কোনো ব্যাক্তি যদি একজন রাধুনিকে গিয়ে প্রশ্ন করে রাধুনিকে কে রান্না করল?? তখন প্রশ্নকারী ব্যাক্তিকে আপনি কি বলবেন??
অবশ্যই জ্ঞান প্রতিবন্ধি
বলবেন তাকে??
এখন চিন্তা করুন
একজন ব্যাক্তি এসে বলল
" আল্লাহকে কে সৃষ্টি করছে?? "
এখন কি উত্তর দিবেন??
আসলে আমরা যখন তাদের বলি আমাদের চারপাশের কৃত্রিম জিনিস এর সৃষ্টি করা জিনিস ( কম্পিউটার, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে চেয়ার টেবিল) এর যদি একজন সৃষ্টি কর্তা থাকে তাহলে অবশ্যই এই ইউনিভার্স এর একজন ডিজাইনার থাকবে। এছাড়াও থেউরি অভ কজালিটি অনুসারে প্রত্যেক ঘটনার পিছনে একটা কারন থাকে অতএব এই ইউনিভার্স এর পিছনেও একটা কারন আছে ( ধরুন একটা ডিম উপর থেকে নিচে পরে গেল ; এখন এখানে ডিমটা নিচে পড়া ঘটনা, আর এই ঘটনাতে ডিমটা নিচে পড়ে ভেংগে যাবে। তো আমরা বলতে পারি ডিমটা ভাংগার কারন হলো নিচে পড়া। ভাংগা হলো ইফেক্ট আর পড়াটা হলো কস) আর এই কারনটাই ইশ্বর। তখন নাস্তিকরা আমাদের পাল্টা প্রশ্ন করে তাহলে আল্লাহরও একজন সৃষ্টি কর্তা থাকবে এই নিয়ম অনুসারে! আসলে এখানেই দু - দল( নাস্তিক ও আস্তিক) একটা ভুল করে। প্রথমে থেউরি অফ কজালিটির সংজ্ঞা জানতে হবে । " যে জিনিস( বিষয় বা বস্তু এর কোনো শুরু আছে তার পিছনে একটা কারন থাকে "। তো সংজ্ঞা অনুসারে একটা শুরু থাকা উচিত। এখন কথা হলো আল্লাহর কি কোনো শুরু আছে?? উত্তর হলো না একদমই না। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " তিনি চিরজীব চিরস্থায়ী "( বাকারা এর আয়াতুল কুরসি) তো আল্লাহ বলছেন তিনি চিরকালি ছিলেন অর্থাৎ তার কোনো শুরু নেই আবার শেষেও নেই। তাহলে যার কোনো শুরু ও শেষ নেই তার উপর এই পিন্সিপাল রোল এপলাই হয় কিভাবে?? অতএব আমরা বুঝতে পারলাম যে এটা সৃষ্টি জগতের উপর প্রযোজ্য ; স্রষ্টার উপর না।
[ এখন আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করুন। ক্লাস নাইন- টেন পযন্ত যদি লেখা - পড়া করেন তাহলে পদার্থ বিজ্ঞানে অবশ্যই থেউরি অফ রিলেটিভিটি এর কথা পড়েছেন। E=mc^2 ( এখানে E= ইলেক্টিসিটি, m= mass, C= কারেন্ট; আমি নিজের ভাষায় বুঝালাম) এই সূত্র অনুসারে ভর এবং শক্তি দুটো একই বিষয়। শক্তি এমন এক জিনিস যার কোনো ধ্বংস নেই আবার জন্মও নেই। ইউনিভার্স এতে শক্তি তৈরি হয় না আবার ধ্বংসও হয় না। সৃষ্টি লগ্ন থেকে একই আছে। এই শক্তি এর বিভিন্ন রুপ আছে, যেমন যাক্তিক শক্তি, বিদ্যুৎ শক্তি, আলোক শক্তি ইত্যাদি ইত্যাদি। শক্তি শুধু এক রুপ থেকে অন্য রুপে যায়। এখন চিন্তা করুন থেউরি অভ কজালিটি কি এর উপর প্রযোজ্য?? উত্তর হবে না, একদমই না। কারন শক্তি আগে থেকেই ছিল। এটা না বাড়ছে না কমছে। যেই লাউ সেই কদু। এই শক্তিই বিভিন্ন জিনিসে রুপান্তর হয়ে ইউনিভার্স( মহাবিশ্বের বিভিন্ন অপাদান) ক্রিয়েট করছে। আর এই শক্তির উৎস হলো মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন ( যেমন করে আমাদের পৃথিবীতে আগত আলোর উৎস সূর্য) । আমরা জানি আল্লাহ কুন বললেই হয়ে যায়। আসলে কুন বলার সাথে সাথে একটা শক্তি নির্গত হয়, যেটা শব্দ শক্তি। আর এই শক্তিটাই রুপান্তর হয়ে নিদিষ্ট জিনিস তৈরি করে ( এখানে ইরাদা জিনিসটাও জড়িত) । তো দেখা যাচ্ছে যে শক্তি এর উপর উক্ত প্রিন্সিপাল কস প্রযোজ্য না। তাহলে এই শক্তির উৎস ( আল্লাহ রব্বুল আলামিন যার কাছ থেকে সকল কিছুর সৃষ্টি ) তার উপর উক্ত " থেউরি অভ কজালিটি প্রযোজ্য হবে এটা ভাবছেন কোন আক্কেলে??? ]
আশা করি কথা ক্লিয়ার
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।