#একটি_নিরপেক্ষ_ও_যুক্তি_সঙ্গত_আলোচনা
#মুরতাদ_হত্যা_প্রসঙ্গে_নাস্তিকদের_ভ্রান্ত_দাবি_ও_সংশয়_নিরাসন
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
সিরিজ পর্ব-২
পয়েন্ট টু পয়েন্ট আকারে জবাব টু
★*********************
পয়েন্ট টু
_________
প্রশ্ন: তাহলে হাদীসে কেন হত্যা করতে বলা হলো??
জবাব: প্রত্যেক জিনিসের পিছনে একটা হিকমাহ থাকে, সেটা সাধারণ দৃষ্টিতে বুঝা যায় না। মুরতাদ হত্যার ব্যাপারে যে একটা হাদীস দেখলাম সেগুলো বুখারী এর ৬৯২২, তিরমিজি এর ১৪৫৮, আবু দাউদ ৪৩৫১ এবং মুসনাদে আহমাদ এর ১৮৭১ - উক্ত হাদীসগুলোতে বলা হয়েছে " যে ব্যাক্তি তার দ্বীনকে পরিবর্তন করল তাকে হত্যা করবে।
প্রথম তো
এর সাধারণ তো রেওয়াত ইকরিমা হতে বর্ণিত (
দ্বিতীয় তো আবূ- ইসা হাদীসকে হাসান সহীহ বলেছেন ( তিরিমিজি ১৪৫৮ এর হাদীস দেখুন গুগল করে)
তৃতীয়
এখানে একটা বিষয় হলো " মুরতাদকে হত্যা কর এই কথাটা রাসূল সাঃ বলেন নি বরং আলি বলেছেন
চতুর্থ তো
উক্ত হাদীসে আলি একদলকে হত্যা করেছে Not রাসূল সাঃ।
[ আমি এখানে নিজের কিছু মত দিচ্ছি, আমরা পয়েন্ট ওয়ান এতে দেখেছি যে রাসূল সাঃ এর জীবনে বিনা কারণ কোনো মুরতাদকে হত্যা করে নি, বা মুরতাদ হওয়ার কারনে হত্যা করেন নি( পরবর্তী পয়েন্ট দেখবেন) বরং অন্য অপরাধ ছিল। আর উক্ত হাদীসটা আমার মতে মানসূখ হয়ে গেছে সূরা বাকারার ২৫৬ নং আয়াত দ্বারা - ধর্মে জোর জবরদস্তী নাই । (সুরা বাকারা, ২৫৬) । এছাড়াও আল্লাহ বলেনঃ কেউ রাসুলের অনুগত করলে সে তো আল্লাহরই অনুগত্ত করিল এবং মুখ ফিরিয়ে নিলে তোমাকে তাদের উপর তত্থাবধায়ক প্রেরন করি নাই । (সুরা নিসা, ৮০ আয়াত) ।
দুটো আয়াত পেশ করলাম, যেখানে দেখতে পাচ্ছি যে পূণাঙ্গ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে মানুষের চয়েস এর ব্যাপারে, তাই আমার মতে এই দু- আয়াত দ্বারা উক্ত হাদীস নাসেখ- মানসূখ এর পর্যায় পরে ( আল্লাহ আলাম - একান্ত আমার মত, ভুল হলে ক্ষমা চাই) আর এই বিধানটা মনে করি রাসূল সাঃ এর নবুয়তি যুগেই খাস ছিল, ( আইনে খাস হলো ওইসকল বিধান যেগুলো বিশেষ ব্যাক্তি, যেমন পয়গম্বররা প্রয়োগ করার ক্ষমতা থাকে, এরকম কিছু ক্ষমতা আল্লাহ তার রাসূলদের দিয়ে থাকে। আর আইনে আম হলো সাধারণ জনতা যার প্রয়োগ ঘটাতে পারে খলিফার মাধ্যমে। এই বিষয়ে একটা ভিডিও দেখেছিলাম - যেখানে মুরতাদ হত্যা প্রসঙ্গে বলা হয় এটা শুধু রাসূল এপলাই করতে পারবে। ) তাই বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে আমি বলতে চাই যে উক্ত হাদীস এর বিধান বর্তমান সময়ে......( আল্লাহ রব্বুল আলামিন ভালো জানেন, আর হ্যা একান্ত নিজের মত, ভুল হলে অবশ্যই ক্ষমা চাই,) ওহহহ হতে পারে উক্ত হাদীস শাতিমে রাসূল এর ব্যাপারে বলা ( আল্লাহ মালুম / আলাম)
পয়েন্ট নাম্বার থ্রি
________________
ভ্রান্ত দাবি নিরাসন :
প্রশ্ন হতে পারে যে ওটা যদি মানসূখ হয় তবে কেন মুতাদ হত্যা করা হলো, যেমনটা আমরা বিভিন্ন রেওয়াতে পেয়ে থাকি:
জবাব: তাদেরকে মুরতাদ হওয়ার জন্য মারা হয় নি বরং রাষ্ট্র এর বিপক্ষে অবস্থান সহ নানান অবৈধ কার্যকলাপ এর জন্য মারা হয়েছে,একটা হাদীস দেখুন :
" আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন অবস্থা ব্যতীত মুসলমানকে হত্যা করা বৈধ নয়ঃ (১ম) যদি কোন মুসলমান বিবাহ করার পর ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, (২য়) ঐ ব্যক্তি যে কাউকে ইচ্ছা করে হত্যা করে তাকে হত্যা করা যাবে এবং (৩য়) ঐ ব্যক্তি যে দ্বীন ইসলাম পরিত্যাগ করে আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হল, তাকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে বা দেশান্তর করা হবে। (সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪০৪৮, হাদিসের মান: সহিহ হাদিস , Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ)"
হাদীসের শেষ অংশে বলা হয়েছে রাসূল ও আল্লাহর বিধানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারনে মুরতাদদের হত্যা বা দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হবে, এখান থেকে বিধান এটা আসে যে" মুরতাদ কে হত্যা মুরতাদ হওয়ার জন্য না বরং ইসলামের ক্ষতি সাধন করার জন্য করা হবে/ হয় / হয়েছে।
*** এখন কিছু নাস্তিক বলবে যে আমি কি আলেমদের চেয়ে বেশি বুঝি?? যেখানে কিছু আলেমরা বলে বর্তমানেও মুরতাদদের হত্যা করা যাবে আর আমি বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছি
জবাব: না আলেমদের বিপক্ষে না তবে আপনারা( নাস্তিকরা) আলেমদের কথার ভুল মানে বুঝান, আমি সেই' ভুল মানে' এর বিরুদ্ধে। একটা হাদীস দেখুন -
" রাসূল সাঃ বলেন- শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা হবে অল্প বয়স্কা যুবক, নির্বোধ, তারা সৃষ্টির সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম কথা থেকে আবৃত্তি করবে অথচ ইমান তাদের গলা অতিক্রম করবে না । তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায় । তাদেরকে যেখানে পাও তোমরা হত্যা করবে । কেননা তাদেরকে হত্যা করলে হত্যাকারীর জন্য কিয়ামতের দিন প্রতিদান আছে ।- এই হাদিস থেকে বুঝা যায় এম্ন কিছু মানুষ থাকবে যারা নিজেরা মুসলিম না কিন্তু ইসলামের কথাগুলা ভুলভাবে মানুষদের সাথে বলে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবে । অনেকেই আছে যারা ইসলাম গ্রহন না আবার পরে ইচ্ছা করেই মুরতাদ হয়ে যায় যাতে মানুষদের ভ্রান্ত করতে পারে এমন ভয়ংকর মুরতাদদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে রাষ্ট্রীয় ভাবে ( সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬৯১৯)
আলেমরা মূলত এই সকল মুরতাদকে হত্যা করার ফতোয়া দিয়ে থাকে, যারা নাম মাত্র ইসলামে আসে আর ইসলামের ক্ষতি করার চেষ্টা করে থাকে। আর আমিও এই ফতোয়ার সাথে একমত।
পয়েন্ট নাম্বার ফর
__________________
দাবি খন্ডন পর্ব:
এখন কয়েকটা উদাহরণ দেখুন:-
***নবী মুহাম্মদ (সা) উকল নামের এক দল যারা পরে মুরতাদ হয়, এবং এক রাখালকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে রাসুল (সা) তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেন । আবু কিলাবা (রা) বলেন তারা হত্যা করেছে, চুরি করেছে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল (সা) এর সঙ্গে যুদ্ধ করেছে এবং পৃথিবীতে ফাসাদ ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছে( বুখারী -৩০১৮- সহীহ)
এখানে লক্ষ্য করুন একজন মুরতাদকে মুরতাদ হওয়ার কারণে হত্যা করা হয় নি বরং ওই মুরতাদ একজন ব্যাক্তিকে হত্যা করেছে তাই তাকে ( মুরতাদকেও) হত্যা করা হয়েছে। ( তাই এই হাদীস৷ থেকে মুরতাদ হত্যার দলিল নেওয়ার কোনো মানেই হয় না)
[ লেখাটা বড় করার কোনো ইচ্ছা নেই তাই একটা উদাহরণি দিলাম, মূল কথা হলো, এরকম যেসব হাদীস আছে ওইখানে মুরতাদ না বরং অন্য অপরাধের কারণে হত্যা করা হয়েছে, নাস্তিকরা শুধু " মুরতাদ" টুকুকে হাইলাইট করে অন্য " অপরাধ" কে লুকিয়ে চলে। তাই ওইসব হাদীসগুলো একটু যাছাই করলেই বুঝতে পারবেন ]
