গল্প: কোরআন কি বাইবেল থেকে কপি করা?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
মির্জাপুর টেকনিক্যাল কলেজের একটা দুপুর। ক্লাস শেষ হয়ে গেছে, টিফিন টাইম এতে সবাই আড্ডায় ব্যস্ত। ক্যাম্পাসের বটতলার বেঞ্চে মেহেদী আর যোসেফ মুখোমুখি বসে গল্প করছে।
যোসেফ হেসে বলল মেহেদীকে উদ্দেশ্য করে বলল -
মেহেদী, তুমি তো ইসলাম নিয়ে অনেক লেখালেখি করো। একটা কথা শুনেছি আর আমিও যাছাই করে দেখেছি অনেকে বলে কোরআন আসলে বাইবেল থেকে কপি করা, কেননা আমরা বাইবেলের অনেক বিষয় কোরআনে দেখতে পারি, বাইবেল ছিল যীশু এর কিতাব, যীশুকে তোমরা ঈসা বলে থাকো, আর ইসা বা যীশু কিন্তু নবীর আগে এসেছে। তাই এই ধারণা যুক্তিসঙৃগত যে নবী মোহাম্মদ ( সাঃ) বাইবেল থেকে কোরআনটা কপি করেছে..... তুমি কি এই বিষয়ে একমত আমার সাথে বা এই ব্যাপারে তোমার মতামত কি?
মেহেদী শান্ত গলায় একটু হেসে বলল,
বন্ধু যোসেফ! এটাই তো নাস্তিক আর বিধর্মীদের পুরনো ডায়লগ যেটা তারা তোমাদের খ্রিষ্টান মিশনারি থেকে শোনে শিখেছে...... । তুমি যেহেতু আমার কাছে এই ব্যাপারে জানতে চেয়েছো তাই আমি এটার যুক্তিসঙ্গত এবং দলীল ভিত্তিক আলোচনা করে এটা প্রমাণ করে দিবো যে কোরআন বাইবেল থেকে কপি করা নয় ইনশাআল্লাহ । আর আমি অতি সংক্ষিপ্ত আকারে দুইটা পয়েন্টে আলোচনা করব তুমি নিজেই বিচার করবে, ঠিক আছে?
যোসেফ রাজি হলো
মেহেদী : তুমি যেহেতু রাজি তাই আমি এখন তোমাকে দুটো পয়েন্ট এতে জবাব দিবো। এর মধ্যে আমার প্রথম পয়েন্ট হলো " কোরআন Vs বাইবেল এর মধ্যে থাকা নিজ নিজ কিতাবে স্ববিরোধ আছে কিনা সেই বিষয়ে.... "। এখন আমার প্রথম পয়েন্ট লক্ষ্য করো -
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান: বৈপরীত্য
এই কথাটা বলে মেহেদী মোবাইল থেকে কোরআনের আয়াত দেখিয়ে বলল-
"কোরআন নিজেই বলে, যদি এটা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো তবে অনেক বৈপরীত্য পেতে। (সূরা নিসা - ৮২)
এখন যদি সত্যিই কোরআন বাইবেল থেকে কপি করা হতো, তাহলে কোরআনে অন্তত একটা বৈপরীত্য থাকত, তাই না? কিন্তু কোরআনে নেই। বাইবেলে আছে—কত শত।” আর এই বিষয়টা প্রমাণ করে কোরআন বাইবেল থেকে কপি নয়.....
যোসেফ অবাক হয়ে বলল -
“বাইবেলে বৈপরীত্য? কই, উদাহরণ দাও তো!”
মেহেদী তখন মোবাইল থেকে বাইবেল আ্যপ খুলে যোসেফকে দেখাতে লাগল -
১. এক জায়গায় লেখা, বিশ্বাস করলেই মুক্তি (এফেসীয় ২:৮-৯)। আবার অন্য জায়গায় লেখা, শুধু বিশ্বাস করলে মুক্তি নাই (যাকোব ২:২৪)।
২. রাজা যিহোয়াখীন এর বয়স—একবার ১৮ বছর (২ রাজাবলি ২৪:৮), আবার একবার ৮ বছর (২ বংশাবলি ৩৬:৯)।
৩. দাসরা চিরদিন বন্দী (লেবীয় ২৫:৪৫-৪৬), আবার মুক্তিও আছে (ইসাইয়া ৫৮:৬)।
৪. মানুষ হত্যা নিষিদ্ধ (যাত্রাপুস্তক ২০:১৩), আবার এক জায়গায় হত্যা বৈধ (যাত্রাপুস্তক ৩২:২৭)।
৫. নূহ (আঃ)-এর নৌকায় এক জোড়া প্রাণী (আদিপুস্তক ৬:১৯), আবার সাত জোড়া (আদিপুস্তক ৭:২)।
মেহেদী একটু থেমে বলল,
“তো যোসেফ ভাই, বাইবেলেই শত শত বৈপরীত্য আছে। কোরআন যদি কপি হতো, অন্তত একটা বৈপরীত্য থাকত। অথচ নেই। কারণ এটা আসলেই আল্লাহর পক্ষ থেকে।”
যোসেফ চুপচাপ শুনতে লাগল।
মেহেদী : যোসেফ তুমি কি আমার এই পয়েন্টা ডিবাংক করতে চাও?
