#তুলনামূলক_ধর্মতত্ত্ব_পড়া_শুরু_করবেন_যেভাবে_বেসিক_থেকে_এডভান্স
Author : © প্রিন্স ফ্রেরাসে
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
অনেকেই এখন তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব সম্পর্কে জানতে আগ্রহি। বিশেষ করে জেনারেল পড়ুয়া যুবক ভাইয়েরা এই দিকে আগ্রহ বেশি রাখে। আর মাদ্রাসার স্টুডেন্টরা কলেজ ভার্সিটিতে উঠে এই সম্পর্কে জানতে আগ্রহি হয়ে উঠে। নিজ ধর্ম শিখে অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহ আমার ক্লাস থ্রি থেকেই হয়েছিল। আমার প্রাইমারি স্কুল এতে একটা হিন্দু ছেলে আমাদের সাথে পড়ত। আমি তার " হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বইটা পড়তাম। তারপর একদিন দেখলাম যে আমার ধর্ম খন্ডের গাইড এতে বাকি তিন ধর্ম ( খ্রিষ্টান, হিন্দু , বৌদ্ধ ) সম্পর্কে হালকা- পাতলা আলোকপাত করা হয়েছে.... । আর আমার বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জানার সূত্রপাত প্রাইমারি লেভেল এতে ২০১৭ সালে ক্লাস থ্রিতেই হয়! । ক্লাস সেভেন এতে যখন উঠি তখন আর ওই স্কুল এর বই এতে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখি নি। আমি তখন অনলাইনে আর্টিকেল পড়া শুরু করি বিভিন্ন বিষয় সার্চ করে করে। আবার প্রচুর আ্যপ ডাউনলোড করি হিন্দু , বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য। ২০২০ সাল থেকে অনলাইন ও অফলাইনে এই বিষয়ে জানার আলাদা আগ্রহ চরমে উঠে। ২০২৩- ২০২৩-২৪ সাল এটা আমার চরম আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠে....। আর ২৩-২৪ এতেই আমি বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ হার্ডকপি কিনা শুরু করি। ২০২২ এতে এই লাইনে কাজ করা বিভিন্ন দ্বীনি ভাই এর সাথে আমার পরিচয় হয়। আমি সর্বপ্রথম ২০২২ এতে নেবুদা ভাই এর লেখার সাথে পরিচিত হয় এবং তার লেখাগুলো পড়ি। তখন ধর্মের পাশা- পাশি নাস্তিক্যবাদ, সংশয়বাদ, নারীবাদ এসব বিষয় এতে জানা শুরু করি.. । ২০২৩-২৫ এতে আমার জানার পরিধি ব্যাপক বিকশিত হয়। ২২ সাল থেকে বর্তমান ২৫ সাল জানুয়ারি পযন্ত সবচেয়ে বেশি বই পড়ি আমি। আজকে আমি আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের থেকে এই বিষয়টা লেখতে বসেছি। ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী। আমার লেখাটা এই বিষয় এতে ছোট গাইডলাইন হবে আশা করি আপনাদের জন্য ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
স্টেপ-১
সর্ব প্রথম তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পড়া শুরু করবেন আপনার নিজ ধর্ম দিয়ে। আমি মুসলিম এবং মুসলিম প্রতিনিধি, তাই আমি আমার মুসলিম ভাইদের উদ্দেশ্য করে বলব যে ইসলাম দিয়ে আগে শুরু করেন। স্টেপ ওয়ান হলো নিজ ধর্ম দিয়ে শুরু করা। এখন প্রশ্ন হলো কি বিষয় নিয়ে শুরু করবেন?
