কোন আয়াতটা পড়লে বুঝব যে আল কুরআন সত্য?
কোন আয়াতটা পড়লে বুঝব যে আল - কোরআন সত্য?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিয় বন্ধু আজকে একটা কমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করব
দুই- দিন আগে নাস্তিক মুফাসসিল একটা পোস্ট করেছিলো। সেখানে তিনি বলেছিলেন যে আল - কোরআন যে সত্য সেটা আল কোরআন এর কোন আয়াত দেখলে বুঝব। আমি যখন ফেইসবুকে ঢুকি তখনি মনে হয় তিনি সাথে সাথে পোস্টা করে। আর আমিও ফাস্ট কমেন্টে বলছিলাম যে " সূরা রোম এর প্রথম তিন আয়াত পড়লেই বুঝা যাবে এটা আল্লাহর বাণী "। তিনি তখন বলছিলেন.... ( উল্লেখ করলাম না) । তখন আবার আমি কোনো একটা কাজে ছিলাম হয় তো তাই আর তাকে বুঝাতে পারি নায় ' কেন সূরা রোম এর প্রথম তিন আয়াত পড়লে বুঝা যাবে যে " এই আল কোরআন সত্য। তো কালকে আমি একটা পোস্ট করেছিলাম যেখানে বলেছিলাম যে " গৌতম বুদ্ধ একজন মহাজ্ঞানী " সেই পোস্টা দেখে আমার আপু আবার আজ ৯: ৪৭ এতে কমেন্ট করছে একটা, যেখানে তিনি বলছেন " Assah vai tui ki nastik na ki..bujhi na.
Allah toke ko diya banaise.
Bujhi na
Musloman hoye tui amn post koris kan nijer dhormmer daoat de tao valo. Asob ki b★ ppst korsi( কপি করে পেস্ট করলাম)।
কমেন্টা পড়ার পর মনে একটু রাগ হলো আর একটু কষ্ট পেয়েছিলাম। তো হঠাৎ তখন আমার মাথায় একটা চিন্তা আসে " যে কীভাবে অমুসলিমদের দাওয়াত দিবো, তখন মাথায়
তিনটা প্রশ্ন আসে
১. আল কোরআন যে সত্য তাঁর প্রমাণ কি
২. অনেকে বলে যে আল কোরআন বাইবেল থেকে কপি করা, এই ধারণাটা যে ভুল তা কি করে বুঝাবো
৩. হযরত মোহাম্মদ সাঃ যে নবুয়ত প্রাপ্ত হয়েছেন ' আল্লাহ রব্বুল আলামীন এর কাছ থেকে তার প্রমাণ কি"
মূলত এই তিন প্রশ্ন মাথায় আসে
তখন ভাবলাম যে " অমুসলিমদের দাওয়াত দিতে গেলে তারা বলে যে, ইসলাম যে সত্য আর আল কোরআন যে আল্লাহর বাণী তার প্রমাণ কি? ।
তো আজকে এই লেখাটাতে এই তিনটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে একটা সূরার আয়াতকে( সূরা - রোম এর প্রথম তিন আয়াত) বাখ্যার মাধ্যমে উত্তর গুলো দিবো ইনশাআল্লাহ ।
★ সূরা রোম হলো পবিত্র আল কোরআনের ৩০ তম সূরা
★ মূলত প্রথম আয়াতের ‘গ্বুলিবাতির রুম’ থেকে সূরার নামকরণ করা হয়েছে ' সূরা - আল- রোম
★ সূরা রোম এর প্রথম তিন আয়াত খেয়াল করুন
১ ম আয়াত - আলিফ - লাম- মিম
২ য় আয়াত - গুলিবাতির রোম
৩ নং আয়াত - ফী আদনাল আরদিওয়াহুম মিম বা'দি গালাবিহিম ছাইয়াগ লিবূন
