আমার আনোয়ার স্যার
আমি তখন ছোট্ট শিশু,
নার্সারির সেই দিন,
হাতে ছিল ছোট্ট ব্যাগ,
চোখে ছিল রঙিন স্বপ্নের ঋণ।
স্কুল মানেই ছিল সকালবেলা,
নতুন জামা, নতুন বই,
কখনো হাসি, কখনো কান্না,
কখনো মায়ের কথা মনে পড়ে ভয়।
সেই ছোট্ট আমায় প্রথম যারা
শিখিয়েছিলেন পথ চলা,
তাদের মাঝে আজও মনে পড়ে
আনোয়ার স্যারের কথা বলা।
স্যারের মুখটা আজও মনে আছে,
যদিও কত বছর পেরিয়ে গেছে,
শৈশবের সেই ছোট্ট স্মৃতিটুকু
সময়ের স্রোতে কোথায় যেন রয়ে গেছে।
অ আ ক খ শেখার দিনে,
ভুল করলে স্যার বুঝিয়ে দিতেন,
ছোট্ট হাতে পেন্সিল ধরে
ঠিক করে লেখা শিখিয়ে দিতেন।
তখন বুঝিনি শিক্ষকের মায়া,
বুঝিনি শাসনের গভীর মানে,
আজ বড় হয়ে বুঝতে পারি—
স্নেহ লুকিয়ে ছিল সেই শাসনে।
কখনো হয়তো পড়া না পারলে
স্যার একটু বকেছিলেন আমায়,
তবু সেই বকার আড়ালটুকুতে
ছিল ভালো করারই প্রত্যাশায়।
স্কুলের মাঠ, সেই পুরোনো ঘর,
বেঞ্চ আর জানালার পাশে,
কত ছোট ছোট স্মৃতি যেন
আজও নীরবে হৃদয়ে হাসে।
নার্সারির সেই ছোট্ট আমি
আজ অনেকটাই বড়,
জীবনের পথে কত মানুষ পেলাম,
কত পথ হলো কঠিন, কত পথ হলো ঝড়।
তবু শৈশবের সেই শিক্ষককে
ভোলা কি এত সহজ হয়?
যে হাতে প্রথম অক্ষর শিখেছি,
সে হাতের ঋণ কি কোনোদিন শোধ হয়?
স্যার হয়তো জানেনও না আজ,
আমি তাঁকে কতটা মনে রাখি,
শৈশবের সেই সাদা পাতায়
আজও তাঁর স্মৃতির ছবি আঁকি।
জীবনের প্রথম পাঠশালায়
আপনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক,
আপনার শেখানো ছোট্ট বর্ণমালাই
আজ জীবনের বড় বড় শব্দের শিক্ষক।
সময় আমাকে অনেক দূরে
নিয়ে গেছে সেই স্কুল থেকে,
তবু আনোয়ার স্যার, আপনি আছেন
আমার শৈশবের সবচেয়ে কোমল স্মৃতিতে।
আজ যদি আবার ফিরে যেতাম
সেই নার্সারির ছোট্ট ঘরে,
হয়তো চুপচাপ দাঁড়িয়ে বলতাম—
“স্যার, আপনাকে মনে আছে আমার হৃদয় জুড়ে।”
আপনি ছিলেন শৈশবের শিক্ষক,
কিন্তু স্মৃতিতে আজও আপনজন,
আমার প্রথম অক্ষর শেখার দিনে
আপনিই ছিলেন এক উজ্জ্বল ক্ষণ।
শ্রদ্ধা রইল, স্যার—
সময়ের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত,
কারণ কিছু শিক্ষক শুধু পড়ান না,
তাঁরা থেকে যান মানুষের হৃদয়ের ভেতর অনন্তকাল।
আমার আনোয়ার স্যার—
শৈশবের সেই প্রিয় মানুষ,
যাঁর কাছে শেখা প্রথম অক্ষরগুলো
আজও আমার স্মৃতির সবচেয়ে সুন্দর স্পর্শ।
লেখিকা — মায়াবী ইলমাজ মেঘ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।