ধন্যবাদ ই‑নলেজ | আমার স্বপ্নের ঠিকানা
ধন্যবাদ ই‑নলেজকে—
আমার কণ্ঠকে, আমার কলমকে, আমার স্বপ্নকে জায়গা দেওয়ার জন্য।
আর হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই আশরাফ উদ্দিন খান ভাইকে। কিছু মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা সত্যিই সারাজীবনেও শেষ করা যায় না—আশরাফ ভাই তেমনই একজন।
লেখালেখিতে আমার গল্পটা শুরু ২০১৫ সালে।
আমি তখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি।
লেখালেখির শুরুটা হয়েছিল কবিতা দিয়ে। ছোট হাত, ভাঙা ভাঙা অক্ষরে লেখা আমার প্রথম কবিতা ছিল—
“বাস চলেছে, বাস চলেছে, বাসের বাড়ি কই?”
আজ সেই লেখা সংরক্ষিত নেই। সময়ের সাথে শব্দগুলো হারিয়ে গেছে।
কিন্তু ওই লেখাটাই আমাকে প্রথম চিনিয়েছিল—আমি লিখতে পারি, আমি লিখতে চাই।
খুশিতে সেই কবিতাটি আমি ‘মিশু’ নামে এক বোনকে দেখাই।
তিনি প্রথম লাইন পড়েই বলেছিলেন—
“এটা কি তোমার কবিতা? এত মিথ্যা কেন বলো? এটা তো ‘ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে’কবিতা —তুমি শুধু ট্রেনের জায়গায় বাস লিখেছো।”
সেদিন আমি ভেঙে পড়েছিলাম।
অনেক কেঁদেছিলাম।
কারণ আমার জীবনের প্রথম লেখাতেই আমাকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল।
এরপর তৃতীয় শ্রেণিতে উঠে যখন আমি সত্যিই শামসুর রাহমানের সেই কবিতাটি পড়ি, তখন আমি বিস্মিত হই।
কষ্ট পাই এই ভেবে—আমি যে লেখাটা নিজের মতো করে লিখেছিলাম, সেটাই আগেই লেখা ছিল।
আজ অনেকেই প্রশ্ন করতে পারে—ছোটবেলাতেই তো কবিতাটা পড়ার কথা, তাহলে কি আমি মিথ্যা বলছি?
কিন্তু সত্যিটা হলো—আমি কবিতাটি পড়ার আগেই লিখেছিলাম।
এরপর জীবন থেমে থাকেনি।
জটিলতা এসেছে, বাধা এসেছে, ধোঁকা, হতাশা, বাস্তবতা—সবকিছুর ভিড়ে টুকটাক লিখতে লিখতে এসে পৌঁছাই ২০২৫ সালে।
২০২৫ সালেই, অনেক ভয় আর দ্বিধা নিয়ে, আমি অন্য নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলি।
সেখানেই আশরাফ উদ্দিন খান ভাই আমার লেখা খুঁজে পান এবং একটি কমেন্ট করেন।
ঠিক সেই কমেন্ট থেকেই শুরু হয় আমার যাত্রা ই‑নলেজে।
আজ আমি ই‑নলেজের একজন যাচাইকৃত লেখিকা—এই পরিচয়ের পেছনে আশরাফ ভাইয়ের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।
ই‑নলেজ শুধু আমার লেখা প্রকাশের জায়গা নয়।
এই প্ল্যাটফর্ম আমাকে বিশ্বাস দিয়েছে,
আমাকে লেখক হিসেবে দাঁড়াতে শিখিয়েছে,
আমার কণ্ঠকে জায়গা দিয়েছে,
আমার কলমকে পরিচয় দিয়েছে।
এই পরিবারে আমি পেয়েছি রেজা ভাই,আতা ভাই, জাহিদ ভাই, প্রিন্স ভাইয়ের মতো সহযাত্রীদের।
আর বিশেষভাবে পেয়েছি আমার একজন প্রিয় পাঠক হাবিব হাসিব ভাইকে—
আমার প্রথম প্রকাশিত কবিতায় তাঁর মন্তব্য আমার লেখার প্রতি আগ্রহ আরও দৃঢ় করে দিয়েছিল।
ই‑নলেজ আমার কাছে শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম নয়।
এটা একটি পরিবার,
লেখক‑পাঠকের মিলনমেলা,
লেখকের আপন ঠিকানা।
যে ছোট্ট মেয়েটা ২০১৫ সালে, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তে পড়তে তার প্রথম লেখাতেই ভেঙে পড়েছিল—
আজ সেই মেয়েটাই ই‑নলেজে একজন লেখিকা।
এর জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ—
ই‑নলেজের কাছে,
এবং আশরাফ উদ্দিন খান ভাইয়ের কাছে।