স্টেপ-২
আপনাকে শুরু করতে হবে কোরআন পড়া দিয়ে। আরবি উচ্চারণ + বাংলা অনুবাদ আগে পড়বেন। অনুবাদের জন্য মুজিবর রহমান বা বায়ান ফাউন্ডেশন এর বাংলা অনুবাদ দিয়ে শুরু করতে পারেন। আর ইংরেজি এর জন্য Sahih international পড়তে পারেন। কোরআন বাংলা অনুবাদসহ পড়ার পড় হাদীস এবং সীরাত পড়বেন। হাদীসের জন্য তাহকীকসহ বুলুগুল মারাম, রিয়াযুস সালেহীন, নববী ৪০ হাদীস দিয়ে ছোট পরিসরে পড়া শুরু করবেন। এই হাদীসের কিতাব দুটো শেষ করার পর সিহাহ সিত্তাহ পড়া শুরু করবেন এবং একই সাথে আকিদা পড়া শুরু করবেন। ব্যাসিক শিখার জন্য আমাদের মাধ্যমিক ক্লাস এর ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বই দিয়ে শুরু করতে পারেন। তারপর বাংলাদেশের আলেমদের বই পড়বেন। এই ক্ষেত্রে জাহাঙ্গীর স্যার ও হেমায়েতুল্লাহ এর ” কোরআন সুন্নাহ এর আলোকে ইসলামি আকিদা "( এটা সালাফি বই) এবং " ইসলামি আকিদা ও ভ্রান্ত মতবাদ"( এটা মাতুরিদি আকিদার বই / আমি বলব যে ভালো হবে যদি এটা না পড়েন বেশি আগ্রহ সহকারে....) বইটা পড়তে পারেন। এর সাথে বিশুদ্ধ আমল ও ইবাদত করার নিয়ম শেখার জন্য " রাহে বেলায়েত, আল আযকার, এহইয়াউসস সুনান বইগুলো পড়তে পারেন। তো এইগুলো পড়া হলে আপনি এডভান্স লেভেল এর জন্য বড় ইমামদের বই পড়বেন। এখানে শুরু করতে পারেন কিতাবুত তাওহীদ বইটা দিয়ে। তারপর পড়বেন আল ওয়াসিতিয়া যেটা ইমাম ইবনে তাইমিয়ার লেখা কিতাব। এছাড়াও ফাতওয়া হামাউয়্যাহ আল কুবরা এটাও পড়বেন। আকিদার উপর বেস্ট ও মারাত্মক একটা বই। এটা পড়ার পর পড়বেন, শারহু উসূলিল আস সুন্নাহ বইটা। বাংলাতে বিলিভার্স ভিশন পাবলিকেশন এর প্রকাশিত কপিটা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর আলহামদুলিল্লাহ আমার কাছে হার্ডকপি আছে। এছাড়াও " আল ইরশাদ" মাকতাবাতুস সুন্নাহ প্রকাশিত সলেহ ইবনে ফাউজান এর বইটাও পড়তে পারেন...। এরপর হানাফিদের বিশুদ্ধ আকিদা সম্পর্কে জানতে চাইলে শারহু আকিদাতুত ত্বহাবিয়া দু- খন্ডে মাকতাবাতুস সুন্নাহ থেকে প্রকাশিতটা পড়বেন। আর আল ফিকহুল আকবার খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার এর অনুবাদকৃত বইটা পড়বেন, যেটা সুন্নাহ পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত । আর আবু বকর যাকারিয়া স্যার এর বই, প্রবন্ধ বেশি বেশি পড়বেন। তার সম্পাদৃত লেখা গুলো বেশি বেশি পড়বেন। আর যদি পারেন তাহলে "কিতাবুল আরশ "এবং " রহমান আরশের উপর উঠেছেন " বই দুটো পড়তে পারেন।৷ আর অনলাইনে জাহাঙ্গীর স্যার, মানসুরে ইলাহি, মতিউর রহমান মাদানি, আবু বকর যাকারিয়া স্যার এদের বয়ান লেকচারগুলোও শুনবেন আশা করি। আপাতত এতটুকু পড়লেই হবে। এখন আসি সীরাত এর ব্যাপারে। ২৫ জন নবী রাসূল সম্পর্কে জানার জন্য " নবীদের কাহিনী " বই দু - খন্ড আগে পড়বেন, প্রফেসর আসাদুল্লাহ স্যার চমৎকার ভাবে বিশুদ্ধ রেওয়াত এর আলোকে তাদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। তারপর " সীরাতুর রাসূল সাঃ " আসাদুল্লাহ আল গালিব এই সীরাত বইটা পড়বেন। সীরাত এর জন্য বেস্ট তিনটা বই হলো
আর রাহিকুল মাখতুম( তাওহীদ পাবলিকেশন
