Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ঘুরে এলাম "নয়নাভিরাম নায়াগ্রা ফলস"

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
31 বার প্রদর্শিত
করেছেন (56 পয়েন্ট)   31 জানুয়ারি "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

🥰ঘুরে এলাম "নয়নাভিরাম নায়াগ্রা ফলস"


শাকেরা বেগম শিমু


"স্বপ্নরাজ্য আমেরিকায় থাকি আজ ষোলো বছর ধরে। এই দীর্ঘ সময়ে এদেশের বিভিন্ন মনোরম ও আকর্ষণীয় স্থানে আমাদের বেড়ানো হয়েছে। তবুও মনের মধ্যে কোথাও যেন একটু খচখচ করতো দূরে অনেক দূরে কোথাও থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য। আমাদের বাসস্থান পড়েছে মিশিগান স্টেটে যেটা একেবারে প্রতিবেশী দেশ কানাডার বর্ডারের কাছাকাছি। আর শুনেছি কানাডায় নাকি অনেক সুন্দর পর্যটনস্থল সহ পৃথিবীর বিশ্ববিখ্যাত জলপ্রপাত "নায়াগ্রা ফলস"ও অবস্থিত! যেটা দেখার জন্য প্রতিবছরই দেশ ও বিদেশের অগণিত লোক সেখানে ছুটে যায় এই 'নয়নাভিরাম নায়াগ্রা ফলস' এর সৌন্দর্য্য  উপভোগ করার জন্য। আর সেজন্যই একদিন আমি ও বড়আপু মিলে আমাদের ভাই সাদীকে বললাম যে আমরাও কানাডার সেই বিখ্যাত নায়াগ্রা ফলস এ বেড়াতে যাবো। মিশিগানের ভেতরে তো অনেক জায়গা'ই বেড়িয়েছি। এখন একটু দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে চাই। এতে একদিকে যেমন বিখ্যাত সে 'নায়াগ্রা ফলস' দেখা হবে অপরদিকে নতুন আরেকটি দেশও ভ্রমণ করা হবে। যেমন ভাবা তেমনই কাজ। সাদী শুনে বললো ঠিক আছে কাজে একটু অফ পেয়ে যাই তখন না হয় দেখা যাবে। এখনতো কাজে আবার তেমন একটা অফ দিতেই চায়না। তাই আমরা অপেক্ষায় রইলাম। অবশেষে কিছুদিন পর এসে গেলো আমাদের কাঙ্খিত  সেই দিন। আমেরিকায় শনি ও রবি এ দুই দিন সরকারি অফ ডে। তাই সাদী শুধু শুক্রবারের জন্য  কাজ থেকে অফ চেয়ে নিলো।


