রাস্তার মোড়ে, কড়াইয়ের ফুটন্ত তেলে—
যখন রক্তিম হয়ে ওঠে সিঙ্গাড়া আর ডালপুরি,
তখন জিভে লোলুপ জল আসে!
অথচ টাটকা ফলের ঝুড়িগুলো, অনাদরে পড়ে থাকে;
অপেক্ষা করে কোনো এক বিবর্ণ মুহূর্তের।
স্বাদের পেছনে ছুটি— স্বাস্থ্যের মায়া ভুলে;
অসুখকে নিমন্ত্রণ জানাই গরম তেলের মোড়কে।
তারপর একদিন, শরীর বিদ্রোহ করে—
বিছানা হয় হাসপাতালের ফ্যাকাসে সাদা চাদর।
যে ফলকে অবজ্ঞা করেছিলাম মুখর রাজপথে,
সেই আপেল-বেদানাগুলোই পরম মমতায়—
সাজানো থাকে শিয়রের পাশে, নিস্প্রাণ প্লাস্টিকের ব্যাগে।
অসুস্থ শরীর নিয়ে তখন, ফলের রস খুঁজি।
অথচ পরিহাসটা দেখুন—
রুগীর শিয়রে বসে যখন দীর্ঘশ্বাস ফেলি,
একটু পরেই ক্ষুধার্ত হয়ে বেরিয়ে যাই করিডোরে।
হাসপাতালের গেটের পাশেই আবার সেই একই কড়াই—
সেই একই ধোঁয়া ওঠা সিঙ্গাড়া আর তেলের ঘ্রাণ!
অসুস্থ প্রিয়জনের জন্য আঙুর কিনে রেখে,
তৃপ্তি ভরে কামড় দিই সেই তেলের সাগরে।
ফল থেকে তেল, তেল থেকে হাসপাতাল—
আবার হাসপাতাল থেকে ফের সেই তেলের দোকানে ফেরা।
জিভের মোহে বারবার পা দিই একই স্বাদের ফাঁদে;
যেখানে অসুস্থ শরীর মুক্তির পথ খোঁজে ফলের রসে—
আর সুস্থরা আমন্ত্রিত হই তেলের বিষে।
এই তো জীবনের এক অদ্ভুত, অন্তহীন স্বাদের ফাঁদ।