Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

eID: #3614 এর সম্পাদনার ইতিহাস

মূল লেখায় ফিরে যান

বর্তমান ভার্সনসম্পাদনা 02 এপ্রিল করেছেন শামীমা আকতার

পড়াশোনা : শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার্থী (৩য় পর্ব)


আর নয় বুলিং

শামীমা আকতারalt="image" src="https://idea.enolej.com/?qa=blob&qa_blobid=7255648997423154198"> src="https://idea.enolej.com/?qa=blob&qa_blobid=7255648997423154198" alt="image">

দৃশ্যকল্প: ১

রিপন ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। দেখতে স্থূলকায়। ক্লাসে ঢুকা মাত্র তার সহপাঠীরা সমস্বরে চিৎকার করে উঠল মো টো.... মো টো......। সে রেগে গিয়ে কয়েকজনকে মারতে উদ্যত হল। এতে তার সহপাঠিরা আরও মজা পেয়ে হাসাহাসি করতে লাগল।

দৃশ্যকল্প: ২

রাহাত ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। একদিন সে বিদ্যালয়ের ওয়াসরুমে গিয়ে দেখে উপরের ক্লাসের দু'জন বড় ভাই সিগারেট টানছে। রাহাতকে তারা হুমকি দিল, সে যেন কথাটা কাউকে না বলে। এতে সে প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেল।

দৃশ্যকলল্প;৩

চেহারায় কোমলতায় ভরপুর জিসানকে দেখলেই তার সহপাঠীরা তাকে হাফ লেডিস বলে ক্ষেপাতে থাকে। এতে তার বিদ্যালয়ে আসায় অনীহা দেখা দিল।



দৃশ্যকল্প: ৪

সাদাতের নিজের কোন মোবাইল নেই। সে প্রয়োজনে তার মায়ের মোবাইল ব্যবহার করে। কয়েকদিন ধরে তার এক সহপাঠী মোবাইলে আপত্তিজনক এস এম এস এবং ভিডিও পাঠাচ্ছে। এতে সাদাত মায়ের কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। এছাড়া সে মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়ে।

উপরের ঘটনাগুলো কাল্পনিক হলেও অবাস্তব নয়। এ ধরণের ঘটনাগুলো স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত

ঘটছে। বেশীরভাগ খেলাচ্ছলে বা মজা করে একজন আরেকজনকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে। যে করে সে বুঝতেই পারে না এতে যাকে নিয়ে এ ধরনের মজা করা হয় সে কি রকম মানসিক বিপর্যস্ততার সম্মুখীন হয়। সচেতন বা অবচেতন মনে কাউকে হেয় করা, অপদস্ত করা বা শারীরিক ভাবে আক্রমন করা এসবই বুলিং এর অন্তর্ভুক্ত। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, বুলিং হলো অপ্রত্যাশিত ও আক্রমণাত্মক আচরণ, যা সাধারণত স্কুলের বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আচরণের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার অসামঞ্জস্যতা প্রকাশ পায়।

সাধারণত যে বুলিং করে সে, যে বুলিং এর শিকার তার চেয়ে
অনেক ক্ষমতাবান হয়। বুলিং এর শিকার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্থ হয়। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সমস্যা দেখা যায়। বুলিং এর শিকার শিশুরা আত্মবিশ্বাসহীনতা, হীনমন্যতায় ভুগে। কার ও সাথে সহজে মিশতে পারেনা।
বুলিং হতে পারে শারীরিক, মানসিক মৌখিক, সাইবার, সামাজিক অবস্থান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ইত্যাদি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।

শারীরিক বুলিং এর মধ্যে আছে কাউকে আঘাত করা, চড়-থাপ্পড় মারা, শরীরে পানি বা রং ঢেলে দেওয়া, বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বা বসিয়ে রাখা, কোন কিছু করতে বা না করতে বাধ্য করা, জোড় করে কোন কিছু কেড়ে নেওয়া, বিশেষ অঙ্গভঙ্গি করা, ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরের আপত্তিজনক স্থানে হাত দেওয়া, জামা-কাপড় খুলে নেওয়া বা খুলতে বাধ্য করা ইত্যাদি।

সাধারণত শারীরিক বুলিং যেভাবে দৃষ্টিগোচর হয় মানসিক বুলিং সেভাবে বুঝা না গেলেও এর পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। বিভিন্ন নাম ধরে ডাকা, অপমান করা, টিজিং, বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করা, বাজে মন্তব্য করা, বাজে রসিকতা করা, গুজব ছড়ানো, কুৎসা রটানো ইত্যাদি মানসিক বুলিং এর অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমানে সাইবার বুলিং এর কারণে শিশু-কিশোররা নানারকম সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাইবার বুলিং এর মধ্যে আছে কাউকে আপত্তিকর এসএমএস ভিডিও পাঠানো। ছবি, ভিডিও এডিট করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইত্যাদি।

