যদি দগ্ধভাষী জানতো তার প্রতিটি কথা সামনের মানুষটিকে কতটা দগ্ধ করে! তার শব্দগুলো যখন সূঁচ হয়ে বিঁধে হৃদপিণ্ডকে ক্ষতবিক্ষত করে, সেই অদৃশ্য ক্ষত থেকে চুইয়ে পড়া রক্তবিন্দুগুলো যদি সে দেখতে পেত—তবে কি সে পারতো এমন নিষ্ঠুর বাক্য উচ্চারণ করতে?
যদি নিন্দুক জানতো আড়ালে বলা তার বিষাক্ত কথাগুলো অন্যকে কতটা যন্ত্রণার সাগরে ভাসিয়ে দেয়, তবে কি সে কোনোদিন অন্যের চরিত্রে কালিমা লেপন করতে পারতো?
যদি মালিক জানতো তার সামান্য ধমক বা তাচ্ছিল্যে তার কর্মচারীটির দুচোখ কতটা অশ্রু ঝরিয়েছে! সে যদি মালিক না হয়ে আজ সাধারণ এক কর্মচারী হতো, তবে কি সে পারতো অপমানের এই ভারী বোঝা বয়ে বেড়াতে?
যদি চোর জানতো তার চুরি করা সম্পদের জন্য মালিকটি কতটা ভয়াবহ হতাশায় নিমজ্জিত হয়, দুশ্চিন্তা কীভাবে তাকে তিলতিল করে ভেতর থেকে কুরে কুরে খায়—তবে কি সে কোনোদিন অন্যের শ্রমে ভাগ বসাতো?
যদি ডাকাত জানতো, তার কেড়ে নেওয়া সম্পদটুকু ওই মানুষটির জন্য কতটা জরুরি ছিল! হয়তো সেই টাকাটা ছিল তার মায়ের চিকিৎসার শেষ সম্বল, কিংবা অতি কষ্টে জমানো অর্থে প্রিয়তমার জন্য কেনা কোনো উপহার। সেই হাহাকার যদি ডাকাতের কানে পৌঁছাতো, তবে কি সে পারতো এমন নির্দয় হতে?
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।