আমি কেন লেখক
---------------------------
ইসলামে লেখালেখি বা কলমের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি কেবল একটি শিল্প বা পেশা নয়, বরং এটি দ্বীন প্রচার, জ্ঞান সংরক্ষণ এবং সাদকায়ে জারিয়ার (চলমান দান) এক শক্তিশালী মাধ্যম।
১. কলমের মর্যাদা:
পবিত্র কুরআনে গুরুত্ব: মহান আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে কলম নিয়ে স্বতন্ত্র একটি সূরা নাযিল করেছেন— সূরা আল-কলম। সূরার শুরুতেই তিনি কলম ও তার লেখার শপথ করেছেন:
"নূন, শপথ কলম ও তার লেখার, যা তারা লিপিবদ্ধ করে।" (সূরা আল-কলম, ৬৮:১)
প্রথম ওহীর বার্তা: বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি বিশ্ব প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম যে ওহী নাযিল হয়েছিল, তার মধ্যে কলমের মাধ্যমে শিক্ষাদান করার কথা বলা হয়েছে:
"পড়, আর তোমার রব মহামহিম, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন।" (সূরা আল-আলাক, ৯৬:৩-৪)
২. জ্ঞান ও দ্বীন সংরক্ষণে লেখালেখি:
জ্ঞান সংরক্ষণ: লেখালেখি জ্ঞানের স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে। কুরআন-হাদীসের মূলনীতি থেকে শুরু করে ইসলামি আইনশাস্ত্র, ইতিহাস ও জ্ঞান-বিজ্ঞান— সবকিছুই লেখনীর মাধ্যমেই সংরক্ষিত হয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এসেছে।
দাওয়াত ও প্রচার: লেখালেখির মাধ্যমে খুব সহজে ইসলামের দাওয়াত (আহ্বান) ও সুন্দর বার্তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এটি মৌখিক দাওয়াতের চেয়েও বেশি স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।
৩. সদকায়ে জারিয়ার মাধ্যম:
মৃত্যুর পরেও নেকী: হাদীসে এসেছে, মানুষ মারা গেলে তার আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি কাজ চালু থাকে— সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। ইসলামের কল্যাণকর জ্ঞান নিয়ে লেখালেখি করা হলো এই 'এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষের উপকার হয়'-এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, একজন ভালো লেখক তার মৃত্যুর পরও তাঁর লেখার মাধ্যমে যত মানুষ উপকৃত হবে, তত নেকীর ভাগী হতে থাকবেন।
একজন মুসলিমের জন্য লেখালেখি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হতে পারে, যদি তা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার এবং মানবজাতির কল্যাণের উদ্দেশ্যে করা হয়। তাই সামর্থ্যবান ব্যক্তির উচিত সত্য ও সুন্দরের পথে মানুষকে আহ্বান জানাতে এবং জ্ঞান বিতরণে কলম ধরা।
যে কলমের শপথে শুরু হয়েছে ঐশী বার্তা, সেই কলম হাতে নিয়েছি সত্য ও কল্যাণের পথে। আর এভাবেই আমার পরিচয়— আমি একজন লেখক।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।