বুলিং এর শিকার ব্যক্তির করণীয়-

১. নিজের সম্ভাবনার প্রতি নজর দেওয়া। সবল দিকগুলোর প্রতি যত্ন নেওয়া। দূর্বল দিকগুলোর জন্য হীনমন্যতায় না ভোগা।

২. অন্যের নিছক ঠাট্টা তামাশাকে গুরুত্ব না দেওয়া।

৩. পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে মনে হলে পিতা-মাতা, অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু বা আস্থাভাজন কাউকে অবহিত করা।

৪. অসহনীয় মনে হলে মনোবিধের সাহায্য নেওয়া।

৫. বুলিং এর মাত্রা ভয়াবহ হলে অভিভাবক ও শিক্ষকের সহায়তায় আইনের শরনাপন্ন হওয়া।

বুলিং ও র‍্যাগিং-এ জড়ালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর শান্তি, নীতিমালা প্রকাশ-

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ নীতিমালা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩' নামে অভিহিত হবে। এ নীতিমালা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ নীতিমালা প্রকাশ করা  হয়েছে।দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কার্যকর হবে। নীতিমালাটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান , সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে-

১। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বুলিং ও ব্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি করতে হবে। কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, এমনকি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

২. বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের করণীয় সম্পর্কে নীতিমালায় বলা হয়েছে, বুলিং ও র‍্যাগিং এ উৎসাহিত হয় এরূপ কোনো কার্যকলাপ, সমাবেশ বা অনুষ্ঠান করা যাবে না।।

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেসব জায়গায় বুলিং৷ ও র‍্যাগিং হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেসব জায়গায় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা করবে।

৪. শিক্ষাবর্ষের শুরুতে এক দিন 'বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ দিবস' পালন করে বুলিং ও র‍্যাগিংয়ের কুফল সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সচেতন করবে।

৫. বুলিং ও র‍্যাগিংয়ের কুফল সম্পর্কিত সিনেমা,কার্টুন,টিভি সিরিজ প্রদর্শন, অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণের ব্যাপারে অনলাইন বিহেভিয়ার সম্পর্কিত কর্মশালাসহ ইত্যাদি সহপাঠ্যক্রমিক কর্মশালা আয়োজনের নিমিত্তে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। কর্তৃপক্ষ বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ' এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ' -এ অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করবে।

যে বুলিং কর্মকান্ডে জড়িত আর যে বুলিং এর শিকার দু'জনেই আমাদের সন্তান দু'জনকেই আমাদের বাঁচাতে হবে। আমাদের এক সন্তান যেন অন্য সন্তানের ক্ষতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। বুলিং এর শিকার ব্যক্তি শারীরিক  ও মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে করে তার ভালো সম্ভাবনা গুলো নষ্ট হয়ে যায়। ব্যক্তির পাশাপাশি পরিবার, দেশ ও জাতির জন্য তা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বুলিং এর সাথে জড়িত ব্যক্তির আচরণ মানসিকভাবে অসুস্থতার লক্ষণ। তার থেকে পরিবার, দেশ ও জাতি ভাল কিছু আশা করতে পারে না।তার আচরণ নিজের, পরিবারের,জাতির জন্য অমঙ্গল বয়ে আনে। তাই বুলিং- এর সাথে জড়িত কোন শিক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাকে কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।তাকে বুঝাতে হবে, তার নিছক খেয়াল খুশির জন্য কীভাবে একজনের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। সে যেমন অন্যের ক্ষতি করছে তেমনি তার আচরণ নিজের ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়াবে।


একজন শিশু কিংবা কিশোর পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা  সমগ্র বিশ্বের সম্পদ। তাই শুধু শিশু- কিশোরের নয়,রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা বাঞ্চনীয়। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোক নিরাপদ ও আনন্দময়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে উঠুক সহযোগিতামূলক, সৌহার্দপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সুন্দর  সম্পর্ক। নিরাপদ হোক প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন।

তথ্যসূত্র

স্মারক নং-৩৭.০০.০০০.০৭২,০৪৪,০০৭২২,১০৩

তারিখ: ২ মে ২০২৩ ইংরেজি

বেসরকারী মাধ্যমিক শাখা: ১, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সাহা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা

ঢাকা 

লিখেছেন 19 মার্চ , লেখক: শামীমা আকতার

পড়াশোনা : শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার্থী (৩য় পর্ব)



আর নয় বুলিং

শামীমা আকতারimage

দৃশ্যকল্প: ১

রিপন ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। দেখতে স্থূলকায়। ক্লাসে ঢুকা মাত্র তার সহপাঠীরা সমস্বরে চিৎকার করে উঠল মো টো.... মো টো......। সে রেগে গিয়ে কয়েকজনকে মারতে উদ্যত হল। এতে তার সহপাঠিরা আরও মজা পেয়ে হাসাহাসি করতে লাগল।

দৃশ্যকল্প: ২

রাহাত ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। একদিন সে বিদ্যালয়ের ওয়াসরুমে গিয়ে দেখে উপরের ক্লাসের দু'জন বড় ভাই সিগারেট টানছে। রাহাতকে তারা হুমকি দিল, সে যেন কথাটা কাউকে না বলে। এতে সে প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেল।

দৃশ্যকলল্প;৩

চেহারায় কোমলতায় ভরপুর জিসানকে দেখলেই তার সহপাঠীরা তাকে হাফ লেডিস বলে ক্ষেপাতে থাকে। এতে তার বিদ্যালয়ে আসায় অনীহা দেখা দিল।



দৃশ্যকল্প: ৪

সাদাতের নিজের কোন মোবাইল নেই। সে প্রয়োজনে তার মায়ের মোবাইল ব্যবহার করে। কয়েকদিন ধরে তার এক সহপাঠী মোবাইলে আপত্তিজনক এস এম এস এবং ভিডিও পাঠাচ্ছে। এতে সাদাত মায়ের কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। এছাড়া সে মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়ে।

উপরের ঘটনাগুলো কাল্পনিক হলেও অবাস্তব নয়। এ ধরণের ঘটনাগুলো স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত

ঘটছে। বেশীরভাগ খেলাচ্ছলে বা মজা করে একজন আরেকজনকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে। যে করে সে বুঝতেই পারে না এতে যাকে নিয়ে এ ধরনের মজা করা হয় সে কি রকম মানসিক বিপর্যস্ততার সম্মুখীন হয়। সচেতন বা অবচেতন মনে কাউকে হেয় করা, অপদস্ত করা বা শারীরিক ভাবে আক্রমন করা এসবই বুলিং এর অন্তর্ভুক্ত। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, বুলিং হলো অপ্রত্যাশিত ও আক্রমণাত্মক আচরণ, যা সাধারণত স্কুলের বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আচরণের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার অসামঞ্জস্যতা প্রকাশ পায়।

সাধারণত যে বুলিং করে সে, যে বুলিং এর শিকার তার চেয়ে
অনেক ক্ষমতাবান হয়। বুলিং এর শিকার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্থ হয়। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সমস্যা দেখা যায়। বুলিং এর শিকার শিশুরা আত্মবিশ্বাসহীনতা, হীনমন্যতায় ভুগে। কার ও সাথে সহজে মিশতে পারেনা।
বুলিং হতে পারে শারীরিক, মানসিক মৌখিক, সাইবার, সামাজিক অবস্থান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ইত্যাদি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।

শারীরিক বুলিং এর মধ্যে আছে কাউকে আঘাত করা, চড়-থাপ্পড় মারা, শরীরে পানি বা রং ঢেলে দেওয়া, বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বা বসিয়ে রাখা, কোন কিছু করতে বা না করতে বাধ্য করা, জোড় করে কোন কিছু কেড়ে নেওয়া, বিশেষ অঙ্গভঙ্গি করা, ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরের আপত্তিজনক স্থানে হাত দেওয়া, জামা-কাপড় খুলে নেওয়া বা খুলতে বাধ্য করা ইত্যাদি।

সাধারণত শারীরিক বুলিং যেভাবে দৃষ্টিগোচর হয় মানসিক বুলিং সেভাবে বুঝা না গেলেও এর পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। বিভিন্ন নাম ধরে ডাকা, অপমান করা, টিজিং, বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করা, বাজে মন্তব্য করা, বাজে রসিকতা করা, গুজব ছড়ানো, কুৎসা রটানো ইত্যাদি মানসিক বুলিং এর অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমানে সাইবার বুলিং এর কারণে শিশু-কিশোররা নানারকম সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাইবার বুলিং এর মধ্যে আছে কাউকে আপত্তিকর এসএমএস ভিডিও পাঠানো। ছবি, ভিডিও এডিট করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইত্যাদি।