এটা হলো আরবি, এই আয়াতগুলোর সোজা- সাপ্টা বঙ্গনুবাদ করলে হয় " আলিম - লাম মিম[১] রোমানরা পরাজিত হয়েছে [২] সবচেয়ে নিচু ভূমিতে, কিন্তু তারা তাদের পরাজয়ের পর অতি শীঘ্রই বিজয় লাভ করবে।
এই আয়াতের মধ্যে
দুটো চমৎকার তথ্য আছে
১. বৈজ্ঞানিক তথ্য
২. এবং একটা ভবিষ্যৎ বাণী
*** যদি প্রশ্ন করি স্থলভাগে সবচেয়ে নিচু স্থান কোনটা? তাহলে এর উত্তর কি হবে বলতে পারবেন কি ❔
যদি না পারেন তাহলে একটা কাজ করতে পারেন, আপনার হাতের কাছে যে মোবাইলটা আছে সেটার মধ্যে দেখুন একটা সার্চ ইন্জিল আছে, যার নাম গুগল, সেখানে গিয়ে সার্চ করুন Red sea লেখে, তারপর আর্টিকগুলো পড়ে দেখুন, সেখানে কি বলা হয়েছে।
আর এই কাজটা করতে না পারলে নিচে দেখুন screenshots দিয়ে দিয়েছি।
* এখন টপিকে ফিরে আসি, রোমানরা মূলত পরাজিত হয়েছিল লোহিত সাগরের কিনারায় ( নিচে screenshots দেখুন) আর ওই জায়গা টাকেই আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলছে সবচেয়ে নিচু স্থান ( অনেকে আবার কাছের স্থান অনুবাদ করে থাকে, যা ভুল, কারণ ডিকশনারিতে আমি আদনা শব্দের কাছে বলতে কোনো অর্থ পায়নি) অথ্যাৎ রোমাদের মাঝে আর ইরানীয়দের মাঝে যে যুদ্ধ হয়েছিল আর যেইখানে সেদিন পরাজিত হয়েছিল( লোহিত সাগর) সেটাকে বলছে সবচেয়ে নিচু স্থান। এখানে সর্বনিম্ম এর জন্য যে আরবি প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো আদনা( Adnaa) যার অর্থ সর্বনিম্ম / minimum ( নিচে দেখুন, আরবি টু বাংলা আর আরবি টু ইংলিশ গুগল ট্যান্সলেট এর screenshots দিয়ে দিয়েছি) আর বর্তমানে স্যাটেলাইট দিয়ে ও গাণিতিক হিসাব নিকাশ করে বিজ্ঞানিরা বলেন যে লোহিত সাগর হলো সবচেয়ে নিচু স্থান ( স্থলভাগে; নিচে screenshots দিয়ে দিয়েছি, অনেকে হয় তো আবার বলবেন যে " মারিয়ানা খাত হলো সবচেয়ে নিচু, কিন্তু আমাদের এখানে বুঝতে হবে যে এখানে স্থল ভাগ এর কথা হচ্ছে, সমগ্র পৃথিবীতে সবচেয়ে গভীর গর্তের কথা হচ্ছে না, যদি তাই হ তো তাহলে মারিয়ানা খাত হ তো সবচেয়ে গভীর গর্ত, যেটা কিনা প্রশান্ত সাগরে অবস্থিত, আশা করি বুঝেছেন) ।
আর পবিত্র আল কোরআনও আমাদের হুবুহুব একই তথ্য প্রদান করে। এখন একটু ভাবেন তো যদি এই আল কোরআন আল্লাহ রব্বুল আলামিন ছাড়া অন্য কারো হতো তাহলে কি এই তথ্যটা পবিত্র আল কোরআনে থাকা সম্ভব ছিল ( অনেকে বলবেন যে, আল্লাহ রব্বুল আলামিন কেন পবিত্র আল কোরআনে ডাইরেক্ট লোহিত সাগর বললেন না কেন, নিচু স্থান কেন বললেন, এর উত্তর হলো একেক জায়গায় আর একেক জাতির লোক একেক নামে ডেকে থাকে, আর নাম পরিবর্তনশীল, একটা নাম যে সব সময় একই থাকবে তার কোনো মানে নেই, যেমন আজ থেকে ৪০০ বছর আগে ঢাকার নাম ছিল জাহাঙ্গীর নগর, তাই আল্লাহ রব্বুল আলামিন সরাসরি নাম না বলে ডাইরেক্ট সর্বনিম্ন বলেছেন, আর এটা যদি না করতেন তাহলে মূর্খরা আবার ভেজাল বাজাই তো, আশা করি কথা ক্লিয়ার) আমি হয় তো এখন নাস্তিক মুফাসসিল ইসলামকে এটা বুঝাতে পেরেছি যে " কেন আমি তখন বলছিলাম যে সূরা রোম এর প্রথম আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে আল কোরআন সত্য। তিনি প্রশ্ন করে ছিলেন যে " আল কোরআন যে সত্য তা কোন আয়াত দেখে বুঝব ( এই রকম একটা কথা বলেছিলেন আর কি, ) আর তাঁর উত্তর হয় তো পেয়ে গেছে এখন।
★ দ্বিতীয় প্রশ্নে আসি, অনেকে বলে যে আল কোরআন নাকি বাইবেল থেকে কপি করা? তাদের এই দাবি যে মিথ্যা, তা পরবর্তী আয়াত দেখলে বুঝা যায়। কারণ পরবর্তী আয়াত এতে বলা হয়েছে যে রোমানরা অতি শীঘ্রই জয়ী হবে, আর তারা জয়ী হয়ে ছিলেন ( আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া সীরাত গ্রন্থটা পড়ে দেখতে পারেন, যদি বই না থাকে তাহলে আমাকে বলবেন কমেন্ট করে কেমন, আমি না হয় সময় পেলে রোমান আর ইরানীয়দের যুদ্ধ সম্পর্কে একটা আলাদা করে পোস্ট করব, জানুন , এসব তথ্যগত ইতিহাস যত জানবেন তত আমাদের নিজেদেরও উপকার হবে) এই আয়াতগুলো নাযিল হওয়ার ৯ বছরের মাথায় রোমারা বিজয়ী লাভ করে । এখন বাইবেল থেকে যদি আল কোরআন কপি করা হয় তাহলে অবশ্যই এই ভবিষ্যৎ বানীটা বাইবেল এতে থাকবে ; তাই না প্রিয় বন্ধুরা। যেহেতু সমগ্র বাইবেল( অল্ড টেস্টামেন্ট আর নিউ টেস্টামেন্ট এর ৬৫ টা বই এতে নেয়, চাইলে খুজে দেখতে পারেন। আর থাকবেই বা কি করে কারণ এটা তো বাইবেল জন্মেরও কয়েকশো বছর পরের ঘটনা, ( এখন কি নাস্তিক কলা বিজ্ঞানিনরা এসে বলবেন নাকি যে, আরে মেহেদী নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর কাছে টাইম মেশিন ছিলো, আর তিনি অতীতে গিয়ে মূল বাইবেল থেকে কপি করে তারপর সেই তথ্য সরিয়ে দেয় কি যেন বলতেও পারেন)
এখন আসি লাস্ট প্রশ্নে এবং এর সাথে আরেকটা প্রশ্ন?
এখানে দুটো প্রশ্নের উত্তর দিবে একটা ঘটনার মাধ্যমে, চলুন আগে প্রশ্ন দুটো দেখে আসি
১. নবী মোহাম্মদ সাঃ যে নবুয়ত এর উত্তরাধীকার তার প্রমাণ কি?( আগে করা তিন নাম্বার প্রশ্ন এবং এটাই শেষ প্রশ্ন)
২. হয় তো ভবিষ্যৎ বাণিটা আন্দাজে করেছিলেন, যদি আন্দাজে না করতেন তাহলে তো আর এত দেরিতে রোমানরা বিজয়ী হতেন না, নবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ আন্দাজে বলেছেন আর ৯ বছর পর ঘটনা সত্য প্রমাণ হয়, তাই বলা যায় যে আল কোরআনে করা ভবিষ্যৎ বাণীর তেমন কোনো value নেই?