মুহাম্মদ দা ফাইনলা ম্যাসেনজার ( গার্ডিয়ান পাবলিকেশন )
সীরাতে ইবনে হিশাম ( সাবাহ পাবলিকেশন )
আপনি অবশ্যই এই তিনটা বই পড়বেন, আর আমি যে প্রকাশনীরগুলো উল্লেখ করেছি ব্যাকেট এতে, সেই প্রকাশনিরটা পড়ার চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ । বিশেষ করে আর রাহিকুল মাখতুম তাওহীদ পাবলিকেশন এর টা পড়বেন। আর সিরাতে ইবনে হিশাম চার খন্ডে৷ সাবাহ পাবলিকেশন থেকে তাখরীজ তাহকিকসহ অনুবাদের হয়েছে, সেটা কিনার চেষ্টা করবেন। তো এখানে চারটা সীরাত এর নাম বললাম। এর বাহিরে সংক্ষিপ্ত রাসূল সাঃ এর জীবনির নানান দিক পড়তে চাইলে
মাআল মুস্তাফা ( গার্ডিয়ান প্রকাশনী)
বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ সাঃ ( গার্ডিয়ান প্রকাশনী )
মুহাম্মদ দা আল্টিমেট লিডার ( গার্ডিয়ান প্রকাশনী)
বি জিনিয়াস উইথ মুহাম্মদ সাঃ ( গার্ডিয়ান প্রকাশনী)
আফটার প্রফেট
এই বইগুলো পড়তে পারেন। এছাড়া ও অনেক সীরাত আছে, আপনার ভালো লাগা যে কোনো সীরাত পড়ুন।
এখানে একটা কথা বলে রাখি যে প্রতিদিন আপনার সময়টাকে ৪ ভাগে ভাগ করুন। প্রতি ভাগে দু- ঘন্টা করে রাখুন
সকাল ৫:৩০ থেকে ৭:৩০ পযন্ত কোরআন বাংলা অনুবাদসহ পড়ুন। তারপর ৮:৩০ থেকে ১০:৩০ পযন্ত আকিদার বই পড়ুন। ১১:৩০ থেকে ১:৩০ পযন্ত ইসলামিক ভালো লাগা কিছু বই পড়ুন, যেটা আপনার ভালো গালে।
১:৩০ থেকে ২:৩০ এতে গোসল এবং খাবার খেয়ে ২:৩০ এতে ঘুমাবেন এবং ৩ টার সময় উঠবেন। ৩০ মিনিট ঘুমানোর কারণে আপনার ব্রেন শক্তিশালী হয়ে উঠবে। যাইহোক ৩:১০ থেকে ৫:১০ এতে হাদীস পড়ুন ( নামাযও পইড়েন) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে নয়টা পযন্ত নিজের পড়া পড়ুন। তারপর ৩০ মিনিট বিরতি নিয়ে ১১ টা পযন্ত বা রাত ১২ টা পযন্ত অন্যান্য বিষয়গুলো পড়তে পারেন.....। আর যদি মন চাই তাহলে হালকা- পাতলা ফিকহ এড় বই পড়তে পারেন। যাইহোক ৬ মাস এরকম করে পড়লে ইসলাম সম্পর্কে আপনার যথেষ্ট নলেজ আসবে আশা করি। এর পর ২ মাস বিভিন্ন রাইটার এর লেখা পড়বেন। আরিফ আজাদ ভাই এর " প্যারাডাক্সিকাল সাজিদ -১ ও ২। " আরজ আলির সমীপে " বেলা ফুরাবার আগে, জীবনের পাঠ বইগুলো প্রথম লিস্টে রাখবেন। তারপর অন্যান্য বইগুলো পড়বেন। তারপর মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান মিনার, আরেফিন শক্তি, রাফান আহমেদ, মাসুদ ভাই এদের লেখার সংকলন " সত্যকথন " বইটা অবশ্যই পড়বেন। চারশো তো পর্ব নিয়ে সংকলিত এই বইটাতে ইসলাম বিরোধী ও নাস্তিকদের দাঁতভাঙা জবাব প্রদান করা হয়েছে... । এখন আমি আরও কতগুলো বই এর লিস্ট দিচ্ছি যেগুলো নাস্তিক ও বিধর্মীদের বিরুদ্ধে উথাপিত সংশয় ও প্রশ্নের জবাব দিবে।
বিশ্বাসের যৌত্তিকতা - রাফান আহমেদ
আকাশ দা বিলিভার - আল আমিন
অবিশ্বাসীর কাঠগড়ায় - রাফান আহমেদ
মৌলবাদী নাস্তিক - কাজি ম্যাক
দা গড হাইপোথিসিস - আসিফ মেহেদী
দ্যা মিথ অব ডারউইনিয়ান ইভ্যুলিশন - আসিফ মেহেদী
[ আসিফ মেহেদীর দুটো বই " বইটই " আ্যপ থেকে কিনতে হবে ]
আল মেহেদীর লেখা চারটা বই
আদমের আদি উৎস
সৃষ্টি ও স্রস্টার রহস্য
ইশ্বর ও মানুষের গল্প
জ্বীনের আদি উৎস