যোসেফ : আসলে বন্ধু বাইবেলে কিছু বৈপরীত্যে আমিও লক্ষ্য করেছে বাইবেল পড়ার সময়। আর এখন আমার কাছে তোমার পয়েন্ট এর কোনো জবাব নেই। তুমি দ্বিতীয় পয়েন্ট বলো
মেহেদী : যেহেতু আমার প্রথম পয়েন্ট এর জবাব তোমার কাছে নেই তাহলে আমি কি দ্বিতীয় পয়েন্ট এতে প্রবেশ করতে পারি?
যোসেফ : হ্যা! আমি তোমার দ্বিতীয় পয়েন্ট শুনতে আগ্রহি....
মেহেদী : এখন আমরা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোরআন ও বাইবেল এর আলোচনা করব......
পয়েন্ট নাম্বার টু: বৈজ্ঞানিক দিক
এই কথাটা বলে মেহেদী এবার বিজ্ঞানের দিকে গেল। মেহেদী প্রথমে একটা আয়াত যোসেফের উদ্দেশ্যে বলল। আয়াতটা হলো, আল্লাহ রব্বুল আলামিন কোরআনে বলেন -
“ এই গ্রন্থে কোনো সন্দেহ নেই (বাকারাহ ২) এবং এটা বিজ্ঞানময় কোরআন ( ইয়াসিন-২) । এই আয়াতকে মেহেদী উসূল হিসাবে নিয়ে যোসেফকে উদ্দেশ্য করে বলল, যদি বাইবেল কোরআন থেকে কপি হয়ে থাকে তাহলে বাইবেল এতে যে বৈজ্ঞানিক ভুল থাকবে তা কোরআনেও থাকবে? রাইট!
যোসেফ: হ্যা!
মেহেদী যোসেফ এর সমর্থন পেয়ে বাইবেলের ভুল গুলো এখন দেখাতে শুরু করল-
এখন দেখো, বাইবেল আর কোরআন বিজ্ঞানের আলোকে কেমন দাঁড়ায়।”
বাইবেলের বৈজ্ঞানিক ভুল এবং কোরআনের সঠিক তথ্য -
১. বাইবেলে লেখা চাঁদের নিজস্ব আলো আছে (আদিপুস্তক ১:১৬-১৭)। অথচ আমরা জানি চাঁদ আলো ধার নেয়া সূর্য থেকে, বাইবেল এই বিষয়ে ভুল করলেও কোরআন কিন্তু আবার সঠিক বলেছে (ফুরকান ৬১)।
২. বাইবেলে আকাশের উপরে ও নিচে নাকি জল আছে, (আদিপুস্তক ১:৭), কিন্তু আকাশের উপর কোনো পানি নেই....
মেহেদী তারপর যোসেফকে উদ্দেশ্য করে বলল বাইবেলে আরও শত শত বৈজ্ঞানিক ভুল আছে কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ আমাদের কোরআন এসব থেকে মুক্ত ।
এখন যোসেফ তুমিই বলো তোমাদের বাইবেলে এত ভুল আছে কিন্তু কোরআে কোনো ভুল নেই, তাহলে কোরআন কি করে বাইবেলের কপি হয়? কোরআন যদি সত্যিই বাইবেল থেকে কপি হতো তাহলে বাইবেলের এসব ভুল কোরআনেও থাকত তাই নয় কি?
যোসেফ বলল : বন্ধু মেহেদী আমি আঙার ভুল বুঝতে পেরেছি এবং তোমার সাথে আলোচনা করে আমি সত্যটা এখন জানতে পারলাম..... কিন্তু .....
মেহেদী : আবার কি কিন্তু ?
যোসেফ : তোমাদের কোরআবের আল্লাহ কি আমাদের বাইবেলের সদাপ্রভু ( গড) !
মেহেদী হেসে বলল-
না! একদমই না।
তোমাদের বাইবেলের ঈশ্বর মানুষের মতো (আদিপুস্তক ১:২৭), আবার বিশ্রাম নেয় (আদিপুস্তক ২:২)। অথচ কোরআন বলে, ‘আল্লাহর মতো কিছুই নেই’ (ইখলাস), আর তন্দ্রা-নিদ্রাও তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না (আয়াতুল কুরসি)।”
এখন তুমি নিজেই বলো যোসেফ তোমার বাইবেলের গড আর আমাদের মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন কি?
যোসেফ কিছু বলতে যাবে আর তখনি টিফিন টাইম শেষ হওয়ার বেল পরে গেলো....
মেহেদী একটা মুচকি হাসি দিয়ে ক্লাসরুমে চলে গেলো আর যোসেফ চুপ করে কিছু সময় সেখানেই........
গল্প সমাপ্ত.....
[ এখন থেকে গল্প আকারেই এসব বিষয়ে লেখালেখি করব ইনশাআল্লাহ । এতে আপনাদের গল্পও পড়া হবে আবার বিভিন্ন বিষয় জানতেও পারবেন.....]
গল্প লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।