#হাদীস_নিয়ে_বিভ্রান্তির_সংশয়_নিরসন
সিরিজ পর্ব-৩
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
কাব বিন আশরাফ হত্যা কি নৈতিক?
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈমানের দাবী হলো, কাউকে ধোঁকা দিয়ে হত্যা না করা। কাজেই কোনো মু’মিন গুপ্তহত্যা করবে না।[আবু দাউদ/২৭৬৯]
এই হাদীসে তো গুপ্ত হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু বুখারীর হাদীসে আছে সাহাবারা কাব বিন আশরাফরে তো গুপ্তহত্যাই করা হইছিলো,তাও প্রতারণার মাধ্যমে... এখন সাহাবারা কি নবীর কথার বিরুদ্ধে কাজ করেছে? এখানে কি কোনো বৈপরীত্যে সংগঠিত হয়েছে?
জবাব : আমার মতে হাদীসের অর্থ হাদীসের জায়গাতে ঠিক আছে। সমস্যা তখনি হবে যখন এই কথাটা ব্যাপক হারে সকল কাফের মুশরিকদের দিকে আমরা নিয়ে যাবো। কোরআনের আয়াত এবং এরকম বিভিন্ন হাদীসগুলো বিশ্লেষণ করতে বুঝতে পারব যে আবু দাউদের উক্ত হাদীস মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য, অর্থাৎ কোনো মুসলিম ভাইকে তার কোনো অপরাধের জন্য গুপ্ত হত্যা করা যাবে না, বরং কোনো মুসলিমের দ্বারা অপরাধ হলে তাকে শরীয়াহ এর মাধ্যমে শাস্তি দিতে হবে গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে নয়......। এই হাদীসের দ্বিতীয় স্তরে হয় তো পরবে সেসব কাফের যাদের সাথে আমাদের চুক্তি আছে এবং আমাদের জিজিয়া প্রদান করে। এদেরকেও সরাসরি গুপ্ত হত্যা করা যাবে না.....
এখন আসি মূল পয়েন্ট এতে,
কাব বিন আশরাফকে গুপ্ত হত্যা করার বিষয়টা কি আবু দাউদের হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে যায়? এর উত্তর হলো না একদমই না!
প্রথম কথা আবু দাউদের মধ্যে যে হাদীস আছে সেটা যেমন নবীর হাদীস তেমনি করে বুখারী মুসলিমে কাব বিন আশরাফকে হত্যার জন্য রাসূল সাঃ নিজেই বলেছেন । আর রাসূল সাঃ এর আম কথা খাস কথার বিরুদ্ধে যায় না, কাওকে গুপ্ত হত্যা করা যাবে না এটা আম ভাবে প্রযোজ্য কিন্তু কাব বিন আশরাফকে হত্যার বিষয়টা তার সাথে খাস হয়ে গিয়েছে। কাব বিন আশরাফকে হত্যা এই কারণে বৈধ ছিল যে সে ছিল প্রথমত একজন কাফের, দ্বিতীয় তো সে ছিল রাসূল সাঃ কে কষ্ট দেওয়া একজন ব্যক্তি এবং নবীর বিরুদ্ধে কোরাইশদের উস্কানি দেওয়া একজন ব্যক্তি। তার এসব অপরাধের কারণে রাসূল সাঃ তাকে হত্যার নির্দেশ জারি করেন, আর তাকে হত্যা করার আগেও তাকে বলা হয়েছিল সে যেন নবীকে কষ্ট না দেন, কিন্তু সে তা তোয়াক্কা করে না... ( আবু দাউদ -৩০০০)
আবু দাউদ -৩০০০ হাদীস সহ অন্যান্য হাদীস থেকে আমরা যে পয়েন্ট গুলো পেয়ে থাকি সেগুলো হলো -
এক. কাব বিন আশরাফ কাফের ছিল
দুই. সে যুদ্ধের জন্য নবীর বিরুদ্ধে কোরাইশদের উস্কিয়ে দিত
তিন. সে অশান্তি সৃষ্টির কাজ করত
চার. নবীকে কষ্ট দিত
পাঁচ. তাকে এসব করতে মানা করা হয়
ছয়. তাকে মানা করার পরেও তা করতে থাকে
সাত. তারপর নবী তাকে হত্যার আদেশ দেন
আট. রাসূল সাঃ নিজে হত্যার অনুমতি দিয়েছিল সাহাবাদের
নয়. আর প্রতারনামূলক কথা বলারও অনুমতি দিয়েছিল
দশ. আশরাফকে গুপ্ত হত্যা করার পর নবী বা আল্লাহ আয়াতের মাধ্যমে এটার প্রতিবাদ করেন নি যে কেন কাবকে গুপ্ত হত্যা করা হলো ইত্যাদি করে..
তো এসব পয়েন্টকে সামনে রেখে আমরা এই সারাংশ টানতে পারি যে কাব বিন আশরাফ হত্যার যোগ্য ছিল আর তাকে হত্যার বৈধতা রাসূল সাঃ স্বয়ং নিজে দিয়েছেন। আর কাফেরকে উত পেতে বা গুপ্ত হত্যা করা যাবে এর বৈধতা কোরআনের আছে। আল্লাহ বলেন -
তোমরা মুশরিকদেরকে হত্যা করো যেখানেই তাদেরকে পাও, তাদেরকে ধরো, তাদেরকে বেঁধে ফেলো, তাদেরকে হত্যার জন্য ঘাটিতে ওঁত পেতে অপেক্ষা করতে থাকো। (সূরা আত তাওবা, আয়াত ৫)
তাই কাব বিন আশরাফকে হত্যা করে আবু দাউদদের উক্ত হাদীসের কথার কোনো লঙ্গন হয় নি, কেননা -
আবু দাউদ -২৭৬৯ দ্বারা সকল ব্যক্তি উদ্দেশ্য নয় বিশেষ করে কাব বিন আশরাফের মতো কাফেরগুলো তো একদমই নয় বরং এই হাদীস মোমিন মুসলিমদের জন্য ( অন্যান্য হাদীসের আলোকে তা বুঝা যায়)
কাব বিম আশরাফকে হত্যার অনুমতি আল্লাহর রাসূল সাঃ নিজে দেন
এরকম অনুমতি দেওয়ার কারণ হলো কাব বিন আশরাফের হত্যার মাধ্যমে মদিনাতে থাকা ইহুদি গুলেতে ভীতি প্রদর্শন করানো, আর এই ভয়ের জন্যই পরে গিয়ে তারা রাসূল সাঃ এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হোন ( আবু দাউদ )
অতএব আমরা সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে এটা বুঝতে পারলাম যে আবু দাউদের -২৭৬৯ হাদীসের কথা কাব বিন আশরাফের জন্য তো একদমই প্রযোজ্য নয়, তাই এখানে কোনো বৈপরীত্যে নেই...........
আশা করি বুঝতে পেরেছেন!
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।