যাবার দিন: যখনই দিন ঠিকঠাক হয়ে গেলো যে শুক্রবার কানাডায় যাওয়া হচ্ছে তখন আমরা তো খুবই উত্তেজিত হয়ে পড়লাম। এতোদিন আমেরিকায় থেকেও কখনো দেখা হয়নি পাশের দেশেই অবস্থিত বিখ্যাত সেই জলপ্রপাত! এবার দেখা হবে আর অনেক অনেক আনন্দ হবে। সবাই মিলে চুটিয়ে মজা করবো। এইসব আলোচনা শেষে আমরা রাতেই সবাই যার যার কাপড়-চোপড় ও দরকারি জিনিসপত্র লাগেজে ভরে ফেললাম। বড়আপু দুলাভাই ও তিন ভাগ্নে-ভাগ্নি সবাই সকাল দশটায় তাদের জীপ নিয়ে  আমাদের বাসায় চলে এলো। এদিকে আমি,সাদী, শফিউল আমরাও সবাই প্রস্তুত যাবার জন্য। আমাদের গাড়িটা ড্রাইভ করছিলো সাদী নিজেই। আর আপাদের জীপটা দুলাভাই ড্রাইভ করছিলেন। অবশেষে আল্লাহর নাম নিয়ে মা, অলি ও হাদীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা সবাই রওয়ানা হলাম প্রতিবেশী দেশ কানাডার উদ্দেশ্যে। আমেরিকা থেকে কিন্তু কানাডা আবার অতোটা দূরেও নয়। দু ঘণ্টা ড্রাইভ করেই পৌঁছে যাওয়া যায়। মিশিগান অঙ্গরাজ্য কানাডার বর্ডারের কাছাকাছি হবার এই এক সুবিধা। প্লেন ছাড়া শুধু ড্রাইভ করেই অন্য দেশে যাওয়া যায়। সকাল দশটার দিকে আমরা বাড়ি থেকে রওয়ানা দিয়ে দেই। গাড়িতে উঠেই সবাই প্রথমে যানবাহনে চড়ার দোয়াটা পড়ে নিলাম। যাতে এতোদূরে ভ্রমণে যেতে কোনরকম দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়না। তারপরই বাতাসের বেগে আমাদের দুটি জীপ এগিয়ে চললো সোজা কানাডার দিকে! আমরা সবাই অনেক এক্সাইটেড ছিলাম। নতুন স্থানে বেড়াতে যাবো। নতুন অভিজ্ঞতা হবে, আনন্দ হবে আরো অনেক কিছু বলাবলি করে আমরা আমাদের রোমাঞ্চকর ভ্রমণ উপভোগ করতে লাগলাম। পাশের খোলা জানালা দিয়ে ফুরফুরে সতেজ হাওয়া এসে গায়ে লাগছে আর ক্ষণে ক্ষণে শরীরটা শিহরণ দিয়ে উঠছে। আধঘণ্টা ড্রাইভ করার পর আমরা একটি গ্যাস স্টেশনের সামনে গাড়ি থামিয়ে গাড়িতে গ্যাস ভরে নিলাম। যাতে এতোদূরে ভ্রমণে যেতে গ্যাসের কোন কমতি না হয়। তারপর আরো ঘণ্টা দেড়েক রাস্তা অতিক্রম করার পর আমরা কানাডার অতি কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। আর তখনই যোহরের নামাযের সময় হয়ে এলো। অগত্যা পুরূষরা কাছের একটি মসজিদে গিয়ে জুম্মার নামায আদায় করে আসলেন। আর আমরা মহিলারা গাড়ির পাশে গাছের ছায়ায় চাদর বিছিয়ে নামাযটা আদায় করে নিলাম। এরপরেই আবার গাড়ি স্টার্ট করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি আমেরিকা ও কানাডার মধ্যখানে যে বড় নদীটি অবস্থিত তার উপরের বিশাল কংক্রিটের ব্রিজের উপর উঠে পড়লো। এই ব্রিজের অর্ধেক পড়েছে আমেরিকায় ও বাকি অর্ধেক পড়েছে অপর দেশ কানাডায়। এবার এই ব্রিজটা পাড়ি দিলেই আমরা চলে যাবো প্রতিবেশী দেশ, আরেক স্বপ্নরাজ্য কানাডায়! সাদী ব্রিজের মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে তার টিকেট পাসপোর্ট সব দেখিয়ে সবার জন্য একটি করে টোকন নিয়ে নিলো। আর তারপরই আমরা প্রবেশ করলাম আমাদের কাঙ্খিত গন্তব্যের দেশ কানাডায়।।


 


