কোরআন কি জঙ্গিবাদ সমর্থন করে?
#কোরআনের_উপর_আনিত_জঙ্গিবাদের_অভিযোগ_খন্ডন
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
এক পাগলকে সব সময় দেখি আমার কমেন্ট বক্সে অচিন্ত্য নাস্কার নামে এক হেদু কিছু আয়াত দিয়ে কোরআনে জঙ্গিবাদ আছে বলে দাবি করে। তাই এটা কাউন্টার পোস্ট হিসাবে লেখছি।
তো চলুন শুরু করা যাক।
এক নজরে অভিযোগ
১. সূরা তাওবার -১২৩ নং আয়াত নিয়ে
২. সূরা আনফাল এর -১২ নং নিয়ে
৩. সূরা তাওবার -৫ নং আয়াত নিয়ে
৪. সূরা নিসার -৮৯ নং আয়াত নিয়ে
৫. বিশেষ একটা পয়েন্ট
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান
__________________
*সূরা তাওবার -১২৩ নং আয়াত নিয়ে অভিযোগ খন্ডন।
প্রথমে আয়াতটা দেখে নেওয়া যাক। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
"হে মু’মিনগণ! ঐ কাফিরদের সাথে যুদ্ধ কর যারা তোমাদের আশেপাশে অবস্থান করছে, যেন তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা খুঁজে পায়; আর জেনে রেখ যে, আল্লাহ পরহেযগারদের সাথে রয়েছেন"( কোরআন-৯/১২৩)
প্রথম কথা
উক্ত আয়াত কখন আর কিসের জন্য নাযিল হয়েছিল তা জানতে হবে। না হলে আমরা প্রকৃত সত্যটা জানতে৷ পারবো না।
দ্বিতীয় কথা
সূরা তাওবার ১২৩ নং আয়াতে আমাদের মূলনীতি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে জিহাদের। যারা স্থান এর দিক দিয়ে কাছে তাদের আগে রদ করতে হবে। বনু কুরাইজাসহ সে সময়কার কাফের মুশরিকগুলল একত্রে আমাদের ও আমাদের মিত্রগনের প্রতি আক্রমন করে। তকন আল্লাহ রব্বুল আলামিন আয়াত নাযিল করে বলে দেন আগে কাছের শত্রুগুলোতে শেষ কর পরে দূরের স্থানের শত্রুগুলোকে.... । অর্থাৎ রাসূল সাঃ এর সময়কার কাফের মুশরিকদের উদ্দেশ্য এটা নাযিল হয়। এই আয়াত দ্বারা সব কাফেরকে বর্তমানে উদ্দেশ্য না। আমরা শুধু তাদের সাথে জিহাদ করব যারা আমাদের সাৎে জিহাদ করবে। মানে সামরিক বাহিনীকে শুধু আক্রমন করব ( বাকারা-১৯০) এবং যারা আমাদের সাথে শত্রুরতা করে নি তাদের কোনো ক্ষতি করব না ( মুমতাহিনা -৮) ।
সারাংশঃ তো বুঝা যাচ্ছে যে এই আয়াত দ্বারা সব কাফেরকে হত্যা করা যাবে না শুধু তাদের করব যারা আমাদের আক্রমণ করবে।
পয়েন্ট নাম্বার টু
______________
*সূরা আনফাল এর -১২ নং নিয়ে করা অভিযোগ খন্ডন
প্রথমে আয়াতটা দেখুন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
"স্মরণ কর, যখন তোমার রাব্ব মালাক/ফেরেশতার নিকট প্রত্যাদেশ করলেনঃ আমি তোমাদের সাথে আছি। সুতরাং তোমরা ঈমানদারদের সুপ্রতিষ্ঠিত ও অবিচল রাখ, আর যারা কাফির, আমি তাদের হৃদয়ে ভীতি সৃষ্টি করে দিব। অতএব তোমরা তাদের স্কন্ধে আঘাত হান, আর আঘাত হান তাদের অঙ্গুলিসমূহের প্রতিটি জোড়ায়।" ( কোরআন-৮/১২)
প্রথম কথা
এই আয়াত নাযিল হয় বদরের যুদ্ধ কে কেন্দ্র করে ( তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়া) আর বদের যুদ্ধ কারা লাগিয়ে ছিল তা আশা করি বলতে হবে না। আমরা প্রথম পয়েন্টে দেখেছি যে সবাইকে হত্যা করা যাবে না শুধু তারা যারা আমাদের সাথে ময়দানে জিহাদ করবে। এখানে পৃথিবীর সব কাফের উদ্দেশ্য না। আপনি যদি আমাকে আক্রমণ করেন তাহলে অবশ্যই আমি বসে বসে আঙ্গুল চুষবো না। আমিও তো আক্রমণ করব, তাই না! । তো এখানে সেই কথাটাই বলা হয়েছে। যারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করবে তাদের সাথে.....
পয়েন্ট নাম্বার থ্রি
_______________
* সূরা তাওবার -৫ নং আয়াত নিয়ে অভিযোগের খন্ডন
আগে আয়াতটা দেখুন । আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
"অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলি অতীত হয়ে যায় তখন ঐ মুশরিকদেরকে যেখানে পাবে তাদের সাথে যুদ্ধ কর এবং হত্যা কর, তাদেরকে ধরে ফেল, তাদেরকে অবরোধ করে রাখো এবং তাদের সন্ধানে ঘাঁটিসমূহে অবস্থান কর। অতঃপর যদি তারা তাওবাহ করে, সালাত আদায় করে এবং যাকাত প্রদান করে তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ, পরম করুণাময়।" ( কোরআন-৯/৫)
প্রথম কথা এই আয়াত টা রাসূল সাঃ এর সময়ের ওইসব কাফেরকে উদ্দেশ্য কে নাযিল হয়েছে যারা আমাদের সাথে করা সন্ধিচুক্তি বাতিল করে দেই। চুক্তির দ্বিতীয় দফা হলো " কে কাওকে বা কোনো মিত্র পক্ষকে হত্যা করবে না কিন্তু তারা সে চুক্তি ভেংগে ফেলে ( আর রাহিকুল মাকতুম - অধ্যায় নং - ৩০৭,৩২১ দৃষ্টব্য ) যার কারনে আমরাও তাদের কিতাল করি। তাই এই আয়াত দিয়ে যারা সব কাফের মুশরিক উদ্দেশ্য বুঝায় তারা বলদ ছাড়া কিছুই না।
আশা করি কথা ক্লিয়ার
প্রথম কিস্তি সমাপ্ত
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লা
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে_3_মেহেদী#প্রিন্স_ফ্রেরাসে