হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর ঐতিহাসিক প্রমাণ -
এই বিষয়ে আমি ২ বছর আগে সাধারণ ভাবে একটা লেখা লিখেছিলাম। পূর্বের লেখাটার লিংক -
https://www.facebook.com/100091772891655/posts/304377902631304/?app=fbl
আজকে এই বিষয়টার উপর আমি আরও পয়েন্ট ভিত্তিক আকারে লেখব ইনশাআল্লাহ ।
ভূমিকা -
বর্তমানে অনলাইনে আমরা বিভিন্ন আর্টস নিয়ে মেট্রিক পাস করা ব্যাঙ্গু নাস্তিকদের দেখছি যারা বিভিন্ন কমেন্ট সেকশনে বলে যে রাসূল সাঃ এর কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই । অজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া কখনো এরকম কথা কেও বলে না। রাসূল সাঃ এর ঐতিহাসিকতা সকল মহলে স্বীকৃত, তবুও এক শ্রেণির বিকৃত পাগল তার ঐতিহাসিকা স্বীকার করে না। আমি আমার এই সংক্ষিপ্ত লেখনীতে নবী মুহাম্মদ সাঃ এর পক্ষে দলীল প্রমাণগুলো তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ ।
দলীলের ধরন-
নবী মুহাম্মদ সাঃ এর ঐতিহাসিকার পক্ষে আমরা সাধারণ তো তিন ধরনের প্রমাণ পেশ করতে পারি। সেগুলো হলো -
১. মুসলিম সোর্স
২. অমুসলিম সোর্স
৩. প্রত্নতাত্ত্বিক সোর্স
আমি এখানে তিন ধরনের উৎস নিয়েই আলোচনা করব।
তো চলুন শুরু করা যাক।
মুসলিম সোর্স -
১. পবিত্র আল কোরআন হলো আমাদের ওহীর প্রধান উৎস এবং মুসলিমদের জীবনের চূড়ান্ত সংবিধান । এই কোরআনে যেমন পূর্ববতী নবী রাসূল গ্রণের নাম এসেছে তেমন করে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাঃ এর নামও উঠে এসেছে। কোরআনে তার নাম নিয়ে রাসূল বলা হয়েছে ( কোরআন - ৩/১৪৪) এছাড়াও আরও তিন জায়গাতে আমরা মুহাম্মদ ( সাঃ) এই নামটা পেয়ে থাকি ( কোরআন-৩৩/৪০; ৪৭/২; ৪৮/২৯) । আমাদের কাছে কোরআনের সবচেয়ে প্রাচীন পান্ডুলিপিও বিদ্যমান আছে যেখানে এই নামগুলো এখনও বিদ্যমান আছে। আর কোরআন যেহেতু এই দুনিয়ার জমিনে সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব, তাই কোরআনে নবী মুহাম্মদ সাঃ এর নাম ও ঘটনা থাকাটা তার ঐতিহাসিকার চূড়ান্ত দলীল। সোর্স লিংক -
https://en.wikipedia.org/wiki/Sanaa_manuscript?