[ আশা করি আল মেহেদী ভাই এর লেখা পিডিএফ গুলো নিজেরাই খুজে বাহির করতে পারবেন, আর না হলে রকমারি ডট কম থেকে ক্রয় করতে পারেন ]
ডাবল স্ট্যাান্ডার্ড ( সবগুলো খন্ড) - শামসুল আরেফিন শক্তি
সৎবিৎ - জাকারিয়া মাসুদ
সংশয়বাদী _ ড্যানিয়েল হাকিকাতযু
অভিশপ্ত রংধনু - আসিফ আদনান
হিউমান বিয়িং- ইফতেখার সিফাত
কথিত আহলে কোরআনদের দাবি খন্ডন ও সলশয় নিরসন- মুফতি আব্দুল্লাহ হাসান কাশেমী
ইসলামে দাস - দাসি ব্যবস্থা - শামসুল আরেফিন শক্তি
হোমো স্যাপিয়েন্স - রাফান আহমেদ
জবাব -১ ও ২
তো এইসব বইগুলো পড়তে পারেন। পাশাপাশি আরিফ আজাদ, শামসুল আরেফিন শক্তি, মুশফিকুর রহমান মিনার, জাকারিয়া মাসুদ, খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার, শিহাব আহমদের তুহিন, তোয়াহা আকবর, তানভীর আহমেদ, আশিক আরমান নিলয়, শিহাব আহমেদ তুহিন সহ অন্যান্য লেখকদের বইগুলো নিজরাই বেশি বেশি পড়বেন। এতে করে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অনেক নলেজ অর্জন করবেন ইনশাআল্লাহ । আর যদি আর্টিকেল পড়তে চান তাহলে নেবুদা ভাই ( Nebuda Khan IV ) তাহসিন আরাফান ভাই( Tahsin Arafat ) , Ashraful Nafiz ভাই, ইফ্তে খায়রুল ভাই আন নাজমুস সাকিব ভাইয়া এদের লেখাগুলো ফ্রম মুসলিম, Islamic Authors,মুসলিম পয়েন্ট ওয়েবসাইট এতে পড়তে পারেন... । আর আমার প্রিন্স ফ্রেরাসে আইডিগুলোতেও বিভিন্ন সিরিজ পর্ব ভিত্তিক লেখা আছে সেগুলোও পড়তে পারেন ইনশাআল্লাহ । এছাড়াও আমার সম বয়সী Foto Fig ভাই ও অনেক জ্ঞানী মাশাল্লাহ এবং তারও লেখা ফেসবুকে আছে সেগুলোও পড়তে পারেন..... । তো এইভাবে ৬-৮ মাস বা এক বছরে আশা করি আপনি এই সব বই ও লেখকদের বই পড়ে, পাশাপাশি অন্যান্য লেখদের বই পড়ে ইসলাম সম্পর্কে প্রচুর নলেজ পাবেন ইনশাআল্লাহ যা দিয়ে আপনি ইসলামকে ডিফেন্স করতে পারবেন এবং মোটামুটি নাস্তিক ও বিধর্মীদের জবাব দিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ । তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব শিখার আগে নিজের ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা বেশি প্রয়োজন কেননা ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন ফেরকার বিভিন্ন অভিযোগ । তাই নিজ ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার পর আপনি অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে হাত দিবেন আশা করি.... ।
এখন আসি তৃতীয় পয়েন্ট এতে।
ইসলাম এর বেসিক ক্লিয়ার হলে আমরা চলে যাবো বাকি ধর্মের দিকে৷ আপনি যখন ইসলাম সম্পর্কে মোটামুটি জানতে পারবেন তখন অন্যান্য ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থতে হাত দিবেন। আপনি হিন্দু ধর্ম শুরু করবেন বেদ সংহিতা দিয়ে। এর কয়েকটা অনুবাদ আছে, আপনি এর মধ্যে হরফ প্রকাশনীর বেদ সেটটা কিনতে পারেন, ১৫০০ টাকা হলেই পেয়ে যাবেন। হরফ প্রকাশনীর ঋগ্বেদ অনুবাদক রমেশচন্দ্র দত্ত। এছাড়াও পরিতোষ ঠাকুর এবং বিজন বিহারী গোস্বামী হরফ প্রকাশনীর বেদ অনুবাদ ও সম্পাদনার কাজ করেছেন। বেশির ভাগ মুসলিমরা এই হরফ প্রকাশনীর বেদটাই কিনে থাকে। তাছাড়া মাইতি বুক হাউস থেকে প্রকাশিত বেদ সমগ্র অখন্ডটাও