী -২২৩৬) আর এতটুকু থেকে বুজতে পারি যে হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী শূকরও হারাম, কেননা হালাল হবে তার ক্রয় বিক্রও বৈধ থাকত...... আর অন্য হাদীস থেকেও জানতে পারি যে প্রাথমিক ভাবে ইসলামের শুরুর দিকে শূকর ভক্ষণ বৈধ ছিল কিনা পরবর্তীতে তা হারাম হয় ( মুসলিম - ৩৩২০) আর সে সময় থেকে বর্তমান পযন্ত মুসলিমদের জন্য তা হারাম । অতএব এই মূর্খ হেদুর যে কমেন্ট তা ভ্রান্ত বলে সাবিত হলো..... ।
এখন আমরা বাকি প্রধান ধর্মগুলোতেও দেখব যে শূকর খাওয়ার বৈধতা বা অবৈধতার ব্যাপারে কি বলা হচ্ছে ।
পয়েন্ট -২
আমরা এখন বাইবেলে চলে যাচ্ছি। বাইবেলে শূকরের মাংস হারাম হওয়ার দলীল-
তোমরা অবশ্যই শুয়োর খাবে না| তাদের পাযের খুরগুলো বিভক্ত, কিন্তু তারা জাবর কাটে না| সুতরাং খাদ্য হিসেবে শুযোরও তোমাদের গ্রহণয়োগ্য নয়| শুযোরের কোনো মাংস খাবে না| এমনকি শুযোরের মৃত শরীর স্পর্শ করবে না|
( পুরাতন নিয়ম, দ্বিতীয় বিবরণ -১৪/৮)
অন্য কিছু জন্তুদের পাযের খুর দু’ভাগ করা, কিন্তু তারা জাবর কাটে না, ঐসব জন্তু খাবে না| শূকর সেই ধরণের, সুতরাং তারা তোমাদের পক্ষে অশুচি|
ঐসব প্রাণীর মাংস খাবে না| এমনকি তাদের মৃত দেহও স্পর্শ করবে না, তা তোমাদের পক্ষে অশুচি|
( পুরাতন নিয়ম, লেবীয় পুস্তক 11/৭-৮)
বাইবেলের পুরাতন নিয়ম খ্রিষ্টান এবং ইহুদি ধর্ম দুটো ধর্মের জন্যই মান্যকর। তো সে হিসাবে এই ভার্সগুলো দ্বারা এটা পরিষ্কার ভাবে বুঝা যাচ্ছে যে ইহুদি খ্রিষ্টান ধর্মেও শূকর খাওয়া হারাম.........।
পয়েন্ট -৩
এখন চলে যাচ্ছি বৌদ্ধ ধর্মে।
বৌদ্ধ ধর্মে শূকরের মাংস আহার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা পেশ করছি ত্রিপিটক থেকে-
" শ্রমণ গৌতম বীজ ও উদ্ভিদের বিনাশ হইতে প্রতিবিরত। তিনি একাহারী, রাত্রি ও বিকাল ভোজনে প্রতিবিরত। তিনি নৃত্য-গীত-বাদ্য-সম্বলিত প্রদর্শনী গমনে বিরত। তিনি মাল্য, গন্ধ ও বিলেপনের ধারণ, মণ্ডন ও বিভূষণ হইতে বিরত। তিনি উচ্চ ও বৃহৎ শয্যার ব্যবহারে বিরত। তিনি স্বর্ণ ও রৌপ্যের গ্রহণ হইতে বিরত। কুক্কুট ও শূকর গ্রহণে বিরত..."
