Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

eID: #3180 এর সম্পাদনার ইতিহাস

মূল লেখায় ফিরে যান

বর্তমান ভার্সনসম্পাদনা 24 জানুয়ারি করেছেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

নীরব ঢেউ ও হাসি


alt="image" src="https://idea.enolej.com/?qa=blob&qa_blobid=927014847448761602"> নীরব ঢেউ ও হাসি

হাসি

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

হোসেন

গদ্যকবিতা | জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

২০২৬

তোর চোখে তাকালে আমি কোনো কাব্যিক আকাশ দেখি না—

না—

দেখি সেই উঠোন, যেখানে একদিন ভোরে মা ধান শুকোচ্ছিল,

শুকোচ্ছিল,

আর পাশের বাড়ির লোকটা এসে বলেছিল,

বলেছিল,

“এবার বোধহয় ধার না নিলে চলবে না।”

না।”

সেই কথা বলার সময় তুই চুপ করে ছিলি।

ছিলি।

শুধু ধান ঝাড়ছিলি, আর আমি দেখেছিলাম—

দেখেছিলাম—

চুপ থাকা মানুষের হাত কীভাবে ভারী হয়।

হয়।

তোর হাসি ঝরনা নয়, তোর হাসি পুকুর।

পুকুর।

গ্রামের সবাই যেখান থেকে জল তোলে,

তোলে,

কেউ মুখ ধোয়, কেউ হাঁড়ি ভরে,

ভরে,

কেউ নিজের ক্লান্ত মুখটা দেখে আর কিছু না বলেই সরে যায়।

যায়।

চাঁদের আলো তোর মুখে নামে না,

না,

তোর মুখই আলো হয় যখন লোডশেডিংয়ে

লোডশেডিংয়ে

হারিকেন কাঁপে,

কাঁপে,

আর দূরের মাঠে শেয়াল ডাকে, ঠিক তখনই

তখনই

তুই চাল মেপে হাঁড়িতে দিস যেন হিসাবের ভেতরেও

মানুষ থাকে।

ভেতরেও

মানুষ থাকে।

একটা স্পর্শ— ধান কাটার ফাঁকে হঠাৎ হাত লেগে যাওয়া।

যাওয়া।

ঘাম, কাদা আর খরার গন্ধের ভেতরে

ভেতরে

যে স্পর্শের কোনো নাম নেই, কিন্তু একটা সিদ্ধান্ত আছে—থাকব।

আছে—থাকব।

একদিন বাজার থেকে ফেরার পথে

পথে

তোর জন্য ওষুধ আনতে দেরি হয়েছিল।

হয়েছিল।

ফেরার পর দেখেছিলাম তুই বসে আছিস দাওয়ায়,

দাওয়ায়,

হাতে কাগজের ঠোঙা,

ঠোঙা,

ভেতরে দুইটা কলা আর একমুঠো মুড়ি।

মুড়ি।

বলেছিলি, “আজ এটাই চলবে।”

চলবে।”

সেই দিন আমি প্রথম বুঝি—ভালোবাসা হিসাব রাখে না,

না,

কিন্তু অভাব চেনে।

চেনে।

সে জানে কোন চাল শেষের দিকে, কোন ঋণ নাম ধরে ডাকে,

ডাকে,

আর কোন কান্না রাতে বলাই ভালো।

ভালো।

তোর কাছে এলে আমার কষ্ট ছোট হয় না।

না।

শুধু বসার জায়গা পায়।

পায়।

বিকেলের চায়ের মতো—ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়,

হয়,

তবু ফেলে দেওয়া যায় না।

না।

তোর হাসি ফাঁদ নয়, তোর হাসি উঠোনের দরজা।

দরজা।

দিন শেষে যেমন সবাই ফেরে— মুখে ধুলো,

ধুলো,

হাঁটুর ভাঁজে ক্লান্তি,

ক্লান্তি,

আমি ঠিক তেমনি ফিরি আর কিছুটা মানুষ হয়ে যাই।

যাই।

চোখের কোণে জল জমলে তুই প্রশ্ন করিস না।

শুধু পাশে বসিস।

না।

শুধু পাশে বসিস।

এই পাশে বসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।

প্রতিবাদ।

আমাদের সময় নদীর মতো—বর্ষায় ভাঙে,

ভাঙে,

শীতে চর তোলে।

তোলে।

তোর পাশে থাকলে আমি জলকে নয়,

নয়,

ডুবে যাওয়াকে ভয় পাই না।

না।

আমরা সব কথা বলি না।

না।

গ্রামে যেমন সব কথা বলা যায় না।

না।

কিন্তু সন্ধ্যার আজান, গরুর ঘণ্টা,

ঘণ্টা,

চুলোর ধোঁয়ার মতো কিছু অনুভব

অনুভব

শব্দ ছাড়াই বোঝা যায়।

যায়।

তোর হাতের আঁচড়ে গান জন্মায় না।

না।

জন্মায় পরের দিনের শক্তি—আবার মাঠে নামার,

নামার,

আবার বাজারে যাওয়ার,

যাওয়ার,

আবার কাউকে চোখে চোখ রেখে “আছি” বলার।

বলার।

জীবনের ঝড় থামে না।

না।

ফসল নষ্ট হয়, মানুষ নষ্ট হয়।

হয়।

কথা কমে যায়, বোঝা বাড়ে।

বাড়ে।

কিন্তু তোর পাশে আমি আর পালাতে চাই না।

এই না-পালানোই আমার ভালোবাসা।

এই না-পালানোই আমার চিরকাল।

না।

এই না-পালানোই আমার ভালোবাসা।

এই না-পালানোই আমার চিরকাল।

#নীরবঢেউওহাসি #বাংলাকবিতা

#বাংলাকবিতা

#ভালোবাসারকবিতা #হৃদয়েরআবেগ

#হৃদয়েরআবেগ

#কবিতাপ্রেম #BanglaPoetry

#BanglaPoetry

#মনোজগত #অনুভূতিরআলাপন

#অনুভূতিরআলাপন

#ভালোবাসারস্পর্শ #সাহিত্য

লিখেছেন 24 জানুয়ারি , লেখক: মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