পয়েন্ট নাম্বার ফাইভ
___________________
এখন একটু যুক্তিতে আসি। ধরুন আপনি আর আমি বাংলাদেশের নাগরিক। এখন আমরা ভারতে নাগরিক হলাম । আমরা ভারতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেলাম। কয়েক বছর কাজ করার পর নিজ দেশ বাংলাদেশে ফিরে আসলাম তারপর নিজের দেশের কাছে ভারতের কিছু গোপন তথ্য ফাঁস করে দিলাম, মানে ভারতের সাথে বেইমানি করলাম। তারা আমাদের উপর বিশ্বাস করে নাগরিক+ সরকারি চাকরি প্রদান করেছে, কিন্তু আমরা সেই সুবিধা নিয়ে........। এখন ভারত যদি চাই তাহলে অবশ্যই আমাদের দন্ড দিতে পারে আর এটা সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত। ঠিক একই রকম ভাবে যারা ইসলাম গ্রহন করে ইসলামের বিভিন্ন গোপন তথ্য( সেটা হতে পারে মুসলিমদের কোনো মিশন এর খবর বা ইত্যাদি ইত্যাদি) যেগুলো জেনে পরবর্তীতে ইসলাম ত্যাগ করে নিজ ( আগের) ধর্মের লোকের কাছে তথ্য ফাঁস করে দিলো তখন ইসলাম চাইলে অবশ্যই ওইসব ( বেইমান) মুরতাদকে হত্যা করতে পারবে আর এটাই যুক্তিসঙ্গত। তাই এখানে নাস্তিকদের মায়া কান্না করার কোনো মানেই হয় না। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
পয়েন্ট নাম্বার সিক্স
__________________
আমি শুধু নাস্তিক ও বিধর্মীদের কাছে জানতে চাই যারা ইসলামের কিছু কিছু বিধান ( যেমন মুরতাদ হত্যা প্রসঙ্গে) নিয়ে যে এত মায়া কান্না কান্দে, তারা কি অন্য/ নিজ ধর্মগুলো চোখ দিয়ে দেখে না। তারা একটা রেওয়াত দেখাক, যেখানে বিনা কারণে মানুষকে হত্যা করেছেন নবী সাঃ। জাস্ট একটা রেওয়াত দেখাক।
জানি তাঁরা পারবে না, তবে হ্যা আমি এখন হিন্দু আর খ্রিষ্টানদের ধর্মের থেকে( DJ) মানবতা দেখাতে পারবো যারা ইসলামকে সারাদিন অমানবিক ধর্ম বলে।
প্রথমে আসি খ্রিষ্টানদের বাইবেলে -
*** মনে করিও না যে, আমি পৃথিবীতে শান্তি দিতে আসিয়াছি; শান্তি দিতে আসি নাই, কিন্তু খড়্গ দিতে আসিয়াছি( মথি ১০/৩৪)
- এখানে যীশু নিজে সুস্পষ্ট ভাবে বলছে" আমি শান্তি না অশান্তি নিয়ে এসেছি" আর এইসব খ্রিষ্টানরাও অশান্তি করে বিশ্বের মধ্যে। দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি গনহত্যা যুদ্ধ এরাই করে। আবার তারা আসে মানবতা এর সার্টিফিকেট দিতে যতসব।
এখন আসি হিন্দু ধর্মে -
* নাস্তিকরা ( যারা বেদ মানে না- মনুসংহিতা ২/১১ - এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার নাস্তিক আছে) তারা আবর্জনা, তাই তাদের গালি দাও, এসব নাস্তিক জন্ম না নিলেই মঙ্গল হতো ( নিরুক্ত ৩.৬.৩২)
এখানে আমাদের ( যেহেতু আমরা বেদ মানি না- তাই আমরাও নাস্তিক) কে আর্বজনার সাথে তুলনা করেছে, আর আমাদের নাকি জন্ম না নিলেই ভালো হতো বলা হচ্ছে। তো এই হলো হিন্দু ধর্মের মানবতার বাণী।
পয়েন্ট নাম্বার সেভেন
____________________
এখন আপনারাই নিরপেক্ষ ভাবে বিচার করুন ইসলাম কি সত্যিই মুরতাদ.......???। একটা কথা নাস্তিক ও বিধর্মীদের সব সময় মনে রাখা উচিত আমরা কখনো কারো উপর আগে আক্রমণ করি না, যখন কেও আমাদের আক্রমণ করে তখনি আমরা আক্রমণ করি, আর এই বিধানি আমাদের দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " তোমাদের আক্রমণ করলে তোমরা আক্রমণ করবে ( মায়েদাহ ৩২) "
তো লেখাটা এখানেই শেষ করছি ।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
️️️ মোঃ মেহেদী হাসান
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ্
Md Mehedi Hasan
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।