নিজেই সপ্নের ব্যাখ্যা করার মূলনীতি জেনে নিন -
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
অনেকদিন পর আমি একটা লেখা লেখছি, আশা করি ভালো লাগবে।
সপ্ন আমরা কম বেশি সবাই দেখি, আমাদের সপ্নে ভালো মন্দ দুটোই থাকে। তো আমার অনেক মুসলিম ভাই বোনদের মনে সপ্ন সম্পর্কে প্রশ্ন থাকে এবং কেও কেও হয় তো নিজ সপ্নের ব্যাখ্যাও জামতে চান। আমি এখন হাদীসের আলোকে এই বিষয়ের উপর আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ ।
প্রথম হাদীস -
রাসূল সাঃ বলেন -
" সপ্নের যে ভাবে ব্যাখ্যা ( তাবীল) করা হয় সে ভাবে তা বাস্তবায়ন হয়। যখন তোমাদের কেও সপ্ন দেখবে তখন তা আলেম ( এই বিষয়ে বিজ্ঞ) ও কল্যানকামী ( মানে যে আপনার ভালো চাই) ছাড়া কারো কাছে তা বর্ণনা করবে না... "( মুসতাদরাক হাকেম - ৮১৭৭)
এই হাদীস থেকে আমরা দুটো গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পেলাম -
১. সপ্ন সে ভাবেই বাস্তবায়িত হয় যে ভাবে তার ব্যাখ্যা পেশ করা হয় (দাড়ান আমি বুঝিয়ে বলছি..)
২. সপ্ন একজন বিজ্ঞ এবং যারা আপনার কল্যান চাই তাদের কাছেই বর্ণনা করবেন...
১. ধরুন আপনি সপ্নে দেখলেন যে আপনি মাছ মারছেন নদীতে এবং আপনার পাশে একজন ব্যক্তি বসে আছে, সে অনেক মাছ মেরেছে আর আপনি একটাও মারতে পারেন নি, তো সে আপনাকে অনেকগুলো মাছ দিল.... " (A)
এখন এটার ব্যাখ্যা কি হবে? তো আমি যদি এই সপ্নের এরকম ব্যাখ্যা করি যে -
" এখানে মাছ বলতে দন সম্পদ বা টাকা বুজানো হয়েছে, এখন আপনি আপনার জীবনে ধন সম্পদ বা টাকা আয় করতে পারছেন না বা লাভ করতে পারছেন না, এখন একজন ব্যক্তি এসে আপনাকে টাকা বা অর্থ দিয়ে সহায়তা করল এবং আপনিও তার সাহায্য নিয়ে অর্থ সম্পদ করলেন... "
লক্ষ্য করেন আমি কিন্তু এই সপ্নের (A) একটা ব্যাখ্যা দাড় করালাম সুন্দর । তো এই যে আমি একটা ব্যাখ্যা দিলাম এই ব্যাখ্যাটার মতো করে যদি আপনার দেখা অন্য সপ্নগুলোও কল্যান হিসাবে ব্যাখ্যা করেন তাহলে চান্স শতভাগ থাকে যে তা কল্যান হিসাবেই আপনার জীবনে প্রতিফলিত হবে.... আশা করি বুঝেছেন ( এই মর্মে বিস্তারিতও অন্যান্য হাদীস আছে আমি একটা পেশ করলাম)
২. সপ্ন আলেমদের কাছে এই জন্য বলবেন কারণ তারা আপনার পরিস্থিতি লক্ষ্য রেখে উত্তম ব্যাখ্যা করতে পারবে। যদি আপনার সপ্ন কোনো জাহেলের কাছে বলেন তাহলে তারা হাসি ঠাট্টা করে উড়িয়ে দিবে তখন আবার তা হিটে বিপরীত হয়ে যাবে.... । এছাড়াও ভালে সপ্ন দেখলে তা আপনার প্রিয় মানুষদের বলা উচিত যারা আপনার কল্যানকামনা করে..... ।
এখন আসি খারাপ সপ্ন দেখলে কি করণীও -
হাদীস -
রাসূল সাঃ বলেন - বাজে সপ্ন দেখলে আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম পড়বে এবং তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে বাম দিকে "( মুসলিম -২২৬১) [ তবে এই থুথুতে ছেপ বা শ্লেষ্মা বাহির হবে না বরং একেবারে হালকা থুথু ফেলাতে হবে... ]
হাদীস -
" রাসূল সাঃ এর কাছে একজন লোক এসে বলল 'আমি সপ্নে দেখলাম আমার মাথা কাটা হয়েছে ' নবীজি তখন বলল - শয়তান তোমাদের সাথে সপ্নে দুষ্টামি করলে ( বাজে সপ্ন দেখলে) তা কারো কাছে বলবে না "( মুসলিম - ২২৬৮)
এই দুটো হাদীস থেকে দুটো বিষয় জানতে পারলাম -
১. বাজে সপ্ন দেখলে তা বলব না
২. আউজুবিল্লাহি.. বলে বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলব...
ব্যাস এতটুকু করব, এছাড়াও দু- রাকআত নফল নামায পড়ে এই বাজে সপ্নের প্রভাব থেক আশ্রয় চেতে পারেন... ।
এখন প্রশ্ন হলো কোনটা ভালো সপ্ন আর কোনটা খারাপ সপ্ন এটা বুঝব কি করে?
হাদীস -
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যেখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে, তাহলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাই সে যেন এ জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে এবং অন্যের কাছে তা বর্ণনা করে। আর যদি এর বিপরীত অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তাহলে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। তাই সে যেন এর ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়। আর কারো কাছে যেন তা বর্ণনা না করে। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করবে না। ( বুখারী -৬৯৮৫)
এখান থেকে বুঝতে পারলাম যে ভালো সপ্ন সেটা যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে আর সেই সপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে যা সে পছন্দ করে ( এটা উত্তম বিষয়ে নিয়ে হতে হবে, খারাপ বিষয় হলে চলবে না...) আর মন্দ সপ্ন সেটা যেটা সে পছন্দ করে..... ( আশা করি হাদীস থেকে নিজেরাই বুঝতে পেরেছেন...)
তো এই ছিল হাদীসের আলোকে সপ্ন সম্পর্কে কিছু বিষয় যা সাধারণ মুসলিমদের জন্য জানা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে পোস্ট দিলাম....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।