নীরব ঢেউ ও হাসি

নীরব ঢেউ ও হাসি

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

গদ্যকবিতা | জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

তোর চোখে তাকালে আমি কোনো কাব্যিক আকাশ দেখি না—

দেখি সেই উঠোন, যেখানে একদিন ভোরে মা ধান শুকোচ্ছিল,

আর পাশের বাড়ির লোকটা এসে বলেছিল,

“এবার বোধহয় ধার না নিলে চলবে না।”

সেই কথা বলার সময় তুই চুপ করে ছিলি।

শুধু ধান ঝাড়ছিলি, আর আমি দেখেছিলাম—

চুপ থাকা মানুষের হাত কীভাবে ভারী হয়।

তোর হাসি ঝরনা নয়, তোর হাসি পুকুর।

গ্রামের সবাই যেখান থেকে জল তোলে,

কেউ মুখ ধোয়, কেউ হাঁড়ি ভরে,

কেউ নিজের ক্লান্ত মুখটা দেখে আর কিছু না বলেই সরে যায়।

চাঁদের আলো তোর মুখে নামে না,

তোর মুখই আলো হয় যখন লোডশেডিংয়ে

হারিকেন কাঁপে,

আর দূরের মাঠে শেয়াল ডাকে, ঠিক তখনই

তুই চাল মেপে হাঁড়িতে দিস যেন হিসাবের ভেতরেও

মানুষ থাকে।

একটা স্পর্শ— ধান কাটার ফাঁকে হঠাৎ হাত লেগে যাওয়া।

ঘাম, কাদা আর খরার গন্ধের ভেতরে

যে স্পর্শের কোনো নাম নেই, কিন্তু একটা সিদ্ধান্ত আছে—থাকব।

একদিন বাজার থেকে ফেরার পথে

তোর জন্য ওষুধ আনতে দেরি হয়েছিল।

ফেরার পর দেখেছিলাম তুই বসে আছিস দাওয়ায়,

হাতে কাগজের ঠোঙা,

ভেতরে দুইটা কলা আর একমুঠো মুড়ি।

বলেছিলি, “আজ এটাই চলবে।”

সেই দিন আমি প্রথম বুঝি—ভালোবাসা হিসাব রাখে না,

কিন্তু অভাব চেনে।

সে জানে কোন চাল শেষের দিকে, কোন ঋণ নাম ধরে ডাকে,

আর কোন কান্না রাতে বলাই ভালো।

তোর কাছে এলে আমার কষ্ট ছোট হয় না।

শুধু বসার জায়গা পায়।

বিকেলের চায়ের মতো—ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়,

তবু ফেলে দেওয়া যায় না।

তোর হাসি ফাঁদ নয়, তোর হাসি উঠোনের দরজা।

দিন শেষে যেমন সবাই ফেরে— মুখে ধুলো,

হাঁটুর ভাঁজে ক্লান্তি,

আমি ঠিক তেমনি ফিরি আর কিছুটা মানুষ হয়ে যাই।

চোখের কোণে জল জমলে তুই প্রশ্ন করিস না।

শুধু পাশে বসিস।

এই পাশে বসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ।

আমাদের সময় নদীর মতো—বর্ষায় ভাঙে,

শীতে চর তোলে।

তোর পাশে থাকলে আমি জলকে নয়,

ডুবে যাওয়াকে ভয় পাই না।

আমরা সব কথা বলি না।

গ্রামে যেমন সব কথা বলা যায় না।

কিন্তু সন্ধ্যার আজান, গরুর ঘণ্টা,

চুলোর ধোঁয়ার মতো কিছু অনুভব

শব্দ ছাড়াই বোঝা যায়।

তোর হাতের আঁচড়ে গান জন্মায় না।

জন্মায় পরের দিনের শক্তি—আবার মাঠে নামার,

আবার বাজারে যাওয়ার,

আবার কাউকে চোখে চোখ রেখে “আছি” বলার।

জীবনের ঝড় থামে না।

ফসল নষ্ট হয়, মানুষ নষ্ট হয়।

কথা কমে যায়, বোঝা বাড়ে।

কিন্তু তোর পাশে আমি আর পালাতে চাই না।

এই না-পালানোই আমার ভালোবাসা।

এই না-পালানোই আমার চিরকাল।

#নীরবঢেউওহাসি #বাংলাকবিতা

#ভালোবাসারকবিতা #হৃদয়েরআবেগ

#কবিতাপ্রেম #BanglaPoetry

#মনোজগত #অনুভূতিরআলাপন

#ভালোবাসারস্পর্শ #সাহিত্য
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
সেরা ১০ জন পরীক্ষক

  1. MdAUKhan

    5 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম



  2. শামীমা আকতার

    4 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম



  3. Md Nayeem sheikh

    4 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম



  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    1 টি পরীক্ষণ কার্যক্রম



  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    325 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    4 মন্তব্য

    16 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    123 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. ফাহিম আহমাদ

    61 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    41 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...