বিভিন্ন ধর্মে পর্দার বিধান
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
এক নজরে পয়েন্ট
* ইহুদি ধর্মে পর্দার বিধান
* বৌদ্ধ ধর্মে পর্দার বিধান
* খিষ্টান ধর্মে পর্দার বিধান
* হিন্দু ধর্মে পর্দার বিধান
* ইসলাম ধর্মে পর্দার বিধান
*নাস্তিকরা কেন পর্দা করবে?
* পর্দা এর উপকারিতা
* পর্দা কি ধর্ষণ থেকে বাঁচার মাধ্যম??
ইহুদি ধর্মে পর্দার বিধান
_____________________
আমরা চলে যাবো বাইবেলের
ওল্ড টেস্টামেন্টে। যেখানে বলা হয়েছে
" আর বিবিকা যখন ইসহাককে দেখিলেন, তখন উট হতে নেমে দাসকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদের সাথে দেখা করতে যে আসতেছেন, ঐ পুরুষ কে? দাস বললো, উনি আমার কর্তা। তখন বিবিকা অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে নিজেকে ঢেকে নিলেন"(আদি পুস্তকঃ অধ্যায়-২৪/ পদ-৬৪-৬৫ )
[ উল্লেখ্য বাইবেলের পুরাতন নিয়মের প্রথম পাঁচটি বই হলো ইহুদিদের তোরাহ ]
এখানে সুন্দর ভাবেই নারীর পর্দার কথা পাচ্ছি আমরা। যখন নারী পুরুষের সামনে যাবে তখন অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে নিজেকে আবতিত করবে। অর্থাৎ পর্দা করবে।
বৌদ্ধ ধর্মে পর্দার বিধান
_______________________
" যাহাতে উদর, পেট ও স্তন দেখা না যায় সেইরূপভাবে বস্ত্র পরিধান করিবে ও গায়ে দিবে। সর্বদা পরিষ্কার বস্ত্র ব্যবহার করিবে। পুরুষ সম্মুখে চুল আঁচড়াইবেনা, এবং উকুন ধরিবেনা।' ( গৃহীনীতি পর্ব: নারীদের কর্তব্য: ২৫৪ পৃষ্ঠা )
আশা করি ব্যাখ্যা করে মানে বুঝিয়ে দিতে হবে না
খ্রিষ্টান ধর্মে পর্দার বিধান
______________________
"কোন মহিলা মাথা ঢেকে না রাখলে তার মাথার চুল কামিয়ে দিতে হবে। যদি কোন মহিলার জন্য তার মাথার চুল কামিয়ে ফেলা অপমানজনক মনে হয় তাহলে সে যেন তার মাথা ঢেকে রাখে"( ১ করিন্থিয়ান্সঃ অধ্যায় -১১/পদ- ৫)
* এছাড়াও পুরাতন নিয়ম এর
আদি পুস্তকঃ অধ্যায়-২৪/ পদ-৬৪-৬৫ শ্লোকটাও কার্যকর হবে খ্রিষ্টানদের উপর কারণ পুরাতন নিয়মও খ্রিষ্টানদের মানতে হবে ( মথি-৫/১৭-১৯)
হিন্দু ধর্মে পর্দার বিধান
_____________________
তুমি অধোদেশ নিরীক্ষণ কর না, উধর্বদেশ নিরীক্ষণ করো না, পাদদয় সংশ্লিষ্টা করো অবয়ব (শরীর) গোপন করো যেহেতু তুমি নারী হয়েছো।
( ঋগ্বেদঃ মন্ডল-৮/সুক্ত-৩৩/মন্ত্র -১)
একটা বার চিন্তা করুন। হিন্দু ধর্মে সুস্পষ্ট ভাবে পর্দার কথা বলা হয়েছে তবুও কোনো হিন্দু নারীকে আজ পযন্ত দেখলাম না নিজের সারা শরীল ঢেকে রাখতে।
এখন আমি আপনাদের একটা বিধান এর কথা বলি। কোনো নারী যদি এখন থেকে পর্দা না করে তাহলে তার কেল্লাফতে ( সামবেদ-১৯৪) কারণ বেদের আইন না মানলে সে নাস্তিক ( মনুসংহিতা ২/১১)
তো আপনার কি মনে হয় কোনো হিন্দু নারী কি তাদের ধর্মগ্রন্থ অনুসারে স্বর্গে যেতে পারবে???
ইসলামে পর্দার বিধান
___________________
ইসলামের অনুসারি নারীদের পর্দা করতে হবে -
*সূরা আহযাব-৫৯
* তিরমিজি-১১৭৩
*যারা পর্দা না করে তারা নিকৃষ্ট ( বায়হাকী-১৩২৫৬)
* যারা পর্দা করে না তাদের উপর রাসূল সাঃ এর লানত ( আবু দাউদ-৪০৯৭)
* কিয়ামতের আগে এক শ্রেণির নারীর আবির্ভাব হবে যারা পর্দা করবে না আর এরা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না ( মুসলিম-৫৪৪৫)
* যে পুরুষ তার অধীনস্থ নারীকে পর্দাই রাখে না সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না ; আর যে নারী পুরুষের ন্যায় চলাফেরা করে সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে না ( মুসতাদরাকুল হাকিম-২৪৪)
নাস্তিক মেয়েরা কেন পর্দা করবে???
