পরশ্রীকাতরতা এমন এক অভিশাপ, যা মানুষের অন্তরকে অন্ধকারে ঢেকে দেয় এবং মনকে বিষাক্ত করে তোলে। এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না, বরং সামাজিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতিতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ইসলাম পরশ্রীকাতরতাকে অত্যন্ত ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করে এবং এটা। সম্পর্কে সতর্ক করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'তোমরা পরস্পর হিংসা করো না। হিংসা নেক আমলগুলোকে আগুনের মতো ধ্বংস করে দেয়।' (সহিহ বুখারি ৬৭৮৯)
এই হাদিসে পরিষ্কার বলা হয়েছে, হিংসা শুধু মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি নেক আমলকেও শেষ করে দেয়। এতে ব্যক্তি তার সৎকাজের সওয়াব হারায়।
পরশ্রীকাতরতা মানব ইতিহাসে সর্বদা বিপর্যয়ের কারণ হয়ে এসেছে। হজরত আদম (আ.)-এর সন্তান হাবিল ও কাবিলের কাহিনিই এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কাবিল তার ভাই হাবিলকে হিংসা করে হত্যা করে, যা মানব সমাজের প্রথম হত্যাকাণ্ড হিসেবে ইতিহাসে উল্লেখ আছে। এটা প্রমাণ করে, হিংসা কেবল মানসিক অশান্তি নয়, বরং সামাজিক অশান্তিরও মূল উৎস।
ইসলাম এক আদর্শ জীবন দর্শন হিসেবে পরশ্রীকাতরতা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, সে মুসলিম নয়, যে তার ভাইয়ের জন্য এমন কিছু
কামনা করে না, যা নিজের জন্য কামনা করে। (সহিহ মুসলিম) এখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে. হিংসা বা পরশ্রীকাতরতা বাদ দিয়ে অন্যের কল্যাণ কামনা করাই প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়।
পরশ্রীকাতরতা মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক ও দুর্বল করে ফেলে। এতে আত্মার শান্তি হারিয়ে যায় এবং মনোজগত অস্থির হয়ে পেড়ে। বৈর্তমানে আমরা সমাজে দেখি, আনেকেই অন্যের সাফল্যে খুশি হতে পারে না. যার ফলে তারা মানসিকভাবে। হয়। এ থেকে মুক্তির পথ হলো কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও ধৈর্যধারণ করা। রূপান্তর-
ইসলামে পরশ্রীকাতরতা থেকে মুক্তির জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা আছে। মহান আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণ ও ভাগ্যে সন্তুষ্ট থাকা একটি অন্যতম গুণ।
দেশ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, 'বলুন, আমি আশ্রয় চাই হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।' (সুরা ফালাক আয়াত ৫) এখানে আল্লাহ আমাদের পরশ্রীকাতরতার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা চাইতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ পরশ্রীকাতরতা বা হিংসা মানুষের অন্তরকে কাঁপিয়ে দেয় এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
রাসুল (সা.) আরও বলেন, সফল ব্যক্তির ইমান সম্পূর্ণ, সে জীবন ও জীবিকার প্রতি সন্তুষ্ট। আর তার ইমান নেই, যার হৃদয়ে ঈর্ষা বাস করে। (সহিহ বুখারি) এখানে আমাদের শেখানো হচ্ছে, নিজের জীবনে সন্তুষ্টি ও আল্লাহর ওপর বিশ্বাসই পরশ্রীকাতরতা থেকে রক্ষা করে।
পরশ্রীকাতরতা থেকে মুক্তির আরেকটি উপায় হলো নিজের আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা। যেহেতু পরশ্রীকাতরতা আত্মার রোগ, তাই নিজের আত্মাকে ভালো কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। এমনকি অন্যের সাফল্যের জন্য দোয়া করাও একটি মহৎ কাজ। এটি আত্মার প্রশান্তি ও সামাজিক বন্ধন জোরদার করে। সুতরাং পরশ্রীকাতরতা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের উচিত নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, কৃতজ্ঞ মনোভাব গড়ে তোলা এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পরশ্রীকাতরতা থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: শিক্ষার্থী, কুষ্টিয়া সরকারি
কলেজ, কুষ্টিয়া
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।