কোরআন আল্লাহর বাণী হওয়ার পক্ষে ভাষাগত যুক্তি, পর্ব-২
কোরআনের ভাষাতাত্ত্বিক নিখুঁততা: মৌমাছির লিঙ্গ নির্ধারণ
আধুনিক জীববিজ্ঞান আমাদের জানায়, মৌচাক নির্মাণ, ফুল থেকে মধুরস সংগ্রহ, মধু তৈরি এবং চাকের অধিকাংশ কাজ করে স্ত্রী কর্মী মৌমাছি (Worker Bee)। পুরুষ মৌমাছি (Drone) এসব কাজ করে না; তাদের প্রধান ভূমিকা শুধু প্রজননে অংশ নেওয়া।
কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই বৈজ্ঞানিক সত্যটি মানুষ জানতে পেরেছে আধুনিক কীটতত্ত্বের উন্নতির পর। অথচ প্রায় ১৪০০ বছর আগে কোরআন মৌমাছিকে সম্বোধন করেছে স্ত্রীলিঙ্গের ক্রিয়াপদ দিয়ে।
আল্লাহ বলেন:
> وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا... ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ
"আর তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে নির্দেশ দিলেন: পাহাড়, গাছ এবং মানুষ যে কাঠামো তৈরি করে তাতে বাসা বানাও। এরপর সব ধরনের ফল থেকে আহার করো এবং তোমার প্রতিপালকের নির্ধারিত পথে চল।" (সূরা আন-নাহল ১৬:৬৮-৬৯)
এখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিয়াপদ ব্যবহৃত হয়েছে:
اتَّخِذِي (ইত্তাখিধী) = তুমি (স্ত্রী) বাসা বানাও।
كُلِي (কুলী) = তুমি (স্ত্রী) খাও।
فَاسْلُكِي (ফাসলুকী) = তুমি (স্ত্রী) চল।
আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী এগুলো একবচন স্ত্রীলিঙ্গ আদেশবাচক (Feminine Imperative) ক্রিয়াপদ। অর্থাৎ, কোরআন যে মৌমাছির কথা বলছে, তাকে স্ত্রীলিঙ্গে সম্বোধন করছে।
আজ আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে যে, বাসা নির্মাণ, মধু সংগ্রহ ও উৎপাদনের কাজ সত্যিই স্ত্রী কর্মী মৌমাছিরাই করে।
এ কারণেই অনেক গবেষক ও মুসলিম চিন্তাবিদ এই আয়াতকে কোরআনের ভাষাগত সূক্ষ্মতা ও নিখুঁততার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, সপ্তম শতাব্দীতে এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক সত্য জানা মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন ছিল, অথচ কোরআনের শব্দচয়নে তা প্রতিফলিত হয়েছে।
"তারা কি কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না?"
— সূরা আন-নিসা, ৪:৮২