কানাডার প্রকৃতি: কানাডায় প্রবেশ করে প্রথমে আমরা প্রায় একনাগাড়ে ঘণ্টাখানিক পিচঢালা পথে এগিয়ে চললাম সোজা নায়াগ্রা ফলসের দিকে। যেতে যেতে পথের দুপাশে আমরা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্য  ও কানাডার পরিচ্ছন্ন পরিপাটি পরিবেশ উপভোগ করতে থাকলাম। দুপাশে বেশীরভাগই ছিলো ভুট্টা ক্ষেত। তারপরে আছে ধানক্ষেত, আপেল বাগান, তেঁতুল বাগান, ক্রিসমাশ ট্রি'র সারি ইত্যাদি। কাটিং মেশিন দিয়ে ভুট্টার গাছগুলো এমনভাবে সমানতালে কাটা হয়েছে, দেখে মনে হচ্ছে যেন সিলেটের চা বাগানের ভেতর দিয়ে  আমরা যাচ্ছি। একটু ঢালু জায়গায় মেশিন দিয়ে সমান করে উপর থেকে নিচের দিকে মসৃণভাবে কাটা হয়েছে ভুট্টা গাছের সারি। প্রকৃতির মাঝে এতো নিখুঁত কারুকার্য দেখে আমাদের দু চোখ জুড়িয়ে গেলো। মনে হচ্ছে প্রকৃতি যেন কোন সবুজ রঙের সিঁড়ি তৈরি করে রেখেছে তার নিজহাতে। রাজপথের দুপাশে আরো কিছু গাড়ি, জীপ, ট্রাক ইত্যাদি একটু পরপর নিজেদের মতো আসা যাওয়া করছে। কানাডায় আবার কিন্তু  আমেরিকার মতো এতো যানজট নেই। বরং এখানে আছে বিশুদ্ধ নির্মল পরিবেশ, দখিনা বাতাস আর একটু পরপর বিশাল ভুট্টা বা ধানের ক্ষেত। এই ভুট্টাই কিন্তু কানাডার প্রধান খাদ্যশষ্য, তাই এখানে এর চাষও হয় সবচেয়ে বেশী। যেতে যেতে দূরে কিছু জলাশয় ও চোখে পড়লো যেগুলোর পানি ছিলো স্বচ্ছ ও টলটলে। নিচের বালু পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে এমন নীলাভ টলটলে পানিই কানাডার জলাশয়গুলোর। যেখানে আমাদের দেশের নদী ও জলাশয়গুলোর কথা আর কি'বা বলবো! কলকারখানার বর্জ্য, মানুষের ফেলা ময়লা-আবর্জনা, বিভিন্ন প্রাণীর মলমুত্র, আরো সবমিলিয়ে একেবারে নোংরা হলুদ বর্ণের পানি! যেটা ব্যবহার করাতো দূরের কথা স্বজ্ঞানে হাতটি অব্দি ডুবানো যায় না। 


মাঝপথে আমরা গাড়ি থামিয়ে হালকা নাস্তা সেরে নিলাম। সাথে করে আনা হয়েছিলো অনেক কিছুই। বিরিয়ানি, চিপস, ফল, পিজা, কোল্ড ড্রিংকস, মিনারেল ওয়াটার ইত্যাদি। সেগুলো দিয়ে চমৎকার ভোজে আবার জিপে ঢুকে পড়লাম আমরা। এবার টানা আরো দেড়ঘণ্টার মতো ড্রাইভ শেষে আমরা পৌঁছে গেলাম আমার কাঙ্খিত গন্তব্য নায়াগ্রা'য়। নায়াগ্রার সেই স্রোতসিনী রিভারের স্বচ্ছ নীল পানি তীব্রবেগে ছুটে চলেছে কোন অজানার উদ্দেশ্যে। পানির গভীরতা কিন্তু  অনেক কম। বড়জোড় দুই কি তিনফুট হবে হয়তো, কিন্তু  এমন তীব্র স্রোত যে একবার যদি কেউ এতে পায়ের পাতাটুকু অব্দি ডুবিয়ে দেয় তাতেই সে ওই খরস্রোতা নায়াগ্রার তীব্র প্রাণঘাতি স্রোতে অনায়াসে ভেসে যাবে। আর তার কিছুক্ষণ পরই গিয়ে পড়বে সোজা বিশাল এই ঝর্ণার একেবারে তলদেশে। শেষে সেখানেই সম্পন্ন হবে তার সলীল সমাধী! মা গো! এটা ভাবতেই গা টা কেমন যেন কাটা দিয়ে  উঠলো। যেমন সুন্দর এটি তেমনই  এটি ভয়ানক। একেই বুঝি বলে ভয়ংকর সুন্দর! আর সেই সুন্দরের টানে প্রতিবছর হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছোটে যান কানাডার সেই দৈত্যাকৃতির ঝর্ণা "নায়াগ্রা ফলস" এ।


