দেশটাতে প্রকৃত ধার্মিক মানুষের সংখ্যা খুবই কম। বরং নামে মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে—যাদের বড় অংশই নিয়মিত নামাজ তো দূরের কথা, শুক্রবারেও মসজিদে যায় না।
তবু আশ্চর্যের বিষয়, এই সমাজই ধীরে ধীরে ধর্মান্ধতা আর ন্যায়বিচারহীনতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আগে বিষয়টা এত স্পষ্ট বুঝতাম না। এখন বুঝছি—কারণ দেখছি, আমি যখন একা একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করছি, ঠিক তখনই অনেকে কোনো যাচাই ছাড়াই সেই হত্যাকাণ্ডের জন্য “আলহামদুলিল্লাহ” বলছে।
ইসলাম কখনোই এমন শিক্ষা দেয় না।
ময়মনসিংহের ভালুকায় সম্প্রতি এক ব্যক্তিকে নবীকে কটূক্তির অভিযোগে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে—এমন খবর প্রচারিত হয়েছে। অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা যাচাইয়ের আগেই যদি আমরা হত্যাকে বৈধতা দিই, তাহলে আমরা মানুষ হিসেবে কোথায় দাঁড়াই?
আমি শুরু থেকেই বলছি—যাচাই ছাড়া, আইন ছাড়া, জনতার হাতে কাউকে হত্যা করা ন্যায়বিচার নয়, বর্বরতা। এমন পরিস্থিতিতেও সর্বোচ্চ যা হতে পারে, তা হলো সামাজিকভাবে প্রতিবাদ করে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া। এর বাইরে যা কিছু, তা অন্যায় এবং অপরাধ।
দুঃখের বিষয়, আমার ফ্রেন্ড লিস্টেই এমন অনেকে আছেন, যারা কোনো বিষয় গভীরভাবে না জেনে, সত্যতা যাচাই না করে শুধু “আলহামদুলিল্লাহ” লিখে পোস্ট দেন।
আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ—নিজ দায়িত্বে আমাকে আনফ্রেন করে দিন।
এই ধরনের আচরণের কারণেই আমাদের ধর্ম সম্পর্কে অন্য ধর্মের মানুষের মনে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়। মুখে আমরা শান্তির ধর্মের কথা বলি, কিন্তু কাজে যদি উগ্রতা প্রকাশ পাই—তাহলে সে দাবি মূল্যহীন।
ধর্মের আগে মানুষ হওয়া জরুরি।
তবেই আমরা নামে মুসলিম নয়, প্রকৃত অর্থে ধার্মিক ও মুসলিম হতে পারব।
ন্যায়বিচারের আগে কিছুই নয়।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।