আল্লাহর সাথে সম্পর্ক
হৃদয়ে যখন যখম হয় ,
আল্লাহ ছাড়া কে তোমার অন্তর সুস্থ করে তুলে ?
ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ের আহাজারি আর কার কাছে প্রাণ খুলে বলতে পারো ?
স্বার্থে টান লাগলে কিংবা কারোর মনঃপুত তুমি না হলে , তোমার প্রতি দয়ার আচরণ কয়জনের স্থির থাকে ?
দুনিয়ার সব কিছু কি ধোকার আর স্বার্থের সাথে যুক্ত নয় ?
এর বিপরীতে,
কেউ কি আছে রবের মতো তোমায় ভালোবাসে ?
সারাদিন অবাধ্য হবার পরেও কি তিনি তোমার রিজিক বন্ধ করেন ?
হাজার লক্ষ কোটি নিয়ামতের মধ্যে থেকে তুমি কি সেই নও যে,রবের অবাধ্যতা করে চলছো কোন ভয় ছাড়াই !
হে সীমালঙ্গনকারী নফস ,
তুমি কি সেই নও যে প্রতিটা মুহূর্ত রবের সামনে থেকে তাঁরই নাফরমানি করে যাচ্ছ এই ভেবে যে হয়ত রব দেখছেন না !
তুমি কি সেই নও ,যে রবকে ধোকা দিতে গিয়ে জাহান্নামকে পোক্ত করছে অথচ ভাবছো তুমি বড় চালাক !
তুমি কে ! কি করছ! কিসে ব্যস্ত রাখছো নিজেকে?
এই যে তোমায় বলছি ,
যে ভাবছ যা কিছু করি কেউ কিছু দেখছে না,কোনো কিছুর জবাবদিহিতা করতে হবে না !
হে আমার পাপাচারী বধির নফস ,
রবের কাছে আনুগত্যের শিকল কখন পড়বে !
ধোকার এই নেশার বেড়ি ছিঁড়ে চোখের জলে কখন বলবে, হে আমার রব "আমি ফিরেছি" ।
আমি ফিরছি যাতে আপনি আমার উপর রহম করুন।
কবে একটু খানি নিজেকে ভালোবাসবে ?
নিজের উপর কবে তোমার একটু খানি মায়া হবে ?
কবে..?
🔹2🔸
যাদের মন রবের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে , কেবল তাদের অন্তরই 'মৃত্যুর চিন্তা'য় আনন্দ পায় ।
মৃত্যু ছাড়া আর কি আছে যা প্রিয় রবের সাথে আপনাকে সাক্ষাত করাবে ?
বিপরীতে , নফসে যদি থাকে রবের প্রতি উদাসীনতা, অবাধ্যতা আর ঘৃণার দূর্গন্ধ ,
তার তো মৃত্যুর কথা শুনলে অন্তর ভয়ে কেঁপে উঠবেই।
ভালোবাসার ধর্মই হলো,
"যে যাকে ভালোবাসে সে তাঁকে পাওয়ার জন্য ব্যকুল থাকে ।"
আমাদের ভালোবাসা যা ঘিরে তা পাওয়ার জন্যই দিনে রাতে চেষ্টা করি ।
এখন নিজেই অন্তরে খোঁজ লাগাই , সে কোন ভালোবাসায় এটি পূর্ণ রেখেছে ।
মনে রাখবেন,
মৃত্যুই বিচ্ছেদ নয় বরং রবকে নিজের করে অনন্তকাল পাওয়ার পূর্ণতাও বটে ।
তাই , ভালোবাসাটা কেবল রবের তরেই জমুক।
আর মৃত্যুর মধ্যে পাক ভালোবাসার প্রশান্তিকর পূর্ণতা ।
🔻3▫️
দুনিয়ার থিউরি দিয়ে দুনিয়া দেখলে পদে পদে ধোঁকা খাবেন !
যদি দুনিয়াকে ঈমানের চশমায় দেখেন , তবে দেখবেন ধোঁকার সমুদ্রে আপনি কতভাবেই না ফেসে আছেন !
অন্যরা দুনিয়া যেভাবে দেখে সেভাবে আপনিও যদি দুনিয়া দেখেন তাহলে এই জাল থেকে নিজেকে কখনই ছাড়াতে পারবেন না!
যখন ঈমানের চোখ দিয়ে দুনিয়াতে চলবেন, দেখবেন আপনার মুচকি হাসিও সদকার নেকি নিয়ে আমাল নামা ভারী করছে ।
এর জন্য কেবল দরকার , প্রতিটি মূহুর্তে আখেরাত কামানোর ফিকির করা ।
সফলতার জন্য স্রেফ এতটুকুই যথেষ্ট ।।
লেখাক ঃআল মামুন রেজা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।