নামটা
alt="image" src="https://idea.enolej.com/?qa=blob&qa_blobid=14690441327259919477"> src="https://idea.enolej.com/?qa=blob&qa_blobid=14690441327259919477" alt="image">
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
ছোটগল্প। ১৪ জুন, ২০২৬
সেদিন রাফি স্কুল থেকে এসে সোজা ঘরে ঢোকেনি। অংকের খাতাটা কোথায় রাখছে মনে পড়ছিল না। মনে হয় বাবার ঘরেই কোথাও পড়ে আছে। বাবা তখন গোসল করছিল। খাটের পাশে ফোনটা রাখা। হঠাৎ বেজে উঠল। রাফি তাকাতে চায়নি। তবু চোখ চলে গেল স্ক্রিনে। “তোমাকে খুব মিস করছি…” নাম—মেহরিন। সে কয়েক সেকেন্ড ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকল। নামটা চেনা লাগছে? না। কিন্তু মেসেজটা অচেনা লাগল না। বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল। ফোন ধরল না। খুললও না। শুধু ওই কটা শব্দ মাথা থেকে যাচ্ছিল না।
সন্ধ্যায় খেতে বসে বাবা একদম নরমাল। অফিসের কথা বলল, মাকে বাজারের কথা জিগেস করল। মাও নরমাল। কিন্তু রাফির কাছে সব কেমন আলাদা লাগছিল। মনে হচ্ছিল কেউ কিছু চাপা দিয়ে নরমাল থাকার নাটক করছে। ওই রাতে ঘুম আসেনি।
পরদিন আবার। বাবা বারান্দায় ফোনে কথা বলছে। রাফি পানি নিতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল। ভেতর থেকে বাবার গলা— “আর কয়েকটা দিন ধৈর্য ধরো।” ব্যস, ওইটুকুই। এরপর রাফি আস্তে আস্তে বদলাতে লাগল। আগে স্কুল থেকে ফিরে মায়ের পাশে বসত। এখন ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ। আগে পড়ার টাইম ছিল, এখন বই খুললেও কিছু ঢোকে না। ক্লাসে চুপচাপ। বন্ধুদের এড়িয়ে যায়। একদিন সাদ বলল, “তোর কী হইছে রে? একদম চুপ হয়ে গেছিস।” রাফি শুধু হাসল। বলার মতো কিছু ছিল না।
মায়ের মুখটা দেখতে সবচেয়ে কষ্ট লাগত। মা রোজকার মতো চা বানায়, বাবার জামা গুছায়, অপেক্ষা করে। আর রাফির ভেতর একটা ভার জমতে থাকে। কেউ দেখে না। এক সন্ধ্যায় মা জিগেস করল, “রাফি, কী হইছে?” “কিছুনা।” “স্কুলে ঝামেলা?” “না।” “তাহলে এত চুপ কেন?” রাফি চুপ। বলতে গিয়েও বলতে পারল না। মনে হচ্ছিল বললেই সব ভেঙে যাবে। তাই কথাটা গলাতেই আটকে রইল। ওই রাতে অনেকক্ষণ চুপচাপ কাঁদল।
কয়েক সপ্তাহ পর রেজাল্ট দিল। নম্বর আগের মতো না। মা রিপোর্ট কার্ড হাতে নিয়ে থমকে গেল। “রাফি… এটা কী?” রাফি মুখ তুলে তাকাতে পারল না। সেই রাতেই সব বের হয়ে গেল। রাফি পানি খেতে উঠে দেখে ড্রয়িংরুমে লাইট জ্বলছে। মা বসে আছে, বাবা পাশে দাঁড়িয়ে। টেবিলের ওপর ফোন। মায়ের চোখ ভেজা, বাবার মাথা নিচু। রাফি একটু দাঁড়াল। বুঝে গেল—আর লুকানোর কিছু নাই। ফিরে যেতে চাইছিল। মা দেখে ফেলল। তিনজন চুপ। কেউ কিছু বলল না। কিন্তু ওই চুপটাই সব বলে দিল।
এরপর দিনগুলো সহজ ছিল না। ঝগড়া, চুপচাপ, ভাঙা রাত—ঘরটাই বদলে গেল। আর রাফি সবচেয়ে বেশি বদলাল। সে বুঝল—বড়দের ভুলের ভার শেষে ছোটদের কাঁধেই পড়ে। একদিন বাবা এসে ওর ঘরে বসল। অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলল, “জানি, তুই কষ্ট পাইছিস।” রাফি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল। বাবা বলল, “কিছু ভুল শুধু একজনরে ভাঙে না। পুরা ঘরটারে ভেঙে দেয়। আমি সেই ভুলটাই করছি।” রাফি কিছু বলল না। ক্ষমা করা সহজ না। বিশ্বাস ফেরানোও না। তবু সেদিন বাবার চোখে মিথ্যা ছিল না। রাতে শুয়ে রাফি একটা জিনিসই বুঝল— একটা সম্পর্ক ভাঙলে শুধু দুইটা মানুষ ভাঙে না। ভেঙে যায় ঘরের ভেতরের নিরাপত্তা। একটা ছেলের ভরসা। আর সেই ভাঙনের শব্দ বাইরে শোনা যায় না।
এবার কেমন লাগছে? প্যারাগ্রাফ আরেকটু ছোট করব, নাকি এভাবেই ফ্লো ভালো লাগছে?