Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

eID: #3453 এর সম্পাদনার ইতিহাস

মূল লেখায় ফিরে যান

বর্তমান ভার্সনসম্পাদনা 15 ফেব্রুয়ারি করেছেন শামীমা আকতার

ভোট ও শক্ত হাতের গল্প


ভোট ও শক্ত হাতের গল্প
শামীমা আকতার

প্রথমজন আঙুল ইশারা করে বললেন, “দে, একটু দিয়ে দে।”

দ্বিতীয়জন, “একটু বলে দে না, কোথায় দিব?”

আর একজন বললেন, “এগুলো দিয়ে কী করব?”

বলছিলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা সারাদিন কাজের চাপে নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় পাননি। কারো খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত হয়নি। ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার যখন রেজাল্ট প্রস্তুত করছিলেন, তখন কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ ভোটারদের আচরণ নিয়ে হাসাহাসি করছিলেন।

কেন্দ্রটি ছিল মহিলা ভোটারদের। এ কেন্দ্রে আমি ও একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার । কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে চিন্তামুক্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব সম্পন্ন করলেও সারাদিন ভোটারদের অনভিজ্ঞতার কারণে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পুরুষ ভোটকেন্দ্রে সাধারণত এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।

একজন ভোটার বলেই বসলেন, “তোঁয়ারারে বোয়াইয়ি কিল্লায়, যদি আঁরারে কিছু হয় ন দ!” প্রায় সবার হাতেই এনআইডি কার্ড ও প্রার্থীদের দেওয়া ভোটার নম্বরের সাথে একটি কাপড়ের শপিং ব্যাগ। শপিং ব্যাগ কেন আনলেন, ঠিক বুঝা গেল না। এ জিনিসগুলো নিয়ে তাঁদের দিশেহারা অবস্থা। বেশিরভাগ ভোটারই সবকিছু বাম হাতে রেখেছিলেন, ফলে অমোচনীয় কালি দেওয়া ও টিপসই নিতে সমস্যা হচ্ছিল। কেউ কেউ আবার ব্যালট বাক্সে এনআইডি কার্ড দিয়ে দিয়েছেন।

কাউকে কাউকে বারবার বলেও গোপন কক্ষে ঢোকানো যাচ্ছিল না। ঢুকলেও সেখান থেকে আবার ডাকাডাকি শুরু—
“এক্কানা হয় দেছো না কেনে দিয়ুম? হন্ডে সিল মাজ্জোম!”
আবার কখনো দু’জন একসাথে একটি গোপন কক্ষে ঢুকে যাচ্ছিলেন। গণভোটের ব্যালট নিয়ে সবার বিভ্রান্তি আরও বেশি ছিল। কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছিল না—কাকে ভোট দেবেন, সেটা তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত; এ বিষয়ে আমাদের বলার কোনো এখতিয়ার নেই। কখন যে প্রমিত, সাধু, চলিত সব ভাষা ভুলে আঞ্চলিক ভাষায় ফিরে গিয়েছি, নিজেই বুঝতে পারিনি। যাক, এ সুযোগে দীর্ঘদিন পর আদি অকৃত্রিম পৈত্রিক ভাষার চর্চাটা হয়ে গেল।

সবার হাসাহাসিতে আমি যোগ দিতে পারছিলাম না। ব্যাপারটা সত্যিই ভাববার বিষয়। কেন এমন হবে? অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল না—এটা কোনো সিটি ভোটকেন্দ্র। ভোটারদের বেশিরভাগই ছিলেন মধ্যবয়সী ও বয়স্ক নারী।

বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাঁদের এভাবে পিছিয়ে রেখে আদৌ কি দেশের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সম্ভব? কেউ কেউ আবার বলে বসলেন, “মহিলারা কম বুঝেন।” আসলেই কি মহিলারা কম বুঝেন? নাকি তাঁদের বুঝতে দেওয়া হয় না?