পৌঁছে যাবার পর: সেখানে পৌঁছানোর পর আমরা ভালো  একটি জায়গা দেখে আমাদের গাড়ি দুটো পার্কিং করে রাখি। প্রথমে অবশ্য জায়গা পাওয়া যাচ্ছিলো না। কেননা তখন শতশত গাড়ি ইতিমধ্যে পৌঁছে সেখানের পার্কিংয়ের সমস্ত জায়গা দখল করে বসে আছে। শেষমেষ আল্লাহর রহমতে আমার ছোট্টমতো একটা জায়গা পেয়ে সেখানে আমাদের গাড়ি দুটো পার্কিং করে নেমে আসি। নামার পর আমরা সবাই ফটাফট সেখানে কিছু ছবি তুলে নিলাম। সাদী কিছু ভিডিও করলো সে স্থানটির। এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে নায়াগ্রা রিভারের তীব্রবেগে ছুটে চলা আর শুনাও যাচ্ছে তার শো শো গর্জন। পাশে কিছু উঁচু উঁচু দালান রয়েছে। দুলাভাই বললেন ওগুলোতে এই নায়াগ্রা ফলস এ কর্মরত সরকারি লোকজন থাকে। সামনে পার্কের মতো সুন্দর খোলামেলা জায়গা। স্থানে স্থানে ফুলের টবে বিভিন্ন রঙ-বেরঙের ফুলগাছ সাজানো। কোনটিতে আবার ফুলও ধরে রয়েছে। 


এর সাথে আরেকটি জিনিস লক্ষ্য করলাম। টাইলস ঘেরা খোলা জায়গাটায় ছিলো ঝাকে ঝাকে সাদা কবুতর। কোনটি আবার সাদা কালোর মিশ্রণ ও। খুটে খুটে কি যেন খাচ্ছে ওরা। এক মুহূর্তের জন্য  মনে হলো আমরা হয়তো সিলেটে হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজারে চলে এসেছি। আর সামনের ওগুলো বুঝি সেই জালালী কবুতর। পরক্ষণেই বড় আপুর ডাকে আমার ধ্যান ভাঙলো। আপা বললেন শিমু দেখ দেখ ঐগুলো কারা? ওটা  আমাদের পাশের বাড়ির 'মুন' না! তখন আমি আর সাদীও সেদিকে তাকাই। দেখি সত্যিই এতো আমাদের প্রতিবেশী ইসলাম চাচার ছেলে মুন ভাই ও তার সাথে আরো দুজন। একজন পুরূষ তার কোলে একটি বাচ্ছা ও আরেকজন মহিলা বোরকা নেকাব পড়া। তার মুখ দেখতে না পেলেও ততক্ষণে উনারাও আমাদের দেখে হাসিমুখে এগিয়ে  এলেন। দেখি এ যে সত্যিই মুন ভাই! ও সঙ্গে তার বোন আইভি আপা আর সাথের ঐ ভদ্রলোক  উনার স্বামী।  অর্থাৎ  আমাদের আরেক দুলাভাই। সে কি! উনারাও এসেছেন তাহলে নায়াগ্রা ফলস এ বেড়াতে! বাহ্ কতদিন পর দেখা হলো দেশের মানুষের সাথে। দেশের বলছি কি পুরো আমাদের গুষ্ঠির মানুষ উনারা। আমাদের ও উনাদের বাড়ির মাঝখানে শুধু একটি মুসলিম গুরস্থান রয়েছে। নচেৎ তাদেরকে আমাদের বাড়ির লোকই বলা যেতো। উনারাও আমাদের দেখতে পেয়ে খুবই খুশি হয়েছেন। অচেনা এক জায়গায় এভাবে কাছের মানুষের দেখা পেয়ে আমরা বিস্মিত ও তার সাথে আনন্দিতও হলাম। আইভি আপা দুলাভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। জানলাম উনারা কানাডাতেই থাকেন। আজ এসেছিলেন নায়াগ্রা ফলস দেখতে ও এখন দেখা শেষে তারা বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। যাক ভালোই হলো উনাদের সাথে সাক্ষাৎটা হওয়ায়। আমরা আরো কিছুক্ষণ গল্প করে শেষে যে যার নিজেদের গন্তব্যের দিকে রওয়ানা দিলাম। 


