বিডি ক্লিন আমাকে কিছুই দেয়নি!
হয়তো কথাটা শুনলে অনেকেই অবাক হবেন। কেউ হয়তো ভাববেন, তাহলে এত ভালোবাসা, এত সময়, এত শ্রম কেন এই সংগঠনের জন্য?
কিন্তু সত্যিটা হলো কিছু কিছু প্রাপ্তি থাকে, যেগুলো চোখে দেখা যায় না, যেগুলোকে অর্থ, পদ বা পুরস্কারের মাপকাঠিতে মাপা যায় না। আর বিডি ক্লিন আমাকে ঠিক তেমনই কিছু দিয়েছে, যার হিসাব কোনো খাতায় লেখা সম্ভব নয়।
বিডি ক্লিন আমাকে শিখিয়েছে পরিবর্তন দূর থেকে দাঁড়িয়ে সমালোচনা করে আসে না, পরিবর্তন শুরু হয় নিজের হাত দিয়ে, নিজের দায়িত্ববোধ থেকে। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি প্লাস্টিকের বোতল তুলে নেওয়া, মানুষের মাঝে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া, নিজের শহর, নিজের দেশকে ভালোবেসে তার জন্য কাজ করা এসবই একেকটি দেশপ্রেমের প্রকাশ। এই উপলব্ধি আমি বইয়ের পাতা থেকে নয়, বিডি ক্লিনের পথচলা থেকে শিখেছি।
এই সংগঠন আমাকে শিখিয়েছে সময়ের মূল্য, শৃঙ্খলার গুরুত্ব এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করার সৌন্দর্য। শিখিয়েছে, নেতৃত্ব মানে শুধু সামনে দাঁড়িয়ে নির্দেশ দেওয়া নয়, বরং সবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা। শিখিয়েছে, মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়, বরং বিবেকের তাড়নায় ভালো কাজ করে যেতে হয়। কারণ পৃথিবী বদলানোর আগে নিজেকে বদলাতে হয়।
বিডি ক্লিন আমাকে দিয়েছে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এমন অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, যাদের সঙ্গে আমার রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই, অথচ তারা আজ আমার পরিবারের অংশ। সুখে-দুঃখে, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো এই মানুষগুলো আমাকে বুঝিয়েছে মানবতার বন্ধন রক্তের সম্পর্কের চেয়েও গভীর হতে পারে।
আমি পেয়েছি অসংখ্য স্মৃতি ভোরবেলা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বের হওয়া, ক্লান্ত শরীর নিয়ে দিনশেষে এক টুকরো তৃপ্তির হাসি, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করে যাওয়া, সাধারণ মানুষের কৃতজ্ঞতা, শিশুদের উৎসুক দৃষ্টি, সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কাটানো অমূল্য সময়। এই স্মৃতিগুলো কোনো ছবিতে পুরোপুরি ধরা যায় না, কোনো ভাষায় সম্পূর্ণ প্রকাশ করা যায় না, এগুলো হৃদয়ে যত্ন করে জমিয়ে রাখা জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
বিডি ক্লিন আমাকে শিখিয়েছে বিনয়ী হতে। শিখিয়েছে, সমাজের জন্য কাজ করা মানে নিজেকে বড় করে দেখা নয়, বরং নিজেকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করা। শিখিয়েছে, পৃথিবীকে সুন্দর দেখতে চাইলে আগে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকে সুন্দর করতে হয়। অন্যের ভুল দেখিয়ে দেওয়ার চেয়ে নিজে উদাহরণ তৈরি করা অনেক বেশি শক্তিশালী।
আমার কাছে বিডি ক্লিন শুধু একটি সংগঠন নয়।এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে পাঠ্যবইয়ের বাইরে মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়। এটি একটি পরিবার, যেখানে পদ-পদবির চেয়ে ভালোবাসা, সম্মান এবং মানবিকতা বড় হয়ে ওঠে। এটি একটি ইতিহাস, যা হাজারো স্বেচ্ছাসেবকের ঘাম, শ্রম, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গল্পে রচিত। এটি একটি মহাসমুদ্র, যার প্রতিটি ঢেউয়ে লুকিয়ে আছে অভিজ্ঞতা, প্রেরণা, সংগ্রাম এবং পরিবর্তনের অসংখ্য গল্প। হয়তো বিডি ক্লিন আমাকে কোনো অর্থ দেয়নি, কোনো পদক দেয়নি, কোনো বিলাসী জীবনও উপহার দেয়নি। কিন্তু এটি আমাকে যা দিয়েছে, তা পৃথিবীর কোনো সম্পদ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। এটি আমাকে দিয়েছে সচেতনতা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা, নেতৃত্বের গুণ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশকে নিজের বলে ভাবার এক গভীর অনুভূতি।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।