কোন দল ক্ষমতায় এল, কোন দল পরাজিত হলো কিংবা কোন দল ক্ষমতাচ্যুত হলো—এসব কি তাঁদের কাছে  কোনো অর্থ বহন করে? তাঁরা কি জুলাই সনদ বোঝেন? গণভোট কী, সেটাও কি জানেন? ভোটাধিকার প্রয়োগ—সেটা ও কি সত্যিকার অর্থে নিজের ইচ্ছায়? পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিজেদের প্রার্থীদের জেতানোর জন্য তাঁদের ভোটকেন্দ্রে পাঠিয়েছেন, কিন্তু পাঁচ মিনিট বসিয়ে সবকিছু বুঝিয়ে বলার যোগ্য মনে করেননি।

প্রায় প্রত্যেকের হাতেই আলগা আস্তরন পড়েছে; শক্ত হাত ফেটে চৌচির, কারো নখ আস্ত নেই। টিপসই নেওয়ার সময় যখন তাঁদের হাত ধরছিলাম, তখন তাঁরা  হাত এত শক্ত করে  রেখেছিলেন  আমার হাত ও ঘাড় রীতিমতো ব্যথা করছিল। এক পর্যায়ে বলতে বাধ্য হলাম—আমি মহিলা, আপনার হাত ধরলে কোনো সমস্যা নেই।

যে পেলব মেহেদি-রাঙানো হাত দু’টি ধরে তাঁদের শখের পুরুষটি একদিন মুগ্ধ হয়েছিলেন—খুব জানতে ইচ্ছে করে, এখনো কি সেই হাত দু’টি ধরে তিনি একইভাবে মুগ্ধ হন? এখনো কি শক্ত, কঠিন, খসখসে হাত দু’টির উপর একইভাবে ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে দেন?

দেন? 



alt="image" src="https://idea.enolej.com/?qa=blob&qa_blobid=1402011843354224827"> src="https://idea.enolej.com/?qa=blob&qa_blobid=1402011843354224827" alt="image">

লিখেছেন 15 ফেব্রুয়ারি , লেখক: শামীমা আকতার

ভোট ও শক্ত হাতের গল্প



ভোট ও শক্ত হাতের গল্প
শামীমা আকতার

প্রথমজন আঙুল ইশারা করে বললেন, “দে, একটু দিয়ে দে।”

দ্বিতীয়জন, “একটু বলে দে না, কোথায় দিব?”

আর একজন বললেন, “এগুলো দিয়ে কী করব?”

বলছিলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা সারাদিন কাজের চাপে নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় পাননি। কারো খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত হয়নি। ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার যখন রেজাল্ট প্রস্তুত করছিলেন, তখন কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ ভোটারদের আচরণ নিয়ে হাসাহাসি করছিলেন।

কেন্দ্রটি ছিল মহিলা ভোটারদের। এ কেন্দ্রে আমি ও একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার । কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে চিন্তামুক্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব সম্পন্ন করলেও সারাদিন ভোটারদের অনভিজ্ঞতার কারণে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পুরুষ ভোটকেন্দ্রে সাধারণত এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।

একজন ভোটার বলেই বসলেন, “তোঁয়ারারে বোয়াইয়ি কিল্লায়, যদি আঁরারে কিছু হয় ন দ!” প্রায় সবার হাতেই এনআইডি কার্ড ও প্রার্থীদের দেওয়া ভোটার নম্বরের সাথে একটি কাপড়ের শপিং ব্যাগ। শপিং ব্যাগ কেন আনলেন, ঠিক বুঝা গেল না। এ জিনিসগুলো নিয়ে তাঁদের দিশেহারা অবস্থা। বেশিরভাগ ভোটারই সবকিছু বাম হাতে রেখেছিলেন, ফলে অমোচনীয় কালি দেওয়া ও টিপসই নিতে সমস্যা হচ্ছিল। কেউ কেউ আবার ব্যালট বাক্সে এনআইডি কার্ড দিয়ে দিয়েছেন।

