"সন্ধ্যার সন্নিকটে সব শূন্য "
সন্ধ্যা নেমে আসছে শহরের উপর,আলো ছায়ার খেলা যেন এক অদ্ভুত নীরব নাটক। দূরে পাহাড় গুলো ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে ছাই রঙ্গা আকাশের সাথে,আর নদীর পানিতে সেই রং মিশে এই অবচেতন শূন্য তৈরি করেছে।
রাস্তার ধারে লুপানো বাতি গুলো জ্বলে ,কিন্তু আলো যেন কিছুই ধরতে পারছে না_ সব কিছু শুধু অদৃশ্য ছায়া হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। মানুষেরা hurried footstep _এ চলে যাচ্ছে,কিন্তু মনে হয় তাদের মধ্যেও কেও নেই,কেবল ছায়া আর শূন্য।
আমি বসে আছি এক পুরোনো বাগানের পাশে,যেখানে ঘাসের উপরে ফোঁটা ফোঁটা শিশির পানি জমে আছে। বাতাসে ঠান্ডা,আর সেই সাথে কোথাও আকাশ থেকে ছুয়ে আসা হালকা সৌন্দর্য আছে,যেনো সময় থেমে গেছে। হাতের মধ্যে একটা বই,কিন্তু চোখ পড়ছে না কোনো শব্দে। শুধু এই মুহূর্তের নিঃশব্দ ,এই সন্ধ্যার গভীর শূন্য।
দূরে কোনো কুকুরের হুলস্থূল,কোনো শিশুর দূরের হাসি,সব কিছু অদৃশ্য হয়ে যায়। মনে হয় _ এই শহর,এই রাত,এই পৃথিবী_ সবই কেবল শূন্য। আমার হৃদয় ও যেনো ধীরে ধীরে সেই শূন্যে মিশে যাচ্ছে।
সন্ধ্যার এই শূন্যতা আমাকে বলতে চাচ্ছে_"সবকিছু হারায়,সব কিছু বদলে যায় তবু তোমার ভিতরের শূন্যতাই চিরন্তন !"
আমি চোখ বন্ধ করি। গাছের পাতার স্লো মোশন,বাতাসের দোল,দূরের আকাশের শেষ রংগুলো-সবকিছু মিলেমিশে এক অসম্ভব নীরব চিত্র তৈরি করে। আমি সেই শূন্যের মধ্যে হারাই।
এখানে নেই কোনো শব্দ,নেই কোনো কোলাহল। কেবল শান্তি,কেবল নিঃশব্দে। এই শান্তির মধ্যে এক অদ্ভুত প্রশান্তি_যেনো সবকিছুই ঠিক আছে, ঠিক আছে,ঠিক আছে...