( সূত্রপিটকে দীর্ঘনিকায়, শীলস্কন্ধ-বর্গ ১. ব্রহ্মজাল সূত্র, শ্লোক নং-১০ অনুবাদক : ভিক্ষু শীলভদ্র?/ Android ত্রিপিটক আ্যপ)
উক্ত অনুচ্ছেদ থেকে আমরা শূকর হতে বিরত থাকার কথা পাচ্ছি মানে তা আহার করা হারাম হওয়ার দলীল পাচ্ছি।
তবে আমি ত্রিপিটকে এর বিপরীত মতও পেয়েছি। যেমন -
১০. সদ্য মাংস ও রক্তের ভৈষজ্য
সেই সময় জনৈক ভিক্ষুর অমনুষ্য (ভূতে পাওয়া) রোগ ছিল। আচার্য উপাধ্যায়গণ পরিচর্যা করিয়াও তাহাকে রোগমুক্ত করিতে পারিলেন না। তিনি শূকরহত্যা করিবার স্থানে যাইয়া কাঁচামাংস ভক্ষণ করিলেন এবং টাট্কারক্ত পান করিলেন। ইহাতে তাহার অমনুষ্য ব্যাধির উপশম হইল। ভিক্ষুগণ ভগবানকে এই বিষয় জানাইলেন। ভগবান কহিলেন :
“হে ভিক্ষুগণ, আমি অনুজ্ঞা করিতেছি : অমনুষ্য ব্যাধিতে কাঁচা মাংস এবং টাটকা রক্ত পান করিবে।” ( বিনয়পিটকে মহাবর্গ মহাস্কন্ধ , শ্লোক - ২৬৪)
এই জায়গাতে শূকরের মাংস আহারের বৈধতা পাওয়া যাচ্ছে তবে সেটা শুধু কাওকে ভূতে ধরলে সেই ভূত ছাড়ানোর জন্য ( আমি ত্রিপিটক আ্যপের টিকাতে ' অমনুষ্য ' এর টিকাতে এরকমই পড়েছি যে " অমুনষ্য মানে ভূতে ধরা...)
এরকম আরও জায়গাতে শূকর হত্যা ও আহারের ব্যাপারে আমি দুটোই ( সিদ্ধ অসিদ্ধ মত) পেয়েছি। এখন কে কোনটা মানবে তা তার চয়েস।
[ উল্লেখ্য যে ত্রিপিটক থেকে আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি তা হলো যুক্তিসঙ্গত মত হলে এটাই যে " বৌদ্ধ ধর্মে শূকর খাওয়া আম ভাবে বৈধ নয় তবে কিছু খাস বিষয়ে খাওয়া বৈধ যেমন কাওকে ভূত ধরলে সে ভূত ছুটানোর জন্য শূকর খাওয়া যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি.... ]
পয়েন্ট -৪
একই ভাবে হিন্দু ধর্মেও আমি শূকর আহারের ব্যাপারে দুটো ভাষ্য পেয়েছি অনলাইন সনাতন সাইট এতে। যেমন -
গণ্ডার ও বন্য শূকরের মাংশ খাওয়া সিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – বশিষ্ট ধর্মসূত্র ১৪.৪৭, বৌধায়ন ধর্মসূত্র ১.৫.১২.৫
গ্রাম্য শূকরের মাংস নিষিদ্ধ।
তথ্যসূত্র – মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৭.৬.৪, আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ১.৫.১৭.২৯ ( সংগ্রহ রেফারেন্স )
এখানে দু- রকম ভাবে শূকর মাংস আহার করার ব্যাপারে সিদ্ধ অসিদ্ধ মত আমরা পাচ্ছি। সমন্বয় করার জন্য আমি এতটুকু ধারণা করেছি যে যেসব শূকর আহার করা যাবে সেগুলো পাক হতে হবে। আর যা অপবিত্র এবং নোংরা জায়গাতে থাকে তা হিন্দু ধর্মে খাওয়া বৈধ নয়......। অর্থাৎ হিন্দু ধর্মে শূকর খাওয়া সিদ্ধ যদি তা গৃহপালিত হয় তবে নোংরা স্থানে বাস করা শূকর খাওয়া বৈধ নয়.......
[ শূকর একটা নোংরা প্রাণী, তাই উচিত এটা না খাওয়া হিন্দুদের.... ]
তো আমরা প্রধান ধর্মগ্রন্থের আলোকে এটা বুঝতে পাচ্ছি যে শূকরের মাংস খাওয়া সকল ধর্মেই হারাম ( হিন্দু বৌদ্ধ ধর্মে দুটোই আছে...) অতএব তা মুসলিমদের সাথে সাথে ইহুদি, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ হিন্দু সকলের জন্যই আহার করা হারাম......
তো আজকে এই পযন্তই। আশা করি সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
সংকলক ও লেখক : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#নাস্তিক_ও_বিধর্মীদের_মিথ্যাচারের_জবাব
সিরিজ পর্ব-৩৩৪
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।