বুলিং এর শিকার ব্যক্তির করণীয়-

১. নিজের সম্ভাবনার প্রতি নজর দেওয়া। সবল দিকগুলোর প্রতি যত্ন নেওয়া। দূর্বল দিকগুলোর জন্য হীনমন্যতায় না ভোগা।

২. অন্যের নিছক ঠাট্টা তামাশাকে গুরুত্ব না দেওয়া।

৩. পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে মনে হলে পিতা-মাতা, অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু বা আস্থাভাজন কাউকে অবহিত করা।

৪. অসহনীয় মনে হলে মনোবিধের সাহায্য নেওয়া।

৫. বুলিং এর মাত্রা ভয়াবহ হলে অভিভাবক ও শিক্ষকের সহায়তায় আইনের শরনাপন্ন হওয়া।

বুলিং ও র‍্যাগিং-এ জড়ালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর শান্তি, নীতিমালা প্রকাশ-

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ নীতিমালা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩' নামে অভিহিত হবে। এ নীতিমালা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ নীতিমালা প্রকাশ করা  হয়েছে।দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কার্যকর হবে। নীতিমালাটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান , সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে-

১। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বুলিং ও ব্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি করতে হবে। কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, এমনকি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

২. বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের করণীয় সম্পর্কে নীতিমালায় বলা হয়েছে, বুলিং ও র‍্যাগিং এ উৎসাহিত হয় এরূপ কোনো কার্যকলাপ, সমাবেশ বা অনুষ্ঠান করা যাবে না।।

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেসব জায়গায় বুলিং৷ ও র‍্যাগিং হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেসব জায়গায় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা করবে।

৪. শিক্ষাবর্ষের শুরুতে এক দিন 'বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ দিবস' পালন করে বুলিং ও র‍্যাগিংয়ের কুফল সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সচেতন করবে।

৫. বুলিং ও র‍্যাগিংয়ের কুফল সম্পর্কিত সিনেমা,কার্টুন,টিভি সিরিজ প্রদর্শন, অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণের ব্যাপারে অনলাইন বিহেভিয়ার সম্পর্কিত কর্মশালাসহ ইত্যাদি সহপাঠ্যক্রমিক কর্মশালা আয়োজনের নিমিত্তে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। কর্তৃপক্ষ বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ' এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ' -এ অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করবে।

যে বুলিং কর্মকান্ডে জড়িত আর যে বুলিং এর শিকার দু'জনেই আমাদের সন্তান দু'জনকেই আমাদের বাঁচাতে হবে। আমাদের এক সন্তান যেন অন্য সন্তানের ক্ষতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। বুলিং এর শিকার ব্যক্তি শারীরিক  ও মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে করে তার ভালো সম্ভাবনা গুলো নষ্ট হয়ে যায়। ব্যক্তির পাশাপাশি পরিবার, দেশ ও জাতির জন্য তা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বুলিং এর সাথে জড়িত ব্যক্তির আচরণ মানসিকভাবে অসুস্থতার লক্ষণ। তার থেকে পরিবার, দেশ ও জাতি ভাল কিছু আশা করতে পারে না।তার আচরণ নিজের, পরিবারের,জাতির জন্য অমঙ্গল বয়ে আনে। তাই বুলিং- এর সাথে জড়িত কোন শিক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাকে কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।তাকে বুঝাতে হবে, তার নিছক খেয়াল খুশির জন্য কীভাবে একজনের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। সে যেমন অন্যের ক্ষতি করছে তেমনি তার আচরণ নিজের ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়াবে।


একজন শিশু কিংবা কিশোর পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা  সমগ্র বিশ্বের সম্পদ। তাই শুধু শিশু- কিশোরের নয়,রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা বাঞ্চনীয়। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোক নিরাপদ ও আনন্দময়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে উঠুক সহযোগিতামূলক, সৌহার্দপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সুন্দর  সম্পর্ক। নিরাপদ হোক প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন।

তথ্যসূত্র

স্মারক নং-৩৭.০০.০০০.০৭২,০৪৪,০০৭২২,১০৩

তারিখ: ২ মে ২০২৩ ইংরেজি

বেসরকারী মাধ্যমিক শাখা: ১, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সাহা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা


📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
সেরা ১০ জন পরীক্ষক

  1. শামীমা আকতার

    4 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম



  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    12 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    22 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. মুহাম্মদ সালমান

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...