_______________________
আমি মনে করি প্রত্যেক মেয়ের পর্দা করা উচিত। সেটা হোক নাস্তিক অথবা আস্তিক। একজন নারীর কাছে সবচেয়ে অমূল্যবান সম্পদ হলো তার ইজ্জত । নারীর দেহ হলো তার সম্মানের কেন্দ্রবিন্দু। একজন পতিতা সেও কিন্তু দিনের বেলায় নিজেকে আবৃত রাখে পোষাক এর মাধ্যমে কারণ সেও জানে শালীন পোষাক ব্যাতিত এই সমাজ তাকে থুথু দিবে। নারীরা হলো মূল্যবান রত্নের মতো। মুক্তা যেমন মূল্যবান যার কারণে সে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকে সে রকম করে নারীও মূল্যবান যার কারণে তার উচিত নিজের সম্মান রক্ষা করা।
যারা হিজাব করে মাল তাদের বলে না বরং যারা হিজাব করে না মাল তাদের বলে। পুকুরের পানিও পানি আর টাঙ্কির পানিও পানি। পুকুরের পানি দিয়ে সবাই নিজের শরীল গোসল এর মাধ্যমে পরিষ্কার করে কিন্তু কেও তা পান করে না বরং ট্যাঙ্কির দূষণ মুক্ত পানিটাকেই সবাই নিজের তৃষ্ণা মিটাতে পান করে। ওইরকমভাবে যে নারী পর্দা করে না সেও নারী আর যে নারী পর্দা করে সেও নারী তবুও এদের মধ্যে পার্থক্য আছে। কিছু কুলাঙ্গার পুরুষ নিজের যৌবনের চাহিদা মিটানোর জন্য পর্দাহীন মেয়েগুলোকে নিজের কামভাব দূর করার জন্য ব্যবহার করবে কিন্তু কেও নিজের জীবনসঙ্গী করবে না বরং তারাও হিজাবি ও পবিত্র নারীই খুঁজবে। পর্দাহীন নারীর দাম কিছু সময়ের জন্য পুরুষের কাছে বাড়ে আর একজন পর্দাবান নারীর মর্যাদা মৃত্যু পযন্ত থাকে। তো নাস্তিকবাদী নারীগুলোর কাছে প্রশ্ন
" যারা জীবন সম্মান ও দাম নিয়ে বাঁচতে চান নাকি কিছু সময়ের জন্য নিজের যৌবন...... এর কামনার কারণে বাঁচতে চান??? যদি কিছু সময় এর জন্য মূল্যবান হয়ে থাকতে চান তাহলে পর্দা করবেন না আর যদি সারা জীবন মূল্যবান হয়ে থাকতে চান তাহলে আশা করি পর্দা করবেন।
পর্দা এর উপকারিতা
_________________
বর্তমান সময়ে চারদিকের পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দূষিত হচ্ছে । দূষিত পরিবেশ আমাদেরকে বিভিন্ন ক্ষতির সামনে দাড় করাচ্ছে । বিশেষ করে নারীদের; কারণ তারা বাহিরে কাজে যাচ্ছে পরিবাহের হাল ধরার জন্য। নারীর গায়ের স্কিন পুরুষের গায়ের মতো পুরু না বরং পাতলা। যার কারণে বাহিরের তাপ তাদেরকে বেশি কষ্ট দিয়ে থাকে অতিরিক্ত রোদ্রে থাকার কারণে সূর্যের আলোতে থাকা বেগুনি রশ্মি নারীর শরীলে ক্যানসার কোষ সৃষ্টি করতে পারে যেটা পরবর্তীতে ক্যানসারে আক্রান্ত করবে হয় তো। তো এটার থেকে বাঁচার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পর্দা করা। এছাড়াও শরীলে সূর্যের তাপ বেশি লাগলে মেলানিন এর মাত্রা বেড়ে যায় যেটা আমাদের গায়ের রং কালো করে দেই। তো নারীরা নিজেদের পর্দার মাধ্যমে রক্ষা করতে পারবে। এছাড়াও শীতের দিনে নিজের শরীলকে গরম রাখার জন্য সহজে কালো কাপড় এর পর্দা করতে পারেন কারণ কালো কাপড় তাপ শোষণ করে। আর গরমের দিনে সাদা বোরকা পড়তে পারেন এতে গরম কম লাগবে কারণ সাদা রং তাপ অনেক কম মাত্রাই শোষণ করে। পর্দাই থাকার কারণে শরীলের লোম কূপে ধোলা- বালি প্রবেশ করতে পারে না যার কারণে আপনার স্কিন এর তেমন কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়াও পর্দার জন্য মাথাও ঢাকা থাকে যার কারণে চুলের মধ্যে অধিক ধ..... প্রবেশ করতে পারে না, যার কারণে চুল থাকবে হেলথ্ দি।
পর্দা কি ধর্ষণ থেকে বাঁচার মাধ্যম???
