#পিয়ার_রিভিউ_জার্নাল_কি_সব_সময়_গ্রহণযোগ্য???
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
মেহেদী হাসান ✍️
নাস্তিকরা আমাদের বলে থাকে ধর্মান্ধ কারণ আমরা নাকি গ্রন্থে যা আছে তা যাছাই করা ছাড়া বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস করি [ যদিও তাদের দাবিটি ভ্রান্ত কারণ আমাদেরকে ইসলাম শিক্ষা প্রদান করে কোনো কিছু দাবি করলে সেটার জন্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে ( বাকারা-১১১) এবং আমরা বিনা প্রশ্নে না বরং প্রশ্ন করেই সংশয় নিরসন করি ( নাহল-৪৩) এবং জিঙ্গাসা এর মধ্যেও নিদর্শন আছে ( ইউসুফ-৭) এরকম কোথাও ইসলাম বলে। অতএব তারা যে আমাদের ( আমি মুসলিম হিসাবে ইসলাম এর রেফারেন্স দিলাম। বাকি ধর্মের রেফারেন্স উল্লেখ করা আমার কাজ না) উপর ভ্রান্ত অভিযোগ করে তা বুঝাই যাচ্ছে ] কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আমরা ধর্মান্ধ না বরং বঙ্গীয় নাস্তিকরাই মূলত বিজ্ঞানান্ধ ( বিজ্ঞান + অন্ধ = যারা যাছাই বাছাই ছাড়াই কোনো রিভিউ জার্নাল এর কথা ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো বিশ্বাস করে তারাই বিজ্ঞানান্ধ) । আমাদের মাঝে একটা ভুল ধারণা আছে ( বিশেষ করে বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানি নাস্তিকগণের মাঝে) সেটা হলো পিয়ার রিভিউ জার্নাল হলে সেটা ১০০ ভাগ সত্য!। পিয়ার রিভিউ জার্নাল মানে সেটা সত্য হতে বাধ্য এরকম কোনো কথা না বরং পিয়ার রিভিউ জার্নাল এতেও অনেক ক্রুটি ( মন্ত্রর গতি, ব্যয়বহুলতা, পক্ষপাত করা, অপব্যবহার ইত্যাদি ইত্যাদি) থাকে; আর এটাই বাস্তবতা। জার্নাল অফ রয়েল সোসাইটির মতে " পিয়ার রিভিউ হলো একটা ক্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া ( আংশিকভাবে সত্য) কোনো জার্নাল রিভিউস করার পরেও সহজেই চিহ্নিত করা যায় না এমন ভুল দিয়েও গবেষণা পত্রগুলো পূর্ণ এবং রিভিউয়ের পক্ষে প্রামাণিত সমর্থন সল্প"। তার পরেও পিয়ার রিভিউ জার্নালকে কেন্দ্র বিন্দুতে রাখা হয় কারণ মানুষ এতে বিশ্বাস স্থাপন করে। এই কথা তো কম - বেশি প্রায় সবাই অবগত আছেন যে নোবেলপ্রাপ্ত বিজ্ঞানি ( যিনি কিনা রসায়নে নোবেল পেয়ে ছিলেন) ফ্রান্সিস আর্নল্ড এর একটা গবেষণা পত্র পাবলিশ হয় ২০১৯ সালে " সায়েন্স "( পৃথিবীর জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী জার্নাল এটা) জার্নাল এতে। যখন পাবলিশ হয়েছিল তখন এর রিভিউতে কোনো ক্রুটি ধরা পরে নি কিন্তুু পরবর্তীতে ফ্রান্সিস আর্নল্ড নিজের থেকেই টুইট বার্তায় বলে দিয়েছিল যে " তার আগের গবেষণার পেপারটাতে ভুল ছিল আর আমি ব্যস্ততার কারণে নোটিশ করি নি বিষয়টা "। এছাড়াও এরকম অনেক গবেষণা পত্র ১০০% ভাবে নির্ভুলতা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে সেগুলো..... । তাই পিয়ার রিভিউ জার্নাল মানেই সেটা..। আবার পিয়ার রিভিউ জার্লনাগুলোতেও অনেকে টাকার জোড় খাটাতে পছন্দ করে। অনেক সময় দেখা যায় যে কোনো প্রতিষ্ঠান এর কোনো প্রোডাক্ট এর জন্য গবেষণা পত্র ছাপানো হয় ( যেখানে প্রোডাক্ট এর গুনগান করা হয়)। অ্যামেরিকান জনপ্রিয় সংবাদ পত্র, দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি গবেষণা পত্রে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’ অর্থের বিনিময়ে শুধু অ্যালকোহলের গুণগানই বর্ণনা করেছে। তামাক কোম্পানিগুলোও ধূমপানের গোপন রাখার জন্য গবেষণায় অর্থায়ন করে। অর্থের বিনিময়ে অনুরূপ পক্ষপাত ফার্মাসিউটিক্যাল, রাসায়নিক এবং কীটনাশক কোম্পানিগুলোর জন্যও করে থাকে। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, বিখ্যাত কোকা-কোলা কোম্পানি বিজ্ঞানীদের অর্থ প্রদান করতে চেয়েছিলো যাতে তারা ‘স্থূলতায়’ (Obesity) সোডা বা মিষ্টি পানীয়র পানের ভূমিকা আলোচনা থেকে সরিয়ে দেয় এবং স্থূলতায়র জন্য ব্যায়ামের অভাবকে দায়ী করে( প্লেজারিজম) অতএব আমরা সহজেই বুঝতে পাচ্ছি যে পিয়ার রিভিউ জার্নাল মানেই সেটা.......। তো আমাদের বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা যে সারাদিন পিয়ার রিভিউ জার্নাল জার্নাল করে লাফায় এখন তাদের কি হবে। এমনে এমনেই কি লেখার শুরুতে বলছিলাম তারা বিজ্ঞানান্ধ।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।