জাতীয় বিশেষজ্ঞ উৎপাদন কেন্দ্র -
আমাদের দেশে একটি অদ্ভুত কারখানা আছে। এর কোনো ঠিকানা নেই, কোনো সাইনবোর্ড নেই। তবুও এটি প্রতিদিন হাজার হাজার বিশেষজ্ঞ তৈরি করে। কারখানাটির নাম, "সোশ্যাল মিডিয়া"।
এখানে ভর্তি হতে কোনো ডিগ্রি লাগে না। শুধু একটি স্মার্টফোন, কিছু অবসর সময় আর অসীম আত্মবিশ্বাস থাকলেই চলে।
সকালে একজন ভাই ক্রিকেট বিশ্লেষক। তিনি এমনভাবে ব্যাটিং অর্ডার সাজান, যেন জাতীয় দলের কোচ রাতে ফোন করে তার কাছ থেকেই পরামর্শ নেয়। দুপুরে সেই একই ব্যক্তি অর্থনীতিবিদ। ডলারের দাম কেন বাড়ছে, তার এমন ব্যাখ্যা দেন যে অর্থমন্ত্রীও হয়তো নোট নিতে বসবেন। বিকেলে তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক। রাতে আবার ডাক্তার। কারও কাশি দেখেই মন্তব্য, "এটা কিছু না, আদা-লেবু খেলেই ঠিক হয়ে যাবে।"
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই বিশেষজ্ঞদের কখনো "জানি না" বলতে দেখা যায় না। পৃথিবীর এমন কোনো বিষয় নেই, যেটা নিয়ে তারা মতামত দিতে পারেন না। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা, ফুটবল, ধর্ম, ইতিহাস, রান্না, এমনকি ডাইনোসর কেন বিলুপ্ত হলো, সব বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত মতামত প্রস্তুত।
আজকাল বই পড়ে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে পাঁচ মিনিটের একটি ভিডিও দেখেই মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, "পুরো বিষয়টা বুঝে গেছি।" যেন শত বছরের গবেষণা এক কাপ চায়ের মতো, পাঁচ মিনিটেই শেষ!
আরেকটি মজার ব্যাপার হলো, কেউ যদি বলে, "আমি এই বিষয়টা জানি না", তখন অনেকেই তাকে অযোগ্য মনে করে। কিন্তু যে সব বিষয়ে মতামত দেয়, তাকেই সবচেয়ে জ্ঞানী ভাবা হয়। যেন আত্মবিশ্বাসই জ্ঞানের একমাত্র প্রমাণ!
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে একটি খবরের সত্যতা যাচাই করতে পাঁচ মিনিট সময় লাগে, কিন্তু সেটি শেয়ার করতে লাগে মাত্র পাঁচ সেকেন্ড। তাই পাঁচ সেকেন্ডের কাজটাই বেশি জনপ্রিয়।
শেষ পর্যন্ত মনে হয়, পৃথিবীতে জ্ঞানের অভাব হয়তো নেই। অভাবটা হলো, নিজের জ্ঞানের সীমা বুঝতে পারার। যে মানুষটি মাঝে মাঝে বলে, "আমি জানি না, আমাকে শিখিয়ে দিন", হয়তো সেই-ই সত্যিকারের শিক্ষার্থী। আর যে সবসময় বলে, "সবই জানি", সে হয়তো শেখার দরজাটাই নিজের হাতে বন্ধ করে ফেলেছে।
“ আজকাল বিশেষজ্ঞ হওয়া খুব সহজ, কিন্তু শিক্ষার্থী হয়ে থাকা খুব কঠিন- সোশ্যাপ্রিন্স ফ্রেরাসে ”
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।