style="text-align: center;">
একটি কবিতা ও কিছু অব্যক্ত কথা
—রফিক আতা—
تَلَفَّتُّ نَحْوَ الْحَيِّ حَتَّى وَجَدْتني
وَجِعْتُ مِنَ الإِصْغَاءِ ليتاً وَ أَخْدًا
“নিজের প্রিয় জনপদ থেকে বিদায় নিয়ে দূরপথে যাত্রার মুহূর্তে মন এমনই বিরহকাতর হয়ে পড়ে—
বারবার ফিরে তাকাতে থাকি, যতক্ষণ না দেখি ঘাড়ের রগও ব্যথায় টনটন করছে।”
এই পঙ্ক্তির রচয়িতা মহান আরবি কবি আবু উবাদা আল-ওয়ালিদ ইবন উবাইদ আল-বুহতুরী (الوليد بن عبيد البحتري) (হি. ২০৬–২৮৪)। এটি আরবি সাহিত্যের বিখ্যাত “رثاء الحرب”—যুদ্ধের বেদনা ও বিচ্ছেদের করুণ সুর ধ্বনিত হওয়া এক অনন্য কবিতা।
কোনো একবার বাইতুল্লাহর যিয়ারত শেষে ফেরার পথে মুফতি আযম মুফতি শফি রহ. গভীর অন্তর্দাহে এই কবিতাপঙ্ক্তি আবৃত্তি করছিলেন। তখন তাঁর চোখ থেকে বিচ্ছেদের অশ্রু ঝর্ণার মতো ঝরছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুফতি তাকি উসমানী হাফি. তিনি বলেন— আমাদের নিস্তরঙ্গ অন্তরেও সেদিন শোকের তরঙ্গদোলা জেগে উঠেছিল।
আহ! কি মধুর সে বিচ্ছেদ! কি মধুর সে কবিতাপাঠ! আর কী অপরূপ সে ভালোবাসা!
প্রেমাস্পদের দ্বার থেকে দূরে গেলে মন থেমে যায়, বারবার ফিরে তাকিয়ে থাকে—
যতক্ষণ না তাকিয়ে থাকার সে দীর্ঘতা ঘাড়ের রগকেও ব্যথায় বিদ্ধ করে।
যদিও কবিতাটি মূলত ভিন্ন প্রেক্ষাপটে রচিত, তবুও এখানে তা হয়ে উঠল এক অশ্রুসজল মুহূর্তের সান্ত্বনা—কা‘বার দরজায় বিচ্ছেদের গহ্বর ভরাট করার ওষুধ, মিজাবে রহমতের ঝরনা কিংবা যমযমের স্বচ্ছ স্রোতের মতো— যা আশেকের ইশকের দাবদাহ প্রশমিত করে প্রশান্তির ঢেউ তুলে দিল।
আর আমি?
এ সুদূর বাংলায় বসে আছি অপেক্ষায়।
কোনোদিন যদি ডাক আসে—
চিঠি আসে মদিনার, আহ্বান আসে বাইতুল্লাহর।
এই পাগলের পাগলামির মর্মে শুধু একটিই বাসনা—আল্লাহ ও রাসুলের ঘর।
সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে।
বসন্তফুল ঝরে যায় । ঋতুর রঙ বদলায়।
শরতের কাশফুল শুভ্রতা হারিয়ে থেকে মিইয়ে পড়ে । হেমন্ত পরিবর্তিত হয় শৈত্যে।
তবুও ডাক আসে না, চিঠিও নয়।
আমি ভেঙে পড়িনি, হাল ছাড়িনি।
হয়তো কোনো একদিন রোত পোহালে চিঠি আসবে “তোমার নামে ডাকা হয়েছে।”
আর আমি ছুটে যাবো—
প্রাণের সবটুকু উচ্ছ্বাস নিয়ে
পশ্চিমের সেই দেশমুখী।
আর আমি কিন্তু বিচ্ছেদকালে এই কবিতা পাঠ করবোনা । আমি পাঠ করবো এমন কোন কবিতা
যার প্রতিটি চরণ জুড়ে, প্রতিটি স্তবক জুড়ে
ধ্বনিত হবে থেকে যাওয়ার আরজি—
জীবনের সবটুকু ওখানেই কাটিয়ে দেওয়ার তামান্না।
যেখানে বিদায়ের কোনো ভাষা নেই,
শুধু থাকা, থেকে যাওয়া, স্থির থাকার প্রতিশ্রুতি।
যেখানে প্রতিটি নিশ্বাস বলে—যেও না।
আমার জীবনের প্রতিটি বর্ণ তোমাকেই ঘিরে থাক।
আর সব কবিতাই শেষ হোক একটাই বাক্যে—
“তুমি থাকো, চিরন্তন কা'বার গিলাফ ধরে অথবা মদিনার মাটি ছুঁয়ে ।”
ত্রিশ, এগারো, পঁচিশ
রবিবার