জীবনের কিছু মুহূর্ত এমন হয় যা আমাদের মনকে ছিঁড়ে দেয়, আর কখনও কখনও পুরো শরীরকেই অস্থির করে তোলে। যেমন, হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা দেখা, বড় কোনো ক্ষতি বা দীর্ঘদিনের চাপ—এই সব আমাদের ভেতরের ভাবনাকে পাল্টে দেয়। আমরা তখন আচমকা ভয় পেতে শুরু করি, মনোযোগ হারাই বা অতীতের কিছু মুহূর্ত বারবার মনে আসে।
মস্তিষ্কে তিনটি জায়গা আছে যা এই অনুভূতিগুলোর জন্য দায়ী।
◍ প্রথমটি হলো আমাদের “চিন্তাশক্তির জায়গা”। এটা আমাদের সাহায্য করে সিদ্ধান্ত নিতে, সমস্যা সমাধান করতে এবং মানসিকভাবে শান্ত থাকতে। কিন্তু যখন কোনো বড় আঘাতের মধ্য দিয়ে যাই, এই জায়গা ঠিকমতো কাজ করে না। তখন আমরা সহজেই হতাশ হয়ে যাই, রাগে বা দুশ্চিন্তায় ভুগি।
◍ দ্বিতীয়টি হলো “স্মৃতির জায়গা“। এটা আমাদের পুরনো অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে মিল খুঁজতে সাহায্য করে। কিন্তু চাপের সময় এই জায়গা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। তখন অতীতের কিছু ঘটনা বারবার মনে আসে, আর আমরা কখনও বুঝতে পারি না এখন আমরা কোথায় বা কী পরিস্থিতিতে আছি। নতুন কিছু শিখতে বা মনে রাখতে সমস্যা হয়।
◍ তৃতীয়টি হলো “সতর্ক থাকার জায়গা”। এটি বিপদ বুঝে আমাদের সতর্ক করে। কিন্তু দীর্ঘ চাপ বা ভয়ানক অভিজ্ঞতা হলে, এটি সবসময় “সতর্ক” অবস্থায় থাকে। তাই আমরা হঠাৎ কোনো শব্দে চমকে যাই, সারাক্ষণ উত্তেজিত থাকি এবং মাঝে মাঝে রাতের ঘুমও শান্ত হয় না।
● ভালো খবর হলো, এই পরিস্থিতি স্থায়ী নয়। সময়, ধৈর্য, নিজের যত্ন এবং সাহায্য নেওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে আগের মতো কাজ করতে পারে। আমাদের ভেতরের ক্ষমতা রয়েছে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।