নিতে পারেন, যার কাজ সম্পাদনা করেছেন শ্রী মধুসূদন । এ ছাড়াও বাংলাতে অনুবাদ করা অলোক কুমার সেনের বেদও জনপ্রিয় , যেটার প্রকাশিত হয়েছে নারায়ণ পুস্তকালয় থেকে। এগুলোর দাম ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা হলেই পেয়ে যাবেন। তাছাড়া তারকানাথ অধিকারী এর বেদগ্রন্থমালাও ভালো হবে। আর হিন্দুদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য অনুবাদ বলা হয় দূর্গাদাস লাহিড়ীর অনুবাদকৃত বেদকে। যাইহোক আপনারা যে কোনো একটা কিনে পড়তে পারেন। তবে বাজেট কম হলে হরফ প্রকাশনীরটাই কিনে পড়ুন.... । তো আপনি বেদ পড়ার আগে বেদ পড়ার সময় বেদ বুঝতে সহায়ক গ্রন্থ হিসাবে কোনো বই পড়ে নিবেন। আমি বলব " বেদ রহস্য -১ ও ২ য় খন্ড,শ্রীঅরবিন্দ এবং যোগীরাজ বসুর ' বেদের পরিচয় ' বইটা পড়তে পারেন। এতে করে বেদের সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন মোটামুটি । তো হিন্দুদের বেদ পড়া শেষ হলে মহাভারত, বাল্মিকি রামায়ণ , মনুসংহিতা এসব পড়তে পারেন। আর পুরাণ পড়তে চাইলে পুরাণ সমগ্র কিনে পড়বেন, এতে ১৮ পুরাণ এর কাহিনি সংক্ষিপ্ত আকারে বুঝতে পারবেন। আর বাজারে পুরাণ সমগ্র পাওয়া যায়, সে পুরাণ সমগ্র কিনে পড়বেন। যে কোনো এক প্রকাশনীরটা নিলে চলবে। তো এগুলো প্রাথমিক অবস্থায় পড়ার সময় আরও দুটো গুরুত্বপূর্ণ বই পড়তে পারেন
১. হিন্দু ধর্মের সারতত্ত্ব ( ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ)
২. হিন্দু শাস্ত্র পরিচয় ( স্বামী অরুনানন্দ)
এই দুটো বই পড়লে হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু শাস্ত্রীও কিতাব সম্পর্কে মোটামোটি একটা ভালো ধারণা পাবেন আশা করি। তারপর আপনি বেদাঙ্গ, ষড় দর্শন সহ অন্যান্য হিন্দু মতবাদ এর এডভান্স লেভেল নলেজ এর জন্য পড়বেন। তো এই রকম করে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত ও ভালো পরিচয় লাভ করবেন। এখন আসি খ্রিষ্টান ধর্ম সম্পর্কে । এই ধর্ম জানার জন্য প্রধান গ্রন্থ " বাইবেল " পড়াই যথেষ্ট । বাইবেল সোসাইটি প্রকাশিত বাইবেল কিনে পড়তে পারেন। আর বাইবেলের বিভিন্ন ভুল ও খ্রিষ্টানদের মতবাদ খন্ডন এর জন্য " বাইবেল পরিচিত ও পর্যালোচনা বইটা পড়তে পারেন, এটা জাহাঙ্গীর স্যার এর লেখা। এছাড়াও ব্রাদার রাহুল এর লেখা " বড়দিনের উপহার বইটাও চমৎকার "। আর হ্যা, আমি বলব যে খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন বিষয় শক্ত হাতে দমন করার জন্য " ইযহারুল হক "( তিন খন্ডে সমাপ্ত ) বইটা অবশ্যই অবশ্যই পড়বেন। এই বইটা পড়লে আলাদা করে অন্য কোনো বই পড়ার প্রয়োজন হবে বলে মনে হয় না... । তাছাড়া অন্যান্য লেখক এর বই মন চাইলে পড়তে পারেন। তারপর বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য প্রথমে ত্রিপিটক সার সমগ্র পড়তে পারেন, এটা জয়ন্তী চট্রোপাধ্যায় এর সংকলিত.... । মূল ত্রিপিটক অনেকগুলো ( প্রায় ২০ থেকে ২৫ খন্ডে সমাপ্ত মূল বাংলা অনুবাদ) খন্ডে সমাপ্ত । তাই ওটা পরে ধীরে ধীরে এক খন্ড করে কিনে কিনে পইড়েন। এছাড়াও গৌতম বুদ্ধের ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য