মানুষ একা হলে নাকি কাঁদে।
কথাটা পুরোপুরি সত্যি নয়। কেউ কেউ একা হলে চা বানায়, জানালার পাশে বসে থাকে, অথবা বহুদিন আগের কোনো মানুষের নাম মনে করার চেষ্টা করে।
আমার এক পরিচিত লোক আছে। লোকটা খুব হাসে। চায়ের দোকানে বসে অন্যদের গল্প শোনে, কেউ দুঃখের কথা বললে বলে— ‘আরে, এসব নিয়ে ভাবলে চলে?’
একদিন তাকে দেখলাম, বৃষ্টির মধ্যে ছাতা ছাড়া হাঁটছে।
জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভিজছেন কেন?’
সে বলল, ‘ছাতাটা বাসায় রেখে এসেছি।’
অথচ তার হাতে ছাতা ছিল।
আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি।
সব মানুষের জীবনে এমন কিছু কথা থাকে, যেগুলো কাউকে বলা যায় না। বলতে গেলেই মনে হয়, থাক, কী দরকার!
তারপর একদিন সেই কথাগুলো পুরোনো কাপড়ের মতো জমতে থাকে মনের কোনো অন্ধকার আলমারিতে।
বাইরে থেকে মানুষটাকে তখন বেশ ভালোই দেখায়। সে হাসে, খায়, ঘুমায়, প্রয়োজন হলে অন্যের বিপদেও পাশে দাঁড়ায়।
শুধু মাঝরাতে কখনো ঘুম ভেঙে গেলে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে।
কী ভাবে, তা কেউ জানে না।
আমার মনে হয়, মানুষ বোধহয় সবচেয়ে বেশি একা থাকে ঠিক তখনই, যখন তার চারপাশে অনেকগুলো আপন মানুষ থাকে।
কারণ একা থাকার জন্য সব সময় নির্জন ঘরের প্রয়োজন হয় না।
কখনো কখনো একটা ভরা সংসারও যথেষ্ট।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।