এই যে শুনছেন? আমি স্বর্ণা
এই যে শুনছেন? একটু দাঁড়ান,
আমি স্বর্ণা—চেনেন কি আমায়?
চুপচাপ থাকি দেখে ভাববেন না,
কথা জমে আছে বুকেরই ছায়ায়।
আমি খুব সাধারণ, তবু একটু আলাদা,
নিজের মতো করে বাঁচতেই ভালোবাসি।
হাজার মানুষের ভিড়ের মাঝেও কখনো,
নিজের মনটার সাথেই বসে থাকি হাসি।
আমি বেশি কিছু চাই না জীবনের কাছে,
চাই শুধু আপন কেউ বুঝুক আমায়।
মুখে যদি বলি, “আমি ভালো আছি,”
তবু কেউ যেন চোখ দেখে বুঝে যায়।
আমি অভিমান করি, আবার ভুলেও যাই,
কেউ একটু আদর করলে রাগ থাকে না।
কঠিন কথায় চুপ করে যাই ঠিকই,
কিন্তু ভেতরটা ততটা শক্ত থাকে না।
আমাকে সবাই ভালোবাসে—জানি আমি,
তবুও কেন মাঝে মাঝে একা লাগে?
চারপাশে আপন মানুষ থাকলেও কখনো,
মনটা নিজের কাছেই লুকিয়ে থাকে।
আমি হাসি, গল্প করি, কথা বলি খুব,
আবার হঠাৎ নীরব হয়ে যাই।
কেউ জিজ্ঞেস করলে, “কী হয়েছে তোমার?”
মিষ্টি হেসে বলি, “কিছুই তো নাই।”
আমার অনেক কথা বলা হয় না মুখে,
অনেক অনুভূতি হারিয়ে যায় চুপে।
যাদের সবচেয়ে আপন মনে হয় মনে,
তাদের কাছেই আটকে যায় কথা এসে রূপে।
আমি স্বপ্ন দেখি, আবার ভয়ও পাই,
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি নিরালায়।
কখনো মনে হয় পারব সবকিছু,
কখনো নিজেকেই হারিয়ে ফেলি ভাবনায়।
আমি পড়ুয়া নই—তবু মন্দও নই,
শেষ মুহূর্তে পড়ে ফল করি ভালো।
হয়তো বইয়ের পাতায় কম,
জীবনের পাতায় বেশি খুঁজি আলো।
আমার মাথায় হাজার চিন্তা ঘোরে,
একটা শেষ হলে আরেকটা আসে।
বাইরে থেকে শান্ত নদী মনে হলেও,
ভেতরে কত ঢেউ যে নীরবে ভাসে।
ছোটবেলার কত স্মৃতি আজও আছে,
কিছু হাসি আজও মনে বাজে।
বড় ভাইয়ার কোলে ছোট্ট আমি,
সেই দিনগুলো আজও হৃদয়ে সাজে।
কতদিন আগেও ছিলাম ছোট্ট মেয়ে,
ভাইয়ার কোলে উঠতাম নির্ভয়ে।
আজ বড় হয়ে গেছি—সময় কেমন,
চোখের পলকে শৈশব গেল সরে।
কখনো মনে হয় আবার যদি পারতাম,
সেই ছোট্ট স্বর্ণা হয়ে ফিরতে।
কোনো চিন্তা থাকত না মাথার ভেতর,
শুধু হাসতাম, দৌড়াতাম, খেলতাম ছুটতে।
এখন বুঝি বড় হওয়া মানে কী,
নিজের কথাও নিজেকেই বোঝাতে হয়।
চোখে জল এলে লুকিয়ে ফেলতে হয়,
মন খারাপ হলেও হাসতে হয়।
তবু আমি হার মানিনি এখনো,
আমার ভেতর ছোট্ট সাহসী মেয়ে রয়।
হাজার দুশ্চিন্তার মাঝেও কোথাও,
স্বর্ণার নিজের একটা স্বপ্ন রয়।
আমি কারও মতো হতে চাই না,
আমার মতোই আমি থাকতে চাই।
ভুল করব, শিখব, আবার উঠব,
নিজের পথ নিজেই খুঁজে নিতে চাই।
কেউ আমাকে বুঝুক—এই চাওয়া আছে,
কেউ আমার নীরবতাটুকু পড়ুক।
আমি না বললেও আমার চোখের ভাষা,
কেউ একজন অন্তত ঠিক বুঝুক।
আমি স্বর্ণা—খুব বেশি কিছু নই,
তবু আমার ছোট্ট একটা পৃথিবী আছে।
সেখানে ভালোবাসা, অভিমান আর স্বপ্ন,
সবকিছুই নিজের মতো করে বাঁচে।
আজ যদি আমাকে সত্যি চিনতে চান,
আমার হাসিটুকু শুধু দেখবেন না।
আমি যে কতটা নীরবতার মানুষ,
আমার চোখের ভেতর একটু দেখবেন না?
এই যে শুনছেন? এবার চিনলেন তো?
আমি স্বর্ণা—এইটুকুই পরিচয়।
চুপচাপ মেয়েটার বুকের ভেতর,
লুকিয়ে আছে এক বিশাল হৃদয়।
আমি ভাঙি, আবার নিজেই জোড়া লাগি,
আমি কাঁ
দি, আবার হাসতেও জানি।
আমি হারাই, আবার খুঁজে নিই নিজেকে,
আমি স্বর্ণা—আমি আমারই গল্পখানি। এই কবিতার জন্য
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।