মানুষের জীবন এক অদ্ভুত নদীর মতো, যা তার নিজস্ব গতিতে চলে। আমাদের পরিকল্পনাগুলো অনেক সময় হুট করে বদলে যায়, আর সেই বদলের পেছনে লুকিয়ে থাকে মহান আল্লাহর কোনো এক বিশেষ হিকমত বা প্রজ্ঞা।
২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরু হয়েছিল এক পরম প্রশান্তির মধ্য দিয়ে—এক দ্বীনি ভাইয়ের চমৎকার তিলাওয়াত শোনার মাধ্যমে। এরপর ভাই এর সাথে একসাথে খাবার খেয়ে কিছু সময় পার করলাম, এরপর ফজর পর্যন্ত একটানা পড়াশোনা করলাম। নামাজ শেষ করে শীতের সকালে কম্বল গায়ে জড়িয়ে সকাল ৮:৩০টা পর্যন্ত বেশ মনোযোগ দিয়েই পড়ছিলাম।
কিন্তু মানুষের পরিকল্পনা আর তাকদীরের ফায়সালা তো সবসময় এক পথে চলে না। ২৬-এর সেই সকাল থেকেই শুরু হলো এক পুরনো ও চেনা সমস্যার সমাধান খুঁজতে মেডিকেলের উদ্দেশ্যে ছোটাছুটি। সত্যি বলতে, এর আগে কখনো মেডিকেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। চারপাশের সবকিছুই আমার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অচেনা ও খটমটে। কিন্তু পরম করুণাময় আল্লাহ পাক কীভাবে যেন নিজ কৃপায় আমাকে সঠিক সময়ে ও স্থানে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিলেন।
এরপর শুরু হলো জীবনের এক কঠিন পরীক্ষা। মেডিকেল এ বার বার আসা যাওয়া, এই টেস্ট ওই টেস্ট। এই মেডিসিন ওই মেডিসিন। তারপরও মেডিকেলের চেম্বারে বা হাসপাতালের বেঞ্চে বসেই বই খুলে পড়েছি। আবার এমন কঠিন দিনও গেছে, যেদিন ইফতার করার সুযোগ বা মানসিকতা—কোনোটিই আমার ছিল না! চোখের সামনে ইফতার থাকা সত্ত্বেও খাবার কিনে যে খাবো সেই মানসিক অবস্থাটুকুও অবশিষ্ট ছিল না।
এত প্রতিকূলতার পরও আমি হাল ছাড়িনি। পড়াশোনার সেই কাঙ্ক্ষিত ফ্লু ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে আমার মন, কিন্তু শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক চাপে তা আর টিকিয়ে রাখতে পারিনি।
এর পেছনে আরও অনেক না বলা কারণ রয়েছে। বিশেষ করে, যে পরিবেশ বা জায়গায় আমি থাকি, সেখানে পড়াশোনার বিন্দুমাত্র অনুকূল পরিবেশ নেই। চারপাশের মানুষগুলো কেবল আড্ডা আর নিরর্থক কথাবার্তায় মগ্ন থাকে, পড়ার কোনো বালাই নেই। একে তো শারীরিক অসুস্থতা, মেডিকেলের ঝামেলা, তার ওপর এমন প্রতিকূল পরিবেশ—সব মিলিয়ে পড়াশোনার সেই নিরবচ্ছিন্ন ছন্দ পুরোপুরি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এখন আর আগের মতো সেই সুন্দর শিডিউল অনুযায়ী পড়া হয় না।
আজ ২৫ জুলাই শুরু হয়ে গেল। মন মাঝে মাঝে আনচান করে ওঠে, জানি না বছরের বাকি দিনগুলো আমার কীভাবে কাটবে! ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরণের শঙ্কা কাজ করে। তবে মুমিন তো নিরাশ হয় না। সবকিছুর পরও আমার একমাত্র আশ্রয়স্থল আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ ভরসা ও তাওয়াক্কুল রয়েছে। তিনি বান্দার প্রতিটি কষ্ট ও চেষ্টার হিসাব রাখেন।
হে আমাদের রব! আপনি আমার মনের ভেতরের সততা ও একনিষ্ঠতাকে কবুল করুন এবং এর উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার দ্বারা এমন কোনো আমল বা কাজ করিয়ে নিন, যার ওপর আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যান। আমাদের জীবনটাকে আপনার সন্তুষ্টির রঙে রাঙিয়ে দিন। আমীন।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।