কাউকে কাউকে বারবার বলেও গোপন কক্ষে ঢোকানো যাচ্ছিল না। ঢুকলেও সেখান থেকে আবার ডাকাডাকি শুরু—
“এক্কানা হয় দেছো না কেনে দিয়ুম? হন্ডে সিল মাজ্জোম!”
আবার কখনো দু’জন একসাথে একটি গোপন কক্ষে ঢুকে যাচ্ছিলেন। গণভোটের ব্যালট নিয়ে সবার বিভ্রান্তি আরও বেশি ছিল। কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছিল না—কাকে ভোট দেবেন, সেটা তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত; এ বিষয়ে আমাদের বলার কোনো এখতিয়ার নেই। কখন যে প্রমিত, সাধু, চলিত সব ভাষা ভুলে আঞ্চলিক ভাষায় ফিরে গিয়েছি, নিজেই বুঝতে পারিনি। যাক, এ সুযোগে দীর্ঘদিন পর আদি অকৃত্রিম পৈত্রিক ভাষার চর্চাটা হয়ে গেল।

সবার হাসাহাসিতে আমি যোগ দিতে পারছিলাম না। ব্যাপারটা সত্যিই ভাববার বিষয়। কেন এমন হবে? অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল না—এটা কোনো সিটি ভোটকেন্দ্র। ভোটারদের বেশিরভাগই ছিলেন মধ্যবয়সী ও বয়স্ক নারী।

বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাঁদের এভাবে পিছিয়ে রেখে আদৌ কি দেশের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সম্ভব? কেউ কেউ আবার বলে বসলেন, “মহিলারা কম বুঝেন।” আসলেই কি মহিলারা কম বুঝেন? নাকি তাঁদের বুঝতে দেওয়া হয় না?

কোন দল ক্ষমতায় এল, কোন দল পরাজিত হলো কিংবা কোন দল ক্ষমতাচ্যুত হলো—এসব কি তাঁদের কাছে  কোনো অর্থ বহন করে? তাঁরা কি জুলাই সনদ বোঝেন? গণভোট কী, সেটাও কি জানেন? ভোটাধিকার প্রয়োগ—সেটা ও কি সত্যিকার অর্থে নিজের ইচ্ছায়? পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নিজেদের প্রার্থীদের জেতানোর জন্য তাঁদের ভোটকেন্দ্রে পাঠিয়েছেন, কিন্তু পাঁচ মিনিট বসিয়ে সবকিছু বুঝিয়ে বলার যোগ্য মনে করেননি।

প্রায় প্রত্যেকের হাতেই আলগা আস্তরন পড়েছে; শক্ত হাত ফেটে চৌচির, কারো নখ আস্ত নেই। টিপসই নেওয়ার সময় যখন তাঁদের হাত ধরছিলাম, তখন তাঁরা  হাত এত শক্ত করে  রেখেছিলেন  আমার হাত ও ঘাড় রীতিমতো ব্যথা করছিল। এক পর্যায়ে বলতে বাধ্য হলাম—আমি মহিলা, আপনার হাত ধরলে কোনো সমস্যা নেই।

যে পেলব মেহেদি-রাঙানো হাত দু’টি ধরে তাঁদের শখের পুরুষটি একদিন মুগ্ধ হয়েছিলেন—খুব জানতে ইচ্ছে করে, এখনো কি সেই হাত দু’টি ধরে তিনি একইভাবে মুগ্ধ হন? এখনো কি শক্ত, কঠিন, খসখসে হাত দু’টির উপর একইভাবে ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে দেন?



image


📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
সেরা ১০ জন পরীক্ষক

  1. শামীমা আকতার

    3 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম



  2. MdAUKhan

    3 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম



  3. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম



  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    973 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    48 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Fatematuj Johora

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...