#শর্ট_কাউন্টার_পোস্ট_by_muslim
সিরিজ পর্ব-৮০
এক ভাই আমাকে একটা থার্ড ক্লাস ভিডিও দেই। ভিডিওতে এক হুজুর লেকচার দিচ্ছে যে বাপের জন্মে দু- চোখ দিয়ে জীবনে শাস্ত্র পড়েছে কিনা সন্দেহ হয় আমার।
সেই হুজুর এর প্রতম দাবি, হিন্দু নাকি ধর্মের নাম না, সনাতন নাকি ধর্মের নাম।
এটা সম্পূর্ণ ভুল, হিন্দু শব্দটা শাস্ত্র সম্মত আর এটা তাদের পুরাণাদিতে পাওয়া যায়( দেখুন: ভবিষ্যপুরাণ, প্রতিসর্গ পর্ব-১/৫/৩৬) আর সনাতন কোনো ধর্মের নাম না বরং এটা হলো বৈদিক ইশ্বরের নাম ( ১০/৪/২২ ও ২৩ নং মন্ত্র).... ।
তারপর উক্ত হুজুর বলে যে " ঋগ্বেদ -১০/১১৪/৫ এতে নাকি বলা হয়েছে যে " একম ব্রহ্ম দ্বিতীয় নাস্তি কিঞ্চন.."
মজার ব্যাপার উক্ত রেফারেন্স এতে এরকম কিছুই নেই । বরং সেখানে বলা আছে
" । সে উৎকৃষ্ট স্বর্গীয় বরাহকে (২) সে অনূণবর্ণ, কপর্দী, দীপ্তিমান উজ্বলরূপধারীকে আমরা নমস্কার দ্বারা আহবান করি। তিনি হস্তে বরণীয় ভৈজষ ধারণ করে আমাদের সূখ, কর্ম ও গৃহ প্রদান করুন"( ঋগ্বেদ -১০/১১৪/৫ : রমেশচন্দ্র দত্ত অনুবাদকৃত বেদ)
আসলে এই হুজুর হয় তো জাকির নায়েক বা কোনো ফেসবুক কপি পেস্ট থেকে রেফারেন্স মুখস্থ করে চালিয়ে দিসে। রেফারেন্স টা চেকও করে নি সঠিক নাকি ভুল। আর চেক করবেই বা কি করে ও তো বেদ কখনো পড়েই নি.... রেফারেন্স চেক করবে তো দূরের কথা....
তারপরে একটা জাল শ্লোক বলে আর তা হলো
" লা ইলাহা হরতি পাপম্ ইল ইলাহা পরম পাদম
জন্ম বৈকুণ্ঠ অপ্ ইনুতি ত জপি নাম মুহাম্মদ "
এটা সমগ্র হিন্দু বৈদিক শাস্ত্র তো দূরে থাক পুরাণ শাস্ত্রেও এটার উল্লেখ নেই, এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট একটা মন্ত্র যেটা কোনো অজ্ঞ মূর্খ বানিয়েছে আরবি আর সংস্কৃত এক করে....
তো দু- মিনিট আমি হুজুরের বয়ান শুনি, আর বাকিটুকু শুনার রুচি হলো না...
এসব হুজুরের বয়ান আবার কিছু ব্রেনলেস শিয়ারও করে যা খুবই বিরক্তর......
আমি বলব আগে ধর্ম বিদ্যা পরতে তারপর তর্ক করতে....
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।