ছড়া লেখার জন্য কিছু সহজ ধাপ অনুসরণ করতে পারেন। ছড়া সাধারণত ছোট, রিদম বা ছন্দযুক্ত কবিতা হয় যা সহজ, মজাদার এবং সচরাচর শিশুদের জন্য লেখা হয়। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো:
১. বিষয় বাছাই করুন
ছড়া লেখার আগে একটি বিষয় বাছাই করুন। আপনার বিষয়টি কিছু সাধারণ হতে পারে যেমন:
প্রকৃতি (বৃষ্টি, ফুল, গাছ, পাখি)
প্রাণী (কুকুর, বেড়াল, হাঁস, মাছ)
দৈনন্দিন জীবন (খেলা, স্কুল, বন্ধু)
নৈতিক শিক্ষা (সততা, দয়া, ভালোবাসা)
২. ছন্দ এবং মিল
ছড়ায় শব্দের শেষ অংশে ছন্দ বা মিল থাকতে হবে। অর্থাৎ, শব্দের শেষের অংশের মিলটি মজাদার ও সুরেলা হওয়া উচিত। এটি একটি গান বা তাল মেনে চলার মতো। যেমন:
মিল: গাছ-বাছ, নদী-ভাঁটি, ফুল-শূল
উদাহরণ:
পাখি হতাম যদি
পাড়ি দিতাম কত নদী
৩. সহজ ভাষা ব্যবহার করুন
ছড়ায় সহজ এবং পরিচিত শব্দ ব্যবহার করা উচিত। ভাষা যেন সহজ হয়, তা যেন সব বয়সের মানুষ সহজে বুঝতে পারে। শিশুদের জন্য ছড়া লিখতে হলে তা অবশ্যই সহজ ও হাস্যরসাত্মক হতে পারে।
উদাহরণ:
বড় পাখি উড়ে যায়,
ছোট পাখির ঘরে ঠাঁই।
৪. রিপিটেশন (পুনরাবৃত্তি)
ছড়াতে কখনও কখনও শব্দ বা বাক্য পুনরাবৃত্তি করা হয়। এটি ছড়ার মধ্যে মজাদারতা সৃষ্টি করে এবং মনে রাখতে সহজ হয়।
উদাহরণ:
বৃষ্টি পড়ল ঝুমঝুম/বৃষ্টি পড়ল রিমঝিম/বৃষ্টি পড়ল টাপুরটুপুর।
পায়ে দিয়ে সোনার নূপুর।
৫. কল্পনা ও সৃজনশীলতা
ছড়া লেখার সময় আপনার কল্পনাশক্তি এবং সৃজনশীলতা কাজে লাগান। আপনি যে বিষয় নিয়ে লিখছেন তা নিয়ে ভিন্ন রকম কল্পনা করে দেখুন, এবং তা ছন্দে সাজিয়ে উপস্থাপন করুন।
৬. ছন্দের দৈর্ঘ্য ও গঠন
ছড়া সাধারণত ছোট ছোট লাইন দিয়ে তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে, খুব বড় বাক্য বা প্যারাগ্রাফ ব্যবহার না করে ৪-৬ লাইনে একটি ছোট আখ্যান তৈরি করুন।
উদাহরণ:
ছড়া ১
রাতে চাঁদ ওঠে দেয় আলো,
সকালে ফুল ফোটে লাগে ভালো।
পাখিরা গায় গান
মনের সুর ছন্দে তান
ছড়া ২
তালে তালে তাল পাকিয়ে
বানায় তালের পিঠা
কেউবা সেটা দেখে বলে
আহা দারুন মিঠা।
এভাবে, ছড়া লেখার জন্য আপনাকে কিছু মৌলিক উপাদান যেমন বিষয়, ছন্দ, ভাষা, এবং সৃজনশীলতা ঠিক রেখে চেষ্টা করতে হবে।
লেখা: আল-মামুন রেজা
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।