হরিপ্রসাদ শাস্ত্রী এর বই পড়তে পারেন। অন্যান্য লেখক এর বইও আছে তা পড়ে দেখতে পারেন। শিখ ধর্মের ধর্মগ্রন্থও বাংলা অনুবাদ আছে, সেটা অনলাইনে পেয়ে যাবেন, কিনে পড়তে পারেন.... । আর বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য "তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব " নামে বেলাল হোসেন এর লেখা বইটা পড়তে পারেন, এটা বাংলা ভাষা- ভাষীদের কাছে অনেক জনপ্রিয় একটা বই বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য। এছাড়াও
হিন্দু , বৌদ্ধ , জৈন, শিখ ( জিয়াউর রহমান আজমি)
কিতাবুল মুকাদ্দাস, ইন্জিল শরীফ ও ইসায়ি ধর্ম ( খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর )
খ্রিষ্টবাদ বিকৃত তথ্য প্রমান ( মাওলানা আব্দুল মতিন)
আবুল হোসেন ভট্টাচার্য এর চারটা বই -
দ্বীন ধর্ম রিলিজিয়ন
আমি কেন ইসলাম গ্রহণ করলাম
আমি কেন খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করলাম না
মূর্তিপূজার গোড়ার কথা
বইগুলো পড়তে পারেন
[ আবুল হোসেন ভট্টাচার্য একজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত ছিলেন, পরবর্তীতে মুসলিম হোন তিনি, তিনি মারা গিয়েছেন... আল্লাহ তাকে জান্নাতুন ফেরদৌস দান করুক আমিন, আমিন, সুম্মা আমিন ]
Muhammad Al Ibrahim এর " অন্বেষণ " বইটা পড়বেন
[ অন্বেষণ বইটা উপন্যাস আকারে লেখা। গল্পের মাধ্যমে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব যদি শিখতে চান এবং প্রধান চার ধর্মের থেকে কোন ধর্ম সত্য এটা যদি জানতে চান তাহলে ইব্রাহিম ভাইয়ের " দু খন্ডের অন্বেষণ " বইটা অবশ্যই পড়বেন ইনশাআল্লাহ ]
নাস্তিকদের যুক্তি খন্ডন - মুহাম্মদ সিদ্দিক
খ্রিষ্ট ধর্ম বিকৃতির ইতিহাস - তাকি উসমানি
দি চয়েস - আহমেদ দিদাত
এই বইগুলে পড়তে পারেন । এছাড়াও জাকির নায়েক এর লেকচার সমগ্র পড়েও অনেক কিছু জানতে এবং শিখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ ..... ।
আমি সংক্ষিপ্ত আকারে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব জানার ও বুঝার জন্য এই ছোট গাইডলাইন আপনাদের দিলাম। জ্ঞানীজনদের কাছ থেকে এই বিষয় এতে বিস্তারিত জেনে নিবেন আশা করি।
আর আমার জন্যও দোয়া করবেন ইনশাআল্লাহ
আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি ইলম অর্জনের তৌফিক দান করুক, আমিন, আমিন, সুম্মা আমিন।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন,
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️ by প্রিন্স ফ্রেরাসে
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
জাযাকাল্লাহ খাইরান
[ পোস্ট এতে বলা বইগুলোর pdf পেয়ে যাবেন আমার টেলিগ্রাম চ্যানেল এতে। লিংক -
https://t.me/frerase
আপাতত খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ এর " বাইবেল পরিচিতি ও পর্যালোচনা " বইটা দিয়ে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব সম্পর্কে পড়া শুরু করতে পারেন। তার বইয়ের টেলিগ্রাম pdf লিংক
https://t.me/frerase/272?single ]
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।