আসরের পর আসল সৌন্দর্য্য: আমরা ঝর্ণার দিকে হাঁটতে হাঁটতে সাদী বললো গাড়িতে থাকতেই আসরের সময় হয়ে গিয়েছে। চলো আগে নামাযটা আদায় করে নিই। আমরা সবাই ফলস এর নিকটস্ত ওয়াশরুমে গিয়ে অজু করে আসলাম। শেষে সাদী পুরূষদের নিয়ে জামায়াতের সাথে আসরের কসর নামায আদায় করে নিলো। আমরাও আলাদাভাবে দু রাকাত কসর নামায সেরে নিই। দ রাকাত বললাম কেননা তখন তো আমরা মুসাফির! আর মুসাফিরদের জন্য পুরো নামায পড়তে হয়না। কসর এর নিয়ত করে চার রাকাতের জায়গায় দু রাকাত ফরয নামায পড়ে নিলেই হয়। যাক গে, আমরা আসরের সালাত শেষ করে একটা ঘন সবুজ ঘাসের আস্তরণওয়ালা খোলাস্থানে দুটি বড় বিছানার চাদর বিছিয়ে সেখানে আমাদের তল্পিতল্পা সব জমা করে রাখি। এবার সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লাম নায়াগ্রা ফলস কাছে থেকে দেখার জন্য। কিন্তু  উপায় নেই। সেখানে মানুষ  আর মানুষ গিজগিজ করছে। কত জাত বেজাতের মানুষ তার ইয়ত্তা নেই। কেউ বাঙ্গালী, কেউ ইন্ঠিয়ান, কেউ আমেরিকান, আবার কেউবা স্বয়ং কানাডার ই অধিবাসী। কিন্তু সবাই পর্যটক। সবাই এই বিশ্ববিখ্যাত জলপ্রপাতের সৌন্দর্য্য  অবলোকন করছে। কেউ ফটো তুলছে, কেউ ভিডিও বানাচ্ছে, কেউ পাশের শপ থেকে পপকর্ণ কিনে খাচ্ছে, আবার কেউবা একমনে তাকিয়ে শুধু দেখছে এই বিশাল নীল জলরাশি খরস্রোতার মতো আছড়ে পড়া। ফলসের ওপর পাশটা হচ্ছে নিউইয়র্ক! সেখানেও অনেকে এসেছে ফলস দেখতে। কিন্তু  আসলটা তো কানাডাতেই অবস্থিত তাই এখানে থেকেই পুরোটা উপভোগ করা যায়। যেটা আমরা এখন করছি। কি সুন্দর সুন্দর নীল জলরাশি, পানির কলকল ধ্বনি যেন সারাদিনের জার্নির ক্লান্তিটা দূর করে দিলো। পানিটা খুবই স্বচ্ছ, পানির নিচে চিকচিক করছে সাদা বালি। তেমন গভীরতাও নেই তবে স্রোত আছে প্রচন্ড। সামান্য পা ডুবালেই যে কেউ ভেসে তলিয়ে যাবে অতল গহ্বরে। আমার বোনপো ও বোনজি ইউসুফ, ইয়ামিন, ও মারইয়াম ও খুব আনন্দ করছে। লাফালাফি থেকে শুরু করে দৌঁড়ে একে অন্যকে ধরছে আবার ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছে মাটিতে। কখনোবা ফলসের পাশের লোহার গ্রীলওয়ালা প্রাচীরের কাছে গিয়ে তারাও দেখছে এই অপরূপা অনুপমা সুন্দরী ঝর্ণা। এটা দেখেই বোধহয় ছন্দের জাদুকর লিখেছিলেন- 


"ঝর্ণা ঝর্ণা সুন্দরী ঝর্ণা


তরলিত চন্দ্রিকা চন্দন বর্ণা।" 


