বাউলদের মুসলিম মনে করলে মূর্তি পূজারি মুশরিক পৌত্তলিক হিন্দুদেরও মুসলিম মনে করতে হবে আপনার!
এই কথাটা কেন বললাম তা এখনি বুঝে যাবেন।
১.বাউলরা বলে আল্লাহ হলেন নিরাকার, ঠিক একই কথা কিন্তু হিন্দুরাও বলে এবং হিন্দু শাস্ত্রে এর প্রমাণও আছে (শুক্ল যজুর্বেদ -৩২/৩ ও 'ব্রহ্মসূত্রের দ্বিতীয় অধ্যায়ের তৃতীয় পাদ)
বিপরীতে আমরা মুসলিমরা এটা বিশ্বাস করি না যে আল্লাহ নিরাকার, কেননা কোরআন ও হাদীসে আল্লাহর হাত ( সূরা সোয়াদঃ ৭৫) আঙ্গুল ( বুখারী, ৪৮৫৯) পা ( মুসলিম-১৮৩) এবং সুরতের ( কিতাবুস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা -২০৫ / ক্রমিক নং- ৪৮২) কথা এসেছে যা প্রমাণ করে যে আল্লাহ নিরাকার নন।
অর্থাৎ বাউলরা মূলত আল্লাহর এই বিষয়টার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ হিন্দুয়ানী আকিদা ধারণ করে মুসলিমদের আকিদা নয়.......।
২. এছাড়াও বাউলরা বলে যে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান , আর একই কথা হিন্দুরাও বলে এবং শাস্ত্র তার সমর্থন করে ( গীতা-৯/৪)
বিপরীতে আমরা মুসলিমরা বলি যে দয়াময় আল্লাহ রব্বুল আলামিন সকল জায়গায় নন বরং তিনি আরশে আজিমে আছেন সপ্ত আসমানের উপরে ( ত্বহা-৫ / মুসলিম -১০৮৬)
৩. বাউলরা আরও বলে যে " আল্লাহর আরশ নাকি আমাদের হৃদয়ে বা কবলে আর তিনি আমাদের হৃদয়ে বাস করেন, মূলত ইশ্বর হৃদয়ে বাস করেন এটাও হিন্দুয়ানী আকিদা আর শাস্ত্রেও এই কথা বলা আছে যে ইশ্বর হৃদয়ে আছেন বা সকলের হৃদয়ে বাস করেন ( গীতা-২০/২০)
বিপরীতে আমরা বলি যে " হৃদয় আল্লাহর আরশ বা হৃদয়ে আল্লাহর বসবাস এই মর্মে হাদীস জাল ( হাদীসের নামে জালিয়াতি - খন্দকার জাহাঙ্গীর স্যারের উক্ত বই দেখুন) এবং আল্লাহ হৃদয়ে না বরং তিনি সপ্ত আসমাের উপর আরশে আছেন যেমনটা পয়েন্ট টু এতে আমরা কোরআন হাদীস থেকে দলীল দিলাম....
৪. বাউলদের একটা পালা গান আছে যার নাম " জীব ও পরম পালা " এই পালাতে তারা বলে যে " সৃষ্টি ও স্রষ্টা এক বা সকল জগৎ ব্রহ্ম বা এই জগৎ ইশ্বরের মধ্যে সমাহিত বা বিরজমান ইত্যাদি ইত্যাদি..... । এই কথাগুলোও হিন্দুয়ানী আকিদা এবং শাস্ত্রেও এর সমর্থন পাওয়া যায় ছান্দোগ্য উপনিষদ-৩/১৪/১ ও গীতা-৭/৭)
বিপরীতে আমরা মুসলিমরা বলি যে সৃষ্টি ও স্রষ্টা আলাদা এবং এই জগৎ আল্লাহ নন। ( কোরআন, নাহল: ১৭, নাহল: ২০-২১, নামল: ৬০ আয়াত, আরো দেখুন ৬১-৬৪ আয়াত)
৫. বাউলরা আরও বলে যে " যিনিই মুর্শিদ, তিনিই রাসূল, তিনিই আল্লাহ ( নাউজুবিল্লাহ ) । ই কথার মাধ্যমে তারা এটা বুঝান যে মোর্শেদ বা গুরুই হলেন রাসূল এবং আল্লাহ ( নাউযুবিল্লাহ) অর্থাৎ তারা একজনের মধ্যেই তিন জনকে ঢুকিয়ে বসে থাকেন। ঠিক একই কাজটা হিন্দুরা করে থাকেন, তাদের মধ্যেও ত্রিতত্ত্ব এর ধারণা আছে, । পৌরাণিক হিন্দুরা বলে যে ব্রহ্মা সৃষ্টি করেন, বিষ্ণু পালন ও শিব ধ্বংস করেন, আর এই তিনে মিলে এক হয়, যেমন করে এই ভন্ড বাউলরা একে তিন খুজে পায়.... ।
বিপরীতে আমরা মুসলিমরা একজন ওস্তাদ এবং রাসূল ও আল্লাহকে কখনো এক করি না। আমরা বলি রাসূল সাঃ আল্লাহর নবী ও রাসূল ( সূরা আহযাব) এবং তিনি আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি কর্তা এক ও অদ্বিতীয় ( সূরা ইখলাস)।
তো এখন আপনারাই বলুন যে আমি এই লেখার শুরুতে যেটা বলে ছিলাম তা কি ভুল বলে ছিলাম নাকি সঠিক? । আপনি কি এখনও মনে করেন এই বাউলরা কখনো মুসলিম হতে পারে? এদের আকিদা বা কর্ম কখনো মুসলিমদের কর্ম হতে পারে? । এরা ককনো নামায টোজা করে না, উল্টা নামায রোজা সম্পর্কে বিকৃত ব্যাখ্যা করে এবং তারা মারেফতি নামায রোজা, ওযুর কথা বলে তার নাম নিশানাও শরীয়তে বিদ্যমান নেই..... ।
মূলত এই বাউলদের নবী হলো লালন ফকির, আমি আগের পোস্ট এতে বলে ছিলাম যে এদের উৎপত্তি হয়েছে হিন্দুদলর হাত ধরে, । বাউলদের উৎপত্তি সম্পর্কে যেসব থিওরি আছে তার কোনোটা বলে না এরা মুসলিমদের থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে......। তো যাদের উৎপত্তি হয় নি মুসলিম থেকে এবং যাদের আকিদা ও মানহাজের সাথেও মুসলিমদের মিন নেই তারা মুসলিম হয় কি করে?
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।