২. রাসূল সাঃ এমন একজন পয়গম্বর ও মহামানব যার প্রত্যেকটা কথা ও কাজ আমরা সনদের মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছি। নবী সাঃ এর হাদীস নিয়ে অনেক কিতাবই বিদ্যমান আছে। হাদীসের কিতাবের সাথে আলাদা করে আছে মাগাজি শ সীরাত এসবের কিতাব। এসব কিতাবে নবী সাঃ এর সময় থেকে মৃত্যু পরবর্তী সময় পযন্ত তার সকল বিষয়াদি বিশুদ্ধ সনদে লিপিবদ্ধ আছে, যদিও অনেক কিতাবে জাল যঈফ সনদের বর্ণনাও আছে তবে মুহাম্মদিসগণ সেগুলোকে আলাদা করেছেন। আর নবীজির কথা, কর্ম, গুনাবলি এগুলো নিয়ে যে বিশাল কিতাবগুলো ইতিহাসে মুসলিমরা হাজার বছর আগে রচনা করেছে সেগুলোই হলো নবী মুহাম্মদ সাঃ এর ঐতিহাসিকতার চরম ও শক্তিশালী ভিত্তি ।
এগুলো তো গেলো মুসলিম প্রধান সোর্স। এখন দেখব অমুসলিম প্রধাণ সোর্সগুলো ।
অমুসলিম সোর্স -
১. ৬৩২ থেকে ৬৩৪ সালের মধ্যে সিরিয়ায় আরব আক্রমণের সময় লেখা একটি গ্রীক লেখা এতে নবী মুহাম্মদ সাঃ এর নাম পাওয়া যায়। Patricia Crone (Former Professor of Oriental Studies – University of Cambridge), (“What Do We Actually Know About Mohammed”, June 2008,। লিংক -
https://www.opendemocracy.net/en/mohammed_3866jsp/
২. এছাড়াও - ডব্লিউ. রাইট কর্তৃক পরীক্ষা করা একটি সিরিয়ান পাণ্ডুলিপি ফোলিও যা ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে (মুহাম্মদের মৃত্যুর ৪ বছর পর) মুহাম্মদ এবং আরবদের সিরিয়া বিজয়ের কথা উল্লেখ করে। আর এখান থেকেও আমরা নবী মুহাম্মদ সাঃ এর প্রমাণ পেয়ে যাচ্ছি....। ( রেফারেন্স : ডব্লিউ. রাইট, ক্যাটালগ অফ সিরিয়াক পাণ্ডুলিপি ইন দ্য ব্রিটিশ মিউজিয়াম অ্যাকোয়ায়ার্ড সিন্স দ্য ইয়ার ১৮৩৮, ১৮৭০ , পার্ট ১, ট্রাস্টিদের আদেশে মুদ্রিত: লন্ডন, নং XCIV, পৃষ্ঠা ৬৫-৬৬-এ নথিভুক্ত।
৩. থমাস দ্য প্রেসবিটার ( fl. 640) ছিলেন উচ্চ মেসোপটেমিয়ার রেশাইনা এলাকার একজন সিরিয়াক অর্থোডক্স পুরোহিত যিনি 640 সালের সিরিয়াক ক্রনিকল লিখেছিলেন , যা আরও অনেক নামে পরিচিত, তো এখানেও মুহাম্মদ সাঃ এর নাম আছে... । তার ব্যাপারে জানতে পড়ুন, লিংক -
https://en.wikipedia.org/wiki/Thomas_the_Presbyter
এখানে নবী মুহাম্মদ সাঃ এর সময়কার দিকের অমুসলিম সোর্স থেকে প্রমাণগুলো পেশ করেছি। এরকম আরও প্রমাণ রাখা যায়, তবে লেখা সংক্ষিপ্ত এর জন্য আমি পয়েন্ট গুলোকে সংক্ষিপ্ত ভাবে তুলে ধরছি.... ।
নবী মুহাম্মদ সাঃ এর ঐতিহাসিকতার প্রমাণ আমরা অন্য ধর্মগ্রন্থেও কিন্তু পেয়ে থাকি, যেমন বাইবেলে তার ব্যাপারে ভবিষ্যৎ বাণী অনেক নিখুঁত ভাবেই করা হয়েছে।
তো এই বিষয়ে আপনারা সরাসরি ব্রাদার রাহুল ভাইয়ের খ্রিস্টান পাদ্রীর সাথে কথা ডিবেট'টা দেখতে পারেন। বাংলা ভাষাতে বাইবেলের আলোকে মুহাম্মদ সাঃ এর ব্যাপারে ভবিষ্যৎবাণী টপিকে এর চেয়ে সুন্দর আলোচনা বা ডিবেট পাবেন না.... । লিংক -
https://youtu.be/DYLF5LFWWDI?si=Z2QKD7_Xasf6EAOO
আর ডিবেট না দেখে এই টপিকে লেখা পরতে চাইলে এই লেখাটা পড়তে পারেন। লিংক -
