#একটি_নিরপেক্ষ_ও_যুক্তিসঙ্গত_আলোচনা
#শাস্ত্র_এর_আলোকে_পুরাণের_ভিত্তি_এবং_পুরাণ_মান্য_করার_প্রমাণ
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
বর্তমানে যখন আমরা হিন্দু ধর্মের বইগুলো থেকে ব্যাপকহারে তাদের ধর্মের অশ্শীলতা, ভন্ডামি সহ নানা বিষয় প্রকাশ করা শুরু করেছি তখন এক শ্রেণির হিন্দুরা নিজের সুবিধা মতো অনেক শাস্ত্রীও বইকে মন ইচ্ছে মতো বাতিল করে দিচ্ছে। পুরাণ শাস্ত্র হলো হিন্দুদের সবচেয়ে বড় শাস্ত্র গ্রন্থ, কিন্তু বর্তমানে এক শ্রেণির বাটপার হিন্দু পুরাণকে মান্যতা দিতে চাই না, কেননা পুরাণকে শাস্ত্র গ্রন্থ মানলে হিন্দুদের ধুতি খুলে যাবে...। তাই আমি এই লেখনীর মাধ্যমে এটা সাবিত করব যে পুরাণও হিন্দুদের জন্য শাস্ত্র গ্রন্থ....
তো চলুন শুরু করা যাক।
প্রথমে আমি চলে যাচ্ছি বেদের উপনিষদ ভাগে। হিন্দুরা বলে যে শুধুমাত্র বেদ নাকি ইশ্বরের বানী, কিন্তু আমি বলি যে পুরাণও ইশ্বরের বাণী এবং বেদের মতো পুরাণও ইশ্বর সমতুল্য ।
আমরা যদি বৃহদারণ্যক উপনিষদ - ২/৪/১০ দেখি তাহলে সেখানে পাব যে -
যেমন আর্দ্র কাস্ঠের দ্বারা প্রজ্বলিত অগ্নি হইতে নানাবিধ ধূম বিনির্গিত হয়, তেমনি ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ ( উল্লেখ্য যে মূল সংস্কৃত মন্ত্রে অথর্বাঙ্গিরঃ এর কথা বলা আছে, আর এই শব্দের অনুবাদে অথর্ববেদ করে...) ইতিহাস, [পুরাণ ] বিদ্যা, শ্লোকসকল, সূত্রসমুদয়, অনুব্যাখ্যাসকল ও ব্যাখ্যাসমূহ - এই সমস্তই এই পরমাত্মার ( ইশ্বর) নিঃশ্বাস ( সদৃশ) এই সকল ইহারই নিঃশ্বাস ( সদৃশ ) ( বাণী)
( রেফারেন্স - উপনিষদ সমগ্র, তৃতীয় ভাগ, স্বামী গম্ভীরানন্দ সম্পাদিত, পৃষ্ঠা নং -১৬৪-১৬৫ / বৃহদারণ্যকোপনিষৎ-২/৪/১০)
পুরাণ যে ইশ্বরের পক্ষ থেকে এটা অথবর্ববেদ - ১১/৪/৩/৪ মন্ত্র পড়লে আমরা বুঝতে পারব, কেননা সেখানেও বলা হয়েছে যে -
" ঋক, সাম, ছন্দ ও যজুর মন্ত্রগুলি পুরাণ আখ্যানের সাথে ব্রহ্ম থেকে জাত হয়েছে " ( অথর্ববেদ সংহিতা, পৃষ্ঠা নং - ৩০৬ / ১১/৪/৩/৪ অনুবাদক : শ্রী বিজন বিহারি গোস্বামি, চতুর্থ প্রকাশ, পূণমুর্দ্রণ -২০১৫)
[ এছাড়াও একই বইয়ের " অথর্ববেদ - কান্ড -১৫/অনুবাক-১/ এর ৬ নং সুক্ত সম্পূর্ণ পড়লেও পুরাণের প্রামাণিকতা পেয়ে যাবো, উক্ত সূক্তের ১১/১২ নং মন্ত্রেও পুরাণের কথা বলা আছে....]
উনিষদের এই শ্লোক ও অথর্ববেদ থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারলাম যে চার বেদের মতো পুরাণও ইশ্বরপ্রদত্ত এবং ইশ্বরের অংশ। বেদের যে রকম দাম সেরকম দাম পুরাণ শাস্ত্রেরও। এটা আমরা বুঝতে পারি উপনিষদের আরেকটা শ্লোক থেকে।
ছান্দগ্য উপনিষদে বলা হয়েছে যে -
সংস্কৃত মন্ত্র : নাম বা ঋগ্বেদো যজুর্বেদঃ সামবেদ আথর্বণশ্চুতর্থ ইতিহাস - পুরাণঃ পঞ্চামো বেদানাং বেদঃ....
এই শ্লোকে পুরাণ শাস্ত্রকে পঞ্চম বেদ বলা হয়েছে। ( দেখুন, উদ্বোধন কার্যালয় কলকাতা থেকে প্রকাশিত " উপনিষদ গ্রন্থাবলী", দ্বিতীয় ভাগ, পৃষ্ঠা নং -৩৪৯, ছান্দগ্য উপনিষদ - ৭/১/৪)
[ এছাড়াও "শতপথ ব্রাহ্মণ - ১৩/৪/৩/১৩ এতেও পুরাণকে বেদ বলা হয়েছে... । আর হ্যা পুরাণকে " গোপথ ব্রাহ্মণেও ( ১/১০) এতে পঞ্চম বেদ বলা হয়েছে.... ]
এখান থেকে বুঝতে পারলাম যে পুরাণ হলো পঞ্চম বেদ , তাই বেদ মান্য করতে হলে পুরাণকেও মান্য করতে হবে, কেননা বেদ হলো ( হিন্দু ) ধর্মের মূল ( মনুসংহিতা -২/৬) তাই হিন্দুদের বেদ মানা প্রয়োজন ( সত্যার্থ প্রকাশ-৩/৫৮) আর পুরাণও যেহেতু বেদ ( ছান্দঃ উপঃ -৭/১/৪) তাই পুরাণকেও মানতে হবে..... ।
সংক্ষিপ্ত এই পয়েন্ট এতে আমরা ভালো করেই বুঝতে পারলাম যে পুরাণ নিজেও হিন্দুদের শাস্ত্র ( ব্যাসস্মৃতি -১/৪ এতেও পুরাণকে আলাদা শাস্ত্র এর মর্যাদা দিয়েছে....) । তাই কোনো পাগল ছাগল জাহেল হেদু এসে যদি বলে " আমরা পুরাণ মানি না পুরাণ আমাদের শাস্ত্র না ইত্যাদি ইত্যাদি.." তাহলে ওই হেদুকে লাথি মেরে ডাস্টবিনের মধ্যে ফেলে দিন......।
তো আমি লেখা এখানেই শেষ করছি, কেমন!
[ উল্লেখ্য যে আমি পুরাণের পক্ষে , রামায়ন, মহাভারতসহ আরও নানাগ্রন্থ থেকে প্রমাণ দিতে পারতাম কিনা আমি মনে করি যে মশা মারার জন্য কামানের প্রয়োজন নেই..... ]
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন,
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।