________________________
আমি এই ব্যাপারে আপাতত কিছু বলব না। আপনাদের একটা পরীক্ষার কথা বলব। Apply করে দেখতে পারেন।
" আমরা ছেলেরা যতই শয়তান হয় না কেন আর নারীদের দেখলে তাকিয়ে থাকিনা কেন স্কুল এর গেটের সামনে... । আপনি যদি প্রথম দিন স্কুল এর প্রধান চৌকাঠ দিয়ে স্কুলে উলঙ্গ অবস্থায় প্রবেশ করেন তাহলে দেখবেন যে সবাই চোখ সড়িয়ে নিয়েছে আপনার শরীলের উপর থেকে ; আবার একই ভাবে দ্বিতীয় দিন অর্ধনগ্ন পোষাক পড়ে যাবেন সেদিন রাস্তার কুকুরেও আপনার উপর তাকিয়ে থাকবে। মুরুব্বিরাও নিজের লুঙ্গি ঠিক করবে আর আমার মতো কিশোর তরুনরা মুখ দিয়ে লালা বাহির করে চোখ দিয়ে আপনাকে চিবিয়ে খাবে;
তৃতীয় দিন আপনি সম্পূর্ণ শরীল কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে স্কুলে যাবেন। যখন বাড়ি থেকে বাহির হবে তখন দেখবেন রাস্তার পাশে থাকা যেসব ছেলে মেয়ে দেখলে মাল বলে তারাও চোখ নিচু করে ফেলবে। যখন আপনি বাসে উঠবেন তখন কোনো পুরুষ হয় তো নিজ ছিট থেকে উঠে আপনাকে বসতে দেবে। স্কুল ( আপনি কলেজ ভার্সিটি একটা ধরুন, আমি মাধ্যমিক এর ছাত্র তাই.... ) এতে প্রবেশ করার সময় দেখবেন সবাই আপনাকে Respect করছে।
প্রথম দিন উলঙ্গ হয়ে গেলেন সবাই চোখ সড়িয়ে নিলো দ্বিতীয় দিন অর্ধ উলঙ্গ হয়ে গেলেন সবাই হা করে তাকিয়ে থাকল আর তৃতীয় দিন পর্দা করে গেলেন সবাই রেসপেক্ট করল। এটাই পর্দার পাওয়ার বোন।
এখন আসি এরকম কেন গঠে।
আমাদের ব্রেণের দুটো ভাগ
১. চেতন মন
২. অবচেতন মন
আমরা কনসেস মাইন্ড দিয়ে যতই বাজে বা ভালো কাজ করি না কেন বিপরীত এতে আমাদের সাব- কনসেস মাইন্ড শৈশব কাল থেকে সমাজের মধ্যে ধর্মীও কিছু বিশেষ শিক্ষার কারণে তার সাব- কনসেস মাইন্ড এতে সেটা গেথে যায়। অর্ধ উলঙ্গ মেয়ে দেখলে আমাদের ছেলের কনসাস মাইন্ড আমাদের আশে- পাশে থাকা মানুষদের দেখে নিজের মধ্যেও ডেটা সিগন্যাল ইনপুট করে৷ আপনার ব্রেণ কনসাসলি ভাবে খারাপ এর প্রতি একটা আলাদা রেসপন্স করলেও ডোপামিন হরমোন এর নিঃসরণ এর কারণে সেটা হঠাৎ কোনো ঘটনার প্রতি রেসপন্স করে না ; নিজের মা বোনকে সবাই সম্মান করে ওই রকম ভাবে অন্য মেয়েকেও রেসপেক্ট করে যদি সে হিজাব এতে থাকে ( কোনো অচেনা নারী) । সাব কনসাস মাইন্ড সব সবই ওই ডেটা গুলোকে গ্রহণ করে যেগুলো আপনার মধ্যে ইউনিক জিনিস এর প্রতি পজেটিভ থাকে। শেশব কাল থেকে যেহেতু দেখে আসছেন পর্দা করা নারীর উপর একটা সমাজ আলাদা দৃষ্টি কোণ রাখে তাই আপনিও আপনার সাব - কনসেস মাইন্ড এর কমান্ডে নিজের অজান্তে পড়দাশীল নারীকে রেসপেক্ট করবেন। কেন করবেন নিজেও বুঝতে পারবেন না।
বিস্তারিত এখন এই বিষয়ে আর লেখছি না। অন্য কোনো দিন ভালো লাগলে লেখব ইনশাআল্লাহ
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমেঃ মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।