সত্যিই তাই আজ স্বচক্ষে দেখলাম।


যেন তরল জোছনা বেয়ে বেয়ে পড়ছে। সাথে আরো দেখলাম পানি কিভাবে ধোঁয়ার মতো বাষ্প হয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে। উপরিভাগ দেখলে মনে হবে যেন নিচে কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে আর সেখান থেকে ধোঁয়া  উড়ছে। অথচ নিচে তাকালেই শুধু বেশুমার জললাশির আস্ফালন ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়বে না। আসলে তীব্র স্রোতের ঘর্ষণের ফলে কিছু পানি বাষ্প হয়ে উপরের দিকে উঠে যায় আর সেটাই ধোঁয়ার আকারে আমাদের চোখে পড়ে। আবার ফলসের ওপারে মানে নিউইয়র্কের মধ্যে দেখলাম  একটি ইয়া বড় প্যারাসুট বা বেলুন একই জায়গায় উঠানামা করছে। এখান থেকেই যখন এতো বড় দেখাচ্ছে জানিনা কাছ থেকে সেটা কত বড় হবে। 


তারপর আমাদের সবাই কিছু ফ্যামিলি পিক তুললাম। আপা ও দুলাভাই তাদের বেবীদের নিয়ে আলাদা ছবি তুললো। অনেক সুন্দর সুন্দর ভিডিও তৈরি করলাম। শুধু আমরা নয় বরং তখন সাথে পুরো ফলস এরিয়াটাই ভরে গিয়েছিলো ভিডিও তৈরি ও ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক আওয়াজে।!


 রাতে আতশবাজির খেলা: অনেক আনন্দের মধ্যে দিয়ে দিন কেটে নেমে এলো রাত। আমরা সেখানেই প্রথমে মাগরিবের ও পরে এশার নামায আদায় করে নিলাম। পরে দুলাভাই কিছু খাবার কিনে আনলেন। আমরা যে যার মতো চিপস, পপকর্ণ, বিস্কুট, চা, কফি, চকলেট, পিজা খেয়ে আবার বেরিয়ে পড়লাম রাতের নায়াগ্রা ফলস এর সৌন্দর্য্য দেখতে। রাতে বিভিন্ন রং বেরঙের বাতি দূর থেকে ফলসের জলরাশির দিকে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এতে মনে হয় ফলস এ-ই যেন রঙধনুর সাত রং নেমে এসেছে। আমরা মুগ্ধ চোখে তা দেখলে লাগলাম। তখন অবশ্য ভীড় অনেকটা কমে গিয়েছিলো। কারণ তখন আমাদের  আগেই যারা এসেছেন তারা অনেকে তখন চলে গিয়েছেন। তাই আমাদের  আনন্দ করতে অনেকটা সুবিধাই হলো। রাতের ও কিছু ভিডিও করে ও ছবি তুলে নিলাম। অনেকে তখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তাই একেকজন একেক জায়গায় বসে গল্প করছে। 


