চমৎকার
অন্ধকার উঠোনের গান
অমিত দত্ত দিলু
তোমাকে আর আগের মতো করে ছোঁয়া যায় না,
তোমার নিশ্বাসে বিষের গন্ধ, চেনা যায় না।
যতই দিন যাচ্ছে, তুমি দূরে সরে যাচ্ছ নিষ্ঠুর মায়ায়,
আমি আজ বন্দি আমারই চেনা ঘরের অচেনা ছায়ায়।
আমি জানি, তোমাতে আস্থা হারানো আর স্বর্গ হারানো এক কথা,
তবুও কেন আজ বুকে চেপে রাখতে হয় এই তীব্র নীরবতা?
তোমাকে হারিয়ে আমি হব এক যাযাবর, উদ্বাস্তু পথিক,
আমার পায়ের নিচে আর থাকবে না কোনো নিশ্চিত দিক।
তবুও এই ভালো, তোমার এই রুদ্ধশ্বাস বিষবাষ্প থেকে দূরে,
অন্তত প্রাণ খুলে শ্বাস তো নিতে পারব!
আমি কি কিছুই দিইনি তোমায়? আমার সবটুকু সমর্পণ আর নাম,
সব সঁপে দিয়ে তবেই তো গড়েছিলাম তোমার এই উঠোনের দাম।
আজ নতুন পরিচয়, মর্যাদা আর অহংকারে,
তুমি নগ্ন প্রতিশোধ নিতে মেতেছ বারবার, ঘরের অন্ধকারে।
সময় কি তোমায় কিছুই শেখায়নি? ইতিহাসের কোনো শিক্ষা?
উন্মত্ততার শেষে কেবলই তো থাকে নিজেরই ধ্বংস আর ভিক্ষা!
আমার এই বিচ্ছেদের পরিণতি কি তুমি টের পাচ্ছ না?
যে ঘর সন্তানকে তাড়িয়ে দেয়, সে তো আর আশ্রয় থাকে না।
তবে তাই হোক—তোমার রাত্রি তোমাকেই করুক আপন,
যেখানে ঘৃণার প্রদীপ জ্বলে, নিভে যায় করুণার জীবন।
আমি সরে যাব, তবু শুনব দূর থেকে ভাঙনের শব্দ,
নিজের হাতে গড়া কারাগারে বন্দি হবে তোমারই স্বপ্ন।
তাহলে তাই হোক, তোমার এই মর্যাদাহীন অন্ধকারে—
তুমিই ডুবে যাও, যেখানে হিংসা, ঘৃণা আর বিভীষিকা ।
আমি শুধু দুঃখ পাব এই ভেবে, তুমি আজ বড় প্রতারিত,নিঃশেষিত,
নিজের আপনজন তাড়িয়ে তুমি আজ নিজেই ক্ষয়িত।
ঠিকানাহীন মানুষ বানিয়ে আমায় যতই দেবে তুমি ক্ষত,
জেনে রেখো প্রিয়তম, তুমিও ভেতরে ভেতরে নিঃশেষ হয়ে যাবে ঠিক তত!