https://www.hadithbd.com/books/detail/?book=167§ion=2306
[ আরও ভালো করে জানতে খন্দকার জাহাঙ্গীর স্যারের ' বাইবেল পরিচিতি ও পর্যালোচনা' এবং শায়েখের অনূদিত ' ইযহারুল হক ' বই দুটো পড়া যেতে পারে..... ]
শুধু বাইবেলেই না বরং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থেও নবী মুহাম্মদ সাঃ এর কথা বলা আছে বলে জাকির নায়েকসহ অনেকে দাবি করেন। তো বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে মুহাম্মদ সাঃ এর ভবিষ্যৎ বাণী জানতে চাইলে পড়ুন উক্ত pdf বই। লিংক -
Source: alislam.cloud
https://share.google/EozveiW5s66m5UO0d
[ উল্লেখ্য যে আমি এই বিষয়টাতে একমত না, বরং আমার মতে নবী মুহাম্মদ সাঃ এর ভবিষ্যৎ বাণী একমাত্র বাইবেলে আছে, অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে ( হিন্দু ধর্মগ্রন্থ, বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ...) নবী মুহাম্মদ সাঃ এর ভবিষ্যৎ বাণী আছে বলে যে দাবি করা হয় তা সঠিক নয়... ]
তো অন্যান্য ধর্মীও উৎসে তার যে ভবিষ্যৎ বাণীগুলো আছে এগুলোর তার অস্তিত্বের পক্ষে প্রমাণ হিসাবে কাজ করে..... ।
প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ -
জেরুজালেমের ডোম অফ দা রকে মোহাম্মদ সাঃ এর নাম আছে যা নবী মুহাম্মদ সাঃ এর মৃত্যুর ৫৯ বছর পর নির্মিত৷ ডোম অফ দা রক সম্পর্কে জানতে পড়ুন, লিংক -
https://en.wikipedia.org/wiki/Dome_of_the_RRocu
আরও পড়ুন-
https://ntbc.wordpress.com/inscriptions-about-jesus-on-islams-dome-of-the-rock-jerusalem/
এছাড়াও নবী মুহাম্মদ সাঃ এর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে খলিফা আমলে যে মুদ্রাগুলো ছিল সেখানেও মুহাম্মদ সাঃ এর নাম আছে ( শাহাদত আকারে) । লিংক -
https://en.numista.com/420081
এছাড়াও প্রাচীন অনেক শিলালিপির দিকে দৃষ্টিপাত করলেও মুহাম্মদ সাঃ এর প্রমাণ আপনারা পেয়ে যাবেন ...... ।
আমাদের রাসূল সাঃ এমন একজন ব্যক্তি যার সম্পর্কে কট্রর অমুসলিম ঐতিহাসিকরাও তার অস্তিত্ব এর পক্ষে রায় দিয়েছে।
আর হ্যা এখানে আমি সংক্ষিপ্ত পয়েন্ট ধরে আলোচনা করেছি। এই বিষয়ে অনেক আগে থেকেই আর্টিকেল লেখা আছে, আপনারা সেগুলো পড়ে দেখতে পারেন। তো যেসব জায়গা থেকে রেফারেন্স নিয়েছি সেসব এর রেফারেন্স লিংক-
https://muslim.wiki/wiki/Historical_attestation_of_Muhammad?
https://www.whomuhammadis.com/life/archaeological-evidence-of-the-prophet-muhammad/?
https://scholarlyislam.com/2016/12/27/prophet-muhammad-historical-fact-or-fiction-the-earliest-documents/
https://id.whomuhammadis.com/kehidupan/bukti-arkeologis-nabi-muhammad/?
https://www.livescience.com/archaeology/paleo-arabic-inscriptions-on-rock-were-made-by-prophet-muhammads-unconverted-companion-study-finds?
#নাস্তিক_ও_বিধর্মীদের_মিথ্যাচারের_জবাব
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।