রাতের শেষ আকর্ষণ: রাতে আনন্দ আর হৈ- হুল্লোর এর পর যখন আমরা সবাই যখন ক্লান্ত হয়ে ঘাসের উপর পাতানো চাদরে বসে বিশ্রাম নিচ্ছি তখন দুলাভাই বললেন রাত এগারটার পর দেখবে রাতের আসল সৌন্দর্য্য। তা আবার কি? আমরা জিজ্ঞেস করলাম। ভাই বললেন, এগারটার পরে ওরা বিরাট বিরাট আতশবাজি জ্বালায়। ওগুলো দূর আকাশে উঠে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেটা দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। যদিও আমরা সবাই ক্লান্ত কিন্তু শেষবেলা উস্তাদের মারটা দেখেই রওয়ানা দেবো। আমরা সবাই তাতে সম্মতি জানালাম। উপরে আকাশে হাজার হাজার তারা জ্বলজ্বলে করছে। আমি চাদরের এককোণে শুয়ে শুয়ে তারাগুলো দেখছিলাম। মনে হচ্ছিলো হাজারো ছোট ছোট জুঁইফুল ফুটে রয়েছে ঐ দূর আকাশপানে। এমতাবস্থায় হঠাৎ বিকট আওয়াজে আমরা কিছুটা কেঁপে উঠলাম! তাকিয়ে দেখি  নিউইয়র্ক এর দিক থেকে সারি সারি আতশবাজি আকাশে উঠে চারদিকে ফেটে পড়ছে। সেখান থেকেই সেই শব্দটা ভেসে আসছে। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো সেগুলো নিউইয়র্ক এর থেকেই আসছে। পরে দেখলাম না! ওগুলো কানাডার এক অংশ থেকে একদল কর্মী ফুটাচ্ছে যাদের কাজই হলো নায়াগ্রা ফলস এ আসা পর্যটকদের বিনোদন দেয়া। একটির পর একটি বাজি ফুটছে আর অনেক উঁচুতে উঠে চতুর্দিকে সেটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে। একদিকে নিচে ছড়িয়ে পড়া বিশাল ঝর্ণার জলরাশি, আরেকদিকে আকাশে ছড়িয়ে পড়া আতশবাজি, এ দুটির সংমিশ্রণে মনে হলো কোন স্বপ্নপূরীতে চলে এসেছি। প্রায় পাঁচ থেকে দশমিনিট ধরে চললো এই আলোর খেলা। মন ভরে উপভোগ করলাম সবাই।


ফেরার পথে: অবশেষে যখন আতশবাজি পুড়ানো শেষ হলো তখন আমরা ও বাকি সবাই ধীরে ধীরে নিজেদের জিনিসপত্র গুছানো শুরু করলেন। এখন যে বাড়ি ফিরতে হবে! নদী, পাহাড় বা ঝর্ণা যাই ঘুরে আসি না কেন গৃণের কোণে এসেই মনটা সুখ পায়, প্রশান্তি পায়। সেই প্রশান্তির আশায় আবারো আমরা রওয়ানা দিলাম ঘরমুখে। অবশ্য সে ঘর বলতে মিশিগানে নয় কেননা তখনো আমাদের ভ্রমণ শেষ হয়নি। আমরা তখন ফিরছি হোটেলে। পরেরদিন অন্য কোন দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যাবো বলে। তারপরই শুরু করবো আমাদের গৃণকোণে যাত্রা। এই দিনটির কথা আমার মনে থাকবে চিরদিন। প্রথম দেখা সেই নয়নাভিরাম "নায়াগ্রা ফলস"!

ঠিকানা: মিশিগান, আমেরিকা।image

প্রথম প্রকাশিত সোর্স
Enolej ID(eID): 3306
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

1 প্রতিক্রিয়া

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
খুবই চমৎকার লিখেছেন।

শিরোনাম এ লেখা/গল্পের নাম দিতে হয়।আমি সম্পাদনা করে গল্পের নাম লিখে দিয়েছি।পরবর্তীতে এ বিষয়টি খেয়াল করার অনুরোধ রইলো।

আপনার লেখালেখির যাত্রা শুভ হোক, এই কামনা রইলো।

অসংখ্য ধন্যবাদ।
করেছেন (1,161 পয়েন্ট)   31 জানুয়ারি প্রতিক্রিয়া প্রদান

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


আর্তনাদ  এ আর্তনাদ  আমার নয় এ আর্তনাদ পাখির ডানা ঝরা শব্দ নিঃশব্দ বেদনার শিহরণ, কথা বলতে না পারা নিস্তব্ধ আত্মার। আতশবাজি শুরুর কোনো সুর নয় এ যেন অন্তিমের বিষণ্ন ক্রন্দন, এটি শিশুর নীরব হা�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
17 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

#নাস্তিক_ও_বিধর্মীদের_মিথ্যাচারের_জবাব  সিরিজ পর্ব-৩৯৯  সূর্য কি পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে?   মুতাসিম ফুয়াদ নামক একজন অজ্ঞ নাস্তিক নতুন আরেকটা কপি পেস্ট লেখা নিয়ে হাজির হয়েছে। এই লোকটা নিজের জ্�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1459 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    72 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    203 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    8 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. আল-মামুন রেজা

    105 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

...