শাতিমে রাসূলকে কি* তাল করার দলীল
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
একজন দ্বীনি ভাই আরেক জন দ্বীনি ভাইয়ের একটা কমেন্টের ভিত্তিতে !" রাসূল অবমাননা এর শাস্তি মৃত্যুদন্ড এর দলীল চেয়েছে "। রাসূল সাঃ এর অবমাননাকারী এর শাস্তি যে মৃত্যুদন্ড এতে কোনো সন্দেহ নেই।ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর ইজমা‘ রয়েছে মর্মে উল্লেখ করেছেন (কুরতুবী, তাফসীর সূরা তওবা ১২ আয়াত ৮/৮২; বিস্তারিত দ্র. ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ), আছ-ছারেমুল মাসলূল ‘আলা শাতিমির রাসূল (ছাঃ)।
এখন আমরা হাদীস থেকে এর দলীল দেখব । দলীল -
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কা‘ব ইবনু আশরাফ কে হত্যা করার দায়িত্ব কে নিতে পারবে? আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলকে সে তো কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) তখন বললেন, আমি। পরে তিনি তার কাছে গিয়ে বললেন, আমরা তোমার কাছে এক ওয়াসাক অথবা বলেছেন, দু’ওয়াসাক (খাদ্য) ধার চাচ্ছি। সে বলল, তোমাদের মহিলাদেরকে আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, তুমি হলে আরবের সেরা সুন্দর ব্যক্তি। তোমার কাছে কিভাবে মহিলাদেরকে বন্ধক রাখতে পারি? সে বলল, তাহলে তোমাদের সন্তানদের আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, কিভাবে সন্তানদেরকে তোমার কাছে বন্ধক রাখি। পরে এই বলে তাদের নিন্দা করা হবে যে, দু’ এক ওয়াসাকের জন্য তারা বন্ধক ছিল, এটা আমাদের জন্য হবে বিরাট কলঙ্ক। তার চেয়ে বরং আমরা তোমার কাছে আমাদের অস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। রাবী সুফিয়ান (রহঃ) (আরবী) শব্দের অর্থ করেছেন অস্ত্র। তারপর তিনি তাকে পরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং (পরে এসে) তাঁরা তাকে হত্যা করলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন।
[ (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৫১০) বিস্তারিত জানতে পড়ুন, বুখারী -৪০৩৭ ]
এই হাদীস থেকে স্পষ্ট যে শা*তিমে রাসূলকে কি* তাল করা বৈধ। এই হাদীস থেকে আরেকটা বিষয় স্পষ্ট সেটা হলো নবী অবমাননাকারী জনগনও শাস্তি দিতে পারবে হোক সেটা কোনো কৌশলের মাধ্যমে। এখন অনেকে বলতে পারেন যে এই হাদীসে যেসব ব্যক্তিরা আশরাফকে হ* ত্যা করেছিল তারা নবীজির অনুমতি নিয়ে করেছিল, অতএব আমাদেরও সরাসরি হত্যা করার অনুমতি নেই বরং সরকার শাতি*মে রাসূলকে শাস্তি দিবে "। তো আমি এর জবাবে বলব যে -
" জনৈকা ইহূদী মহিলা রাসূল (ছাঃ) কে গালি দিত। তখন একজন তাকে হত্যা করলে রাসূল (ছাঃ) তার রক্তমূল্য দেননি (আবুদাউদ -৪৩৬২ / দুর্বল হাদীস)
এই হাদীস থেকে প্রমান পেয়ে যাচ্ছি যে নবীর অনুমতি ছাড়াও শাতি*মে রাসূলকে কি* তাল করা যাবে এতে কোনো সমাজ নেই।
এরকমও আরও হাদীস আছে যেগুলো প্রমাণ করে যে শাতি*মে রাসূলকে হ*ত্যা করা বৈধ।
তবে শরীয়াহ থাকলে আম মানুষের জন্য উচিত নয় কাওকে নিজে থেকে হ* ত্যা করা। তবে আমাদের বাংলাদেশে কোনো শরীয়াহ আইন নেই। আর আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি যে অনলাইনে অফলাইনে প্রতিনিয়ত নবীকে নিয়ে হিন্দু নাস্তিকরা কটু কথা বলে, সরকার তাদের কোনো শাস্তি প্রদান করে যে শাস্তির মাধ্যমে মুরতাদ নাপাকদের অন্তরআত্মা কেঁপে উঠবে। যেহেতু বাংলাদেশ সরকার এই মুহূর্তে শাতিমে রাসূলদের কোনো রকম মৃত্যুদন্ড শাস্তি প্রদান করে না যেটা শরীয়াহ করতে বলে এবং বার বার নবীকে কটুক্তি করার জন্য প্রকাশ্যে একজন শাতিমে রাসূলকে হ* ত্যা করার বিষয়টা আমি সমর্থন করি.... ।
মূলত নবীকে নিয়ে এত কটুক্তি করার পরও সরকার কঠোর শাস্তি না দেওয়ার কারণে আমরা যারা মুসলিম আছি তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছে এখন....
তবে হ্যা একটা বিষয় সমর্থন করি না সেটা হলো আগুনে পুড়িয়ে মারাটা, কেননা হাদীসে তা নিষেধ আছে ।
সমাপ্ত....
তথ্যসূত্র : মাসিক আত তাহরীক ২০২০ ডিসেম্বর , প্রশ্ন ( ৩৫/১১৫) ( আহলে হাদীস ওয়েবসাইট )
মুসলিম বাংলা, ১ মে ২০২৫, প্রশ্নঃ ১০১৩৯০. ( হানাফি ওয়েবসাইট )
[ উল্লেখ্য যে উত্তম হবে তাড়াহুড়ো করে কোনো কাজ না করা। কারো এলজনের কথাতে যদি যাকে তাকে শাতিমে রাসূল ট্যাগ দিয়ে আমরা হ* ত্যা করা শুরু করি তাহলে আমাদের নিজেরও শাস্তি পেতে হবে.... চূড়ান্ত ভাবে কোনো কিছু নিশ্চিত না হওয়া পযন্ত কোনো ফায়সালা করা যাবে না... ]
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।