এখন এই দুটে প্রশ্নের উত্তর একবারে দিয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শরু করা যাক
কুরআন মাজীদের এই আয়াতগুলো নাযিল হলে মক্কার কাফেররা এ নিয়ে খুবই ঠাণ্ডা বিদ্রুপ করতে থাকে। উবাই ইবনে খালফ হযরত আবু বকরের (রা) সাথে বাজী রাখে। সে বলে, যদি তিন বছরের মধ্যে রোমানরা জয়লাভ করে তাহলে আমি তোমাকে দশটা উট দেবো অন্যথায় তুমি আমাকে দশটা উট দেবে। নবী (সা) এর বাজীর কথা জানতে পেরে বলেন, কুরআনে বলা হয়েছে ‘ফী বিদ্বঈসিনিন’ ( সূরা রোম এর চার নাম্বার আয়াত এর প্রথম দুটো শব্দযুগল) আর আরবী ভাষায় ‘বিদঈ’ শব্দ বললে দশের কম বুঝায়। কাজেই দশ বছরের শর্ত রাখো এবং উটের সংখ্যা দশ থেকে বাড়িয়ে একশো করে দাও। তাই হযরত আবু বকর (রা) উবাইর সাথে আবার কথা বলেন এবং নতুনভাবে শর্ত লাগানো হয় যে, দশ বছরের মধ্যে উভয় পক্ষের যার কথা মিথ্যা প্রমাণিত হবে সে অন্যপক্ষকে একশোটি উট দেবে। এবং পরবর্তীতে কি হয়েছিল রোমানদের সাথে আপনারা তো জানেনই প্রিয় বন্ধুরা। রোমানরা বিজয়ী লাভ করে আর সত্য অনুসারে ওই কাফের সালার উত্তরশূরীরা তা পরিসুদ করে দেয় ( ১০০ উট পাওয়ার পর তা সদকা করে দেওয়া হয় নবীর আদেশে, কারণ যখন বাজি ধরা হয়েছিলো তখন সেই বাজি ধরা সম্পর্কে " হালাল নাকি হারাম এই ব্যাপারে" কোনো নির্দেশ আসে নায়, কিন্তু পরবর্ততে হারাম করা হয় জুয়া, তাই তা সদকা হয়েছিল, আর হ্যা বাজি যেহেতু যখন ধরেছিল তখন হালাল ছিল পরবর্তীতে হারাম হলেও আগের নীতি অনুসারে সেটা ঋণ হিসাবে গণ্য হয় তাই ওই উট নেওয়া তার অধিকার ছিল , আশা করি কথা ক্লিয়ার)
তো খেয়াল করুন নবীজি নিজেই কিন্তু বলে দিছেন যে দশ বছরের বাজি ধরো, যদি এর ভিতরে না হয় তাহলে তা মিথ্যা প্রমাণ হবে,। আর এই ঘটনা দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ আন্দাজে বলেন নায় বরং সঠিক তথ্য জানতেন বলেই বলছে ( আল্লাহ রব্বুল আলামিন জানাইছেন)
আশা করি কথা ক্লিয়ার
প্রশ্নটার প্রথম অংশের জবাব দিলাম আর এই ঘটনা দ্বারা প্রমাণ হয় যে হযরত মোহাম্মদ সাঃ এক নবুয়তপ্রাপ্ত নবী ছিলেন ।
এখন আসি প্রশ্নটার শেষ অংশে ( প্রশ্নের প্রথম অংশে লেখছিলাম যে " নবী আন্দাজে বলছে তাই ওই তথ্য ভূয়া, এখন এটার জবাব দিলাম আর নবুয়ত যিনি প্রাপ্ত হইছে তার প্রমাণ দিলাম, কারণ নবয়ুত প্রাপ্ত ব্যাতিত এর উল্লেখ করার সাদ্ধ কারো বাপের নেয়, এখন আসি শেষ অংশে, কেন নয় বছর লাগল?)
কেন যে নয় বছর পর তারা বিজয়ী অর্জন করলেন এই সম্পর্কে আমি মোঃ মেহেদী হাসান শুধু একটা কথা বলতে চাই আর সেটা হলো ছিল আমাদেরকে একটা নিদর্শন দেখানো, যেন আমরা হিকমাহকে উপলব্ধি করতে পারি, আমি শুধু এতটুকুই বললাম এর বেশি কিছু বললাম না,কেন নয় বছর লাগছে আর এর মধ্যে কি নিগুঢ় তত্ত্ব লুকিয়ে আছে তা আপনারাই নিজ হিকমাহ কে কাজে লাগিয়ে বাহির সূফী দর্শনে করুন, ইনশাআল্লাহ উত্তর পেয়ে যাবেন। ( আসলে এর যে উত্তর তা আমি সূফী দর্শে পেয়েছি, অমেকে সেটার গভীরতা বুঝবেন না, তাই আর বললাম না, আর এটা যেনে কারো কোনো লাভ নেয়)
তো সম্পূর্ণ লেখাটা কেমন লাগল প্রিয় বন্ধুরা আজকের লেখাটা লেখতে গিয়ে অনেকটা পরিশ্রম করতে হইছে
যাই হোক লেখাটা দুপুর বারোটার আগে শেষ করতে পারছি এটাই বেশি আলহামদুলিল্লাহ ।
বিশেষ ধন্যবাদে Mehjabin Mitu আপু তুমি ওই কথাটা না বললে আজ হয় তো লেখাটা কখনো লেখতাম না
তো সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
কলমে : মোঃ মেহেদী হাসান✍️
প্রিন